লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনায় দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার, ১২ দিনে সাত খুন

খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের সিংহের চর এলাকায় আঠারোবেকি নদীর চরে আজ সোমবার দুপুরে দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা প্রথমে একটি মরদেহ দেখতে পাওয়ার পর ভাটার সময় পানি কমে গেলে একই স্থানে দ্বিতীয় মরদেহটি শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।

নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। তারা হলেন রূপসার রাজাপুর এলাকার আবদুল্লাহর ছেলে মেহেদী হাসান (৩৫) এবং রেজাউল করিম (৩০)। নিহত মেহেদী একসময় জেলখানা ঘাটের মাঝি হিসেবে কাজ করতেন। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহত দুজনই খুলনার অপরাধ জগতের আলোচিত সন্ত্রাসী রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবুর গড়া ‘বি-কোম্পানি’ নামক সন্ত্রাসী গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানান, মেহেদী ও রেজাউল দুজনকেই গুলি করে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মেহেদীর চোখের ওপর ভ্রুর পাশে এবং রেজাউলের থুতনির নিচে ও পিঠে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। হত্যার কারণ সম্পর্কে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মেহেদীর মরদেহ নদীর চরে পড়ে থাকার খবর শুনে ঘটনাস্থলে এসে তাঁর বাবা আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, মেহেদী আলাদা থাকত এবং ছেলের সঙ্গে তাঁর তেমন যোগাযোগ ছিল না।

এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে গত ১২ দিনে খুলনা মহানগর ও জেলায় মোট সাতটি খুনের ঘটনা ঘটল। এর আগে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় খুলনা মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবিরকে আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহল এলাকায় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। শনিবার দিবাগত রাতে লবণচরা এলাকা থেকে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চলতি মাসের শেষ দিকে খুলনায় সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে। ২৬ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর বিকেল পর্যন্ত নগরে ও বটিয়াঘাটায় গুলির তিনটি ঘটনায় যুবদলের সাবেক দুই নেতাসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ২৫ অক্টোবর সোনাডাঙ্গা এলাকায় একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ২৪ অক্টোবর দক্ষিণ টুটপাড়া এলাকায় কলেজশিক্ষক ধনঞ্জয় কুণ্ডু ওরফে আকাশ কুণ্ডু এবং তেরখাদায় যুবদলের এক নেতা রামিম বিশ্বাস গুলিবিদ্ধ হন। এর আগে ২২ অক্টোবর নগরের পূর্ব বানিয়াখামার ও জিন্নাহপাড়ায় আরও দুজন নিহত হন। পুলিশ বলছে, এই হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশের পেছনে অস্ত্র ও মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, পূর্বশত্রুতা এবং সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিরোধ কাজ করছে। চলতি বছরে ১ নভেম্বর পর্যন্ত খুলনা মহানগর ও জেলায় বিভিন্নভাবে ৭৫ জন নিহত হয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মঙ্গলবার শপথ নেবেন মির্জা ফয়সল ও এলিজা জামান

খুলনায় দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার, ১২ দিনে সাত খুন

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৩০:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের সিংহের চর এলাকায় আঠারোবেকি নদীর চরে আজ সোমবার দুপুরে দুই যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা প্রথমে একটি মরদেহ দেখতে পাওয়ার পর ভাটার সময় পানি কমে গেলে একই স্থানে দ্বিতীয় মরদেহটি শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।

নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। তারা হলেন রূপসার রাজাপুর এলাকার আবদুল্লাহর ছেলে মেহেদী হাসান (৩৫) এবং রেজাউল করিম (৩০)। নিহত মেহেদী একসময় জেলখানা ঘাটের মাঝি হিসেবে কাজ করতেন। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহত দুজনই খুলনার অপরাধ জগতের আলোচিত সন্ত্রাসী রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবুর গড়া ‘বি-কোম্পানি’ নামক সন্ত্রাসী গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানান, মেহেদী ও রেজাউল দুজনকেই গুলি করে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মেহেদীর চোখের ওপর ভ্রুর পাশে এবং রেজাউলের থুতনির নিচে ও পিঠে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। হত্যার কারণ সম্পর্কে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মেহেদীর মরদেহ নদীর চরে পড়ে থাকার খবর শুনে ঘটনাস্থলে এসে তাঁর বাবা আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, মেহেদী আলাদা থাকত এবং ছেলের সঙ্গে তাঁর তেমন যোগাযোগ ছিল না।

এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে গত ১২ দিনে খুলনা মহানগর ও জেলায় মোট সাতটি খুনের ঘটনা ঘটল। এর আগে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় খুলনা মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবিরকে আড়ংঘাটা থানার রায়েরমহল এলাকায় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। শনিবার দিবাগত রাতে লবণচরা এলাকা থেকে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চলতি মাসের শেষ দিকে খুলনায় সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে। ২৬ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর বিকেল পর্যন্ত নগরে ও বটিয়াঘাটায় গুলির তিনটি ঘটনায় যুবদলের সাবেক দুই নেতাসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ২৫ অক্টোবর সোনাডাঙ্গা এলাকায় একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ২৪ অক্টোবর দক্ষিণ টুটপাড়া এলাকায় কলেজশিক্ষক ধনঞ্জয় কুণ্ডু ওরফে আকাশ কুণ্ডু এবং তেরখাদায় যুবদলের এক নেতা রামিম বিশ্বাস গুলিবিদ্ধ হন। এর আগে ২২ অক্টোবর নগরের পূর্ব বানিয়াখামার ও জিন্নাহপাড়ায় আরও দুজন নিহত হন। পুলিশ বলছে, এই হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশের পেছনে অস্ত্র ও মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, পূর্বশত্রুতা এবং সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিরোধ কাজ করছে। চলতি বছরে ১ নভেম্বর পর্যন্ত খুলনা মহানগর ও জেলায় বিভিন্নভাবে ৭৫ জন নিহত হয়েছেন।