লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল হলেও পূর্ণতা পেতে এখনো অনেক পথ বাকি

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে, তবে এই সফলতার পূর্ণতা পেতে এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে নীতি গবেষণা কেন্দ্রের আয়োজনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: সফল নাকি বেহাত?’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এই অভিমত উঠে আসে। নীতি গবেষণা কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ড. শাকিল আহম্মেদের সঞ্চালনায় সভায় অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকরা।

আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেহরীন আমিন ভুঁইয়া বলেন, জুলাই নিজেই একটি সার্থকতা। তিনি মনে করেন, যে পরিবারগুলো গুমের শিকার হয়েছে, তাদের কাছে এই গণঅভ্যুত্থান সফল। তবে কালেক্টিভ বা সামষ্টিক প্রত্যাশা অনেক বেশি হওয়ায় এটি সফল নাকি বেহাত—সেই প্রশ্ন রয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের পর রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, সেই লক্ষ্য অর্জনে এখনো অনেক পথ পাড়ি দেওয়া বাকি। ১০ জন আলোচকের মতামতের ভিত্তিতে তিনি বলেন, জুলাইয়ের পর সিস্টেমে পরিবর্তন আসবে, সেই পথ এখনো পাড়ি দেয়া বাকি।

ডাকসু প্রতিনিধি মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র বিনির্মাণই ছিল জুলাইয়ের মূল স্পিরিট, কিন্তু সেই জায়গায় আমরা হোঁচট খেয়েছি। তিনি উল্লেখ করেন যে, কোটার ভার সংকুচিত হলেও তদবির বাণিজ্য এখনো বন্ধ হয়নি। এই অসম্পূর্ণ বিপ্লবকে পূর্ণতা দেওয়ার জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্যসচিব আরিফ সোহেল বলেন, জুলাই বেহাত হওয়ার প্রশ্ন তখনই আসে যখন কোনো এক পক্ষ এটি কুক্ষিগত করতে চায়। তবে যারা রক্ত দিয়েছেন তাদের দাবিগুলো পরবর্তীতে প্রতিফলিত না হলেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। তিনি মনে করেন, যারা আন্দোলনটি কুক্ষিগত করতে চায় তারা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং যারা বৈষম্যের শিকার তারা শক্তিশালী হচ্ছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব মাহিন সরকার বলেন, কোনো বড় ঘটনার ইতিহাস মূল্যায়নের জন্য সময় প্রয়োজন। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিক থেকে আগের যেকোনো আন্দোলনের চেয়ে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান সফলতার পথে রয়েছে। সাবেক ছাত্রনেতা রাগীব নাঈম বলেন, এটি কোনো সরকার পতনের আন্দোলন নয় বরং একটি গণঅভ্যুত্থান। তবে জুলাইয়ের পর জনআকাঙ্ক্ষা ও জবাবদিহিতার প্রতিফলন পুরোপুরি ঘটেনি। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আয়াতুল্লাহ বেহেস্তি বলেন, ২০১৮ সালের আন্দোলনের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ছিল ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান। এখন দলের ভেতরে থেকেও প্রতিবাদ করার সুযোগ তৈরি হওয়াকে তিনি গণঅভ্যুত্থানের সফলতা হিসেবে দেখছেন।

সাংবাদিক আশরাফ কায়সার বলেন, নিকৃষ্ট শাসন ও অনুশোচনাহীন ফ্যাসিস্টের পতন ঘটানোই ছাত্রদের বড় সফলতা। তিনি বলেন, জুলাই তখনই ব্যর্থ হবে যদি অপরাধীদের বিচার না হয় এবং কালচারাল ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হয়। তবে জুলাই আমাদের রাজনীতিমনস্ক হতে শিখিয়েছে। সবশেষে নীতি গবেষণা কেন্দ্রের রিসার্চ ফেলো মোহাম্মদ ঈসা ইবনে বেলাল উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

আগস্টের মাঝামাঝি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা, আলোচনায় মির্জা ফখরুল

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল হলেও পূর্ণতা পেতে এখনো অনেক পথ বাকি

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩০:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে, তবে এই সফলতার পূর্ণতা পেতে এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে নীতি গবেষণা কেন্দ্রের আয়োজনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: সফল নাকি বেহাত?’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এই অভিমত উঠে আসে। নীতি গবেষণা কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ড. শাকিল আহম্মেদের সঞ্চালনায় সভায় অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকরা।

আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেহরীন আমিন ভুঁইয়া বলেন, জুলাই নিজেই একটি সার্থকতা। তিনি মনে করেন, যে পরিবারগুলো গুমের শিকার হয়েছে, তাদের কাছে এই গণঅভ্যুত্থান সফল। তবে কালেক্টিভ বা সামষ্টিক প্রত্যাশা অনেক বেশি হওয়ায় এটি সফল নাকি বেহাত—সেই প্রশ্ন রয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের পর রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, সেই লক্ষ্য অর্জনে এখনো অনেক পথ পাড়ি দেওয়া বাকি। ১০ জন আলোচকের মতামতের ভিত্তিতে তিনি বলেন, জুলাইয়ের পর সিস্টেমে পরিবর্তন আসবে, সেই পথ এখনো পাড়ি দেয়া বাকি।

ডাকসু প্রতিনিধি মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র বিনির্মাণই ছিল জুলাইয়ের মূল স্পিরিট, কিন্তু সেই জায়গায় আমরা হোঁচট খেয়েছি। তিনি উল্লেখ করেন যে, কোটার ভার সংকুচিত হলেও তদবির বাণিজ্য এখনো বন্ধ হয়নি। এই অসম্পূর্ণ বিপ্লবকে পূর্ণতা দেওয়ার জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্যসচিব আরিফ সোহেল বলেন, জুলাই বেহাত হওয়ার প্রশ্ন তখনই আসে যখন কোনো এক পক্ষ এটি কুক্ষিগত করতে চায়। তবে যারা রক্ত দিয়েছেন তাদের দাবিগুলো পরবর্তীতে প্রতিফলিত না হলেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। তিনি মনে করেন, যারা আন্দোলনটি কুক্ষিগত করতে চায় তারা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং যারা বৈষম্যের শিকার তারা শক্তিশালী হচ্ছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব মাহিন সরকার বলেন, কোনো বড় ঘটনার ইতিহাস মূল্যায়নের জন্য সময় প্রয়োজন। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দিক থেকে আগের যেকোনো আন্দোলনের চেয়ে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান সফলতার পথে রয়েছে। সাবেক ছাত্রনেতা রাগীব নাঈম বলেন, এটি কোনো সরকার পতনের আন্দোলন নয় বরং একটি গণঅভ্যুত্থান। তবে জুলাইয়ের পর জনআকাঙ্ক্ষা ও জবাবদিহিতার প্রতিফলন পুরোপুরি ঘটেনি। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আয়াতুল্লাহ বেহেস্তি বলেন, ২০১৮ সালের আন্দোলনের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ছিল ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান। এখন দলের ভেতরে থেকেও প্রতিবাদ করার সুযোগ তৈরি হওয়াকে তিনি গণঅভ্যুত্থানের সফলতা হিসেবে দেখছেন।

সাংবাদিক আশরাফ কায়সার বলেন, নিকৃষ্ট শাসন ও অনুশোচনাহীন ফ্যাসিস্টের পতন ঘটানোই ছাত্রদের বড় সফলতা। তিনি বলেন, জুলাই তখনই ব্যর্থ হবে যদি অপরাধীদের বিচার না হয় এবং কালচারাল ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হয়। তবে জুলাই আমাদের রাজনীতিমনস্ক হতে শিখিয়েছে। সবশেষে নীতি গবেষণা কেন্দ্রের রিসার্চ ফেলো মোহাম্মদ ঈসা ইবনে বেলাল উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।