লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও কাভার্ডভ্যানে আগুন, আটক ২

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন সহিংস রূপ নিয়েছে। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, কাভার্ডভ্যানে আগুন এবং সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। অশান্ত পরিস্থিতির মুখে আশুলিয়া ও সাভারের বিভিন্ন এলাকার কারখানাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সংঘর্ষ চলাকালে দুজনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকালে সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পকারখানাগুলোতে কাজের পরিবেশ স্বাভাবিক ছিল। তবে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিউএইজ গ্রুপের কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতি পালন শেষে কারখানা থেকে বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তাঁরা অন্য কারখানাগুলোর সামনে গিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা হা-মীম গ্রুপের কারখানার সামনে গেলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপরই এলাকাটিতে থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়, যাতে পুলিশের এক সদস্য আহত হন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা হা-মীমের শ্রমিকদের বাইরে বের হওয়ার জন্য বলি। প্রশাসনের লোক সেখানে উপস্থিত ছিল। একপর্যায়ে আমাদের ওপর আক্রমণ করেছে। অনেক গ্যাস মেরেছে। এতে অনেকেই আহত হয়েছে।’

একই সময়ে আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার কাঠগড়া সড়কের পাশে বেঙ্গল প্লাস্টিক পাইপস লিমিটেডের সামনে ৪০০ থেকে ৫০০ শ্রমিক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তাঁরা কারখানায় ইটপাটকেল ছুড়ে ভেতরে থাকা শ্রমিকদের বাইরে আসার আহ্বান জানান। পরে বিক্ষোভকারীরা জিরাবো থেকে কাঠগড়া সড়কের পাশের একাধিক কারখানার সামনে গিয়ে একই আহ্বান জানালে নিরাপত্তার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করে।

ছুটির বিষয়ে জিরাবো এলাকার মিনি সাউদার্ন গার্মেন্টসের এক শ্রমিক বলেন, ‘আমরা কাজ করছিলাম। আন্দোলন আসছে। পরে ছুটি দিয়া দিছে। কাঠগড়া পুকুরপাড় পর্যন্ত সব কারখানা ছুটি দিয়া দিছে। আমাদের পাশে ৬-৭টা কারখানাও ছুটি দিছে।’

বেলা ১০টার দিকে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের ঘোষবাগ এলাকায়। সেখানে বিভিন্ন কারখানার সামনে বিক্ষোভ করতে থাকা শ্রমিকদের সরাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারী শ্রমিকেরা সড়কে বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ধাওয়া দিয়ে তাঁদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এর কিছুক্ষণ পর, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নরসিংহপুর এলাকায় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের ধাওয়াধাওয়ির সময় একটি কাভার্ডভ্যানে অগ্নিসংযোগ করেন আন্দোলনকারীরা। দুপুর ১টার দিকে নরসিংহপুর এলাকায় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ এবং সেখান থেকে দুজনকে আটক করা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্প পুলিশ ও ঢাকা জেলা পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, নরসিংহপুর, বিশমাইল ও কাঠগড়া এলাকার অধিকাংশ কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে। শিল্প পুলিশ যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং শিল্পকারখানায় নাশকতা বা ভাঙচুর ঠেকাতে সচেষ্ট রয়েছে। তিনি আরও জানান, আন্দোলনে অনেক বহিরাগত দুষ্কৃতকারী যোগ দিয়েছেন বলে তাঁদের কাছে তথ্য আছে। তাঁদের চিহ্নিত করে আটকের চেষ্টা চলছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে কারখানায় হামলা ও নাশকতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে পোশাক কারখানায় ভাঙচুর এবং পোশাক খাতের বাইরের অন্যান্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা অত্যন্ত সন্দেহজনক। কারণ সাধারণ শ্রমিকেরা কখনো নিজেদের কারখানায় ভাঙচুর চালান না, তাই এসব ঘটনা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

৫৬ জেলায় তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ লাখ টাকা অর্থায়ন শুরু

