লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ ও সহিংসতায় ৪ মামলায় সাড়ে ১০ হাজার আসামি

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে টানা দুই দিনের বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষ এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মোট চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলাগুলোতে অজ্ঞাতনামা হিসেবে সাড়ে ১০ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

মিরপুর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় ট্রাফিক বক্স ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলায় তিন হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই-বাছাই করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পল্লবী থানায় সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ট্রাফিক বক্স ভাঙচুরের অভিযোগে আরও তিনটি মামলা রুজু হয়েছে। এসব মামলার বাদী স্বয়ং পুলিশ। প্রতিটি মামলায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। পল্লবী থানায় দায়ের করা এই তিন মামলায় এ পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভাষ্যমতে, শ্রমিকদের এই আন্দোলনকে পুঁজি করে মিরপুরে নাশকতার পরিকল্পনা করেছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। ডিবির তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। তারা মূলত পোশাক কারখানার শ্রমিক নন, বরং বিভিন্ন জেলা থেকে এসে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার উদ্দেশ্যে মিরপুরে জড়ো হয়েছিলেন। তাদের অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে সংগঠিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে জনমনে আতঙ্ক ও দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে।

বিক্ষোভের ঘটনায় গত সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বরের সেনপাড়া পর্বতা এলাকায় শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দেয় ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এছাড়া মিরপুর-২ নম্বর স্টেডিয়ামের পাশের প্রশিকা মোড় এলাকাতেও শ্রমিকদের হটিয়ে দেয় পুলিশ।

এর আগে রোববার সকাল আটটার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর মোড়ে শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করেন, যা বেলা সোয়া ১১টার দিকে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পুলিশ লাঠিপেটা, জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে এবং এক পর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১০, ১১ ও পল্লবী মেট্রোস্টেশন বেলা ১১টা ৩৮ মিনিট থেকে ১টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছিল। এর