লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল হাসিনার পতন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন এবং একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের আয়োজনে ‘মননে জুলাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ২০১১ সালে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পর থেকেই শেখ হাসিনার রাজনৈতিক গতিপথ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই সময় থেকেই তিনি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এর প্রতিবাদ করেছেন। তিনি আরও বলেন, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়াই ছিল শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় অপরাধ। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি মনে করেন, জুলাই আন্দোলনের অভিন্ন চাওয়া ছিল শেখ হাসিনার বিদায় ও একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন।

আন্দোলনের সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, জুলাইয়ে যখন চারদিকে ভীতি ও চাপ ছিল, তখন আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পরিণতির কথা ভেবে শঙ্কা হতো। কিন্তু তিনি দেখেছেন, সাধারণ মানুষ ভয় পায়নি। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ যারা সচরাচর আন্দোলনে থাকেন না, তারাও রাস্তায় নেমে জীবন দিয়েছেন। এই সম্মিলিত শক্তির কারণেই আন্দোলন সফল হয়েছে। আগামী দিনের বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে সেখানে যে কেউ জিততে পারে, কিন্তু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া টিকিয়ে রাখলে আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে দেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপ পাবে।

অনুষ্ঠানে মাদারিপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, যারা জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন, তাদের বিচার করা হবে। জুলাই যোদ্ধাদের অপমান বা তাদের ওপর কোনো প্রকার আক্রমণের চেষ্টা সহ্য করা হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা আক্তার তুলি। তিনি বলেন, যতদিন জুলাইয়ের চেতনা থাকবে, ততদিন বাংলার মাটিতে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের জায়গা হবে না। গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রায় ২৫০ জন ব্যক্তি গুমের পর আর ফেরেননি। তাদের সত্য ঘটনা সামনে নিয়ে আসতে তারা কাজ করছেন। অনুষ্ঠানটিতে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. শাহ নিসতার জাহান কবীরের সভাপতিত্বে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

আঙুলের শব্দে আম্পায়ার বিভ্রান্ত, ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে প্রতারণার নজির

জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল হাসিনার পতন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন এবং একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের আয়োজনে ‘মননে জুলাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ২০১১ সালে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পর থেকেই শেখ হাসিনার রাজনৈতিক গতিপথ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই সময় থেকেই তিনি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এর প্রতিবাদ করেছেন। তিনি আরও বলেন, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়াই ছিল শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় অপরাধ। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি মনে করেন, জুলাই আন্দোলনের অভিন্ন চাওয়া ছিল শেখ হাসিনার বিদায় ও একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন।

আন্দোলনের সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, জুলাইয়ে যখন চারদিকে ভীতি ও চাপ ছিল, তখন আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পরিণতির কথা ভেবে শঙ্কা হতো। কিন্তু তিনি দেখেছেন, সাধারণ মানুষ ভয় পায়নি। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ যারা সচরাচর আন্দোলনে থাকেন না, তারাও রাস্তায় নেমে জীবন দিয়েছেন। এই সম্মিলিত শক্তির কারণেই আন্দোলন সফল হয়েছে। আগামী দিনের বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে সেখানে যে কেউ জিততে পারে, কিন্তু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া টিকিয়ে রাখলে আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে দেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপ পাবে।

অনুষ্ঠানে মাদারিপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, যারা জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন, তাদের বিচার করা হবে। জুলাই যোদ্ধাদের অপমান বা তাদের ওপর কোনো প্রকার আক্রমণের চেষ্টা সহ্য করা হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা আক্তার তুলি। তিনি বলেন, যতদিন জুলাইয়ের চেতনা থাকবে, ততদিন বাংলার মাটিতে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের জায়গা হবে না। গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রায় ২৫০ জন ব্যক্তি গুমের পর আর ফেরেননি। তাদের সত্য ঘটনা সামনে নিয়ে আসতে তারা কাজ করছেন। অনুষ্ঠানটিতে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. শাহ নিসতার জাহান কবীরের সভাপতিত্বে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন উপস্থিত ছিলেন।