আশুলিয়ায় শ্রমিক বিক্ষোভে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও কাভার্ডভ্যানে আগুন, আটক ২

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৪২:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন সহিংস রূপ নিয়েছে। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, কাভার্ডভ্যানে আগুন এবং সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। অশান্ত পরিস্থিতির মুখে আশুলিয়া ও সাভারের বিভিন্ন এলাকার কারখানাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সংঘর্ষ চলাকালে দুজনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকালে সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পকারখানাগুলোতে কাজের পরিবেশ স্বাভাবিক ছিল। তবে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিউএইজ গ্রুপের কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতি পালন শেষে কারখানা থেকে বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তাঁরা অন্য কারখানাগুলোর সামনে গিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা হা-মীম গ্রুপের কারখানার সামনে গেলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপরই এলাকাটিতে থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়, যাতে পুলিশের এক সদস্য আহত হন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা হা-মীমের শ্রমিকদের বাইরে বের হওয়ার জন্য বলি। প্রশাসনের লোক সেখানে উপস্থিত ছিল। একপর্যায়ে আমাদের ওপর আক্রমণ করেছে। অনেক গ্যাস মেরেছে। এতে অনেকেই আহত হয়েছে।’

একই সময়ে আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার কাঠগড়া সড়কের পাশে বেঙ্গল প্লাস্টিক পাইপস লিমিটেডের সামনে ৪০০ থেকে ৫০০ শ্রমিক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তাঁরা কারখানায় ইটপাটকেল ছুড়ে ভেতরে থাকা শ্রমিকদের বাইরে আসার আহ্বান জানান। পরে বিক্ষোভকারীরা জিরাবো থেকে কাঠগড়া সড়কের পাশের একাধিক কারখানার সামনে গিয়ে একই আহ্বান জানালে নিরাপত্তার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করে।

ছুটির বিষয়ে জিরাবো এলাকার মিনি সাউদার্ন গার্মেন্টসের এক শ্রমিক বলেন, ‘আমরা কাজ করছিলাম। আন্দোলন আসছে। পরে ছুটি দিয়া দিছে। কাঠগড়া পুকুরপাড় পর্যন্ত সব কারখানা ছুটি দিয়া দিছে। আমাদের পাশে ৬-৭টা কারখানাও ছুটি দিছে।’

বেলা ১০টার দিকে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের ঘোষবাগ এলাকায়। সেখানে বিভিন্ন কারখানার সামনে বিক্ষোভ করতে থাকা শ্রমিকদের সরাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারী শ্রমিকেরা সড়কে বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ধাওয়া দিয়ে তাঁদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এর কিছুক্ষণ পর, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নরসিংহপুর এলাকায় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের ধাওয়াধাওয়ির সময় একটি কাভার্ডভ্যানে অগ্নিসংযোগ করেন আন্দোলনকারীরা। দুপুর ১টার দিকে নরসিংহপুর এলাকায় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ এবং সেখান থেকে দুজনকে আটক করা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্প পুলিশ ও ঢাকা জেলা পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, নরসিংহপুর, বিশমাইল ও কাঠগড়া এলাকার অধিকাংশ কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে। শিল্প পুলিশ যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং শিল্পকারখানায় নাশকতা বা ভাঙচুর ঠেকাতে সচেষ্ট রয়েছে। তিনি আরও জানান, আন্দোলনে অনেক বহিরাগত দুষ্কৃতকারী যোগ দিয়েছেন বলে তাঁদের কাছে তথ্য আছে। তাঁদের চিহ্নিত করে আটকের চেষ্টা চলছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে কারখানায় হামলা ও নাশকতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে পোশাক কারখানায় ভাঙচুর এবং পোশাক খাতের বাইরের অন্যান্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা অত্যন্ত সন্দেহজনক। কারণ সাধারণ শ্রমিকেরা কখনো নিজেদের কারখানায় ভাঙচুর চালান না, তাই এসব ঘটনা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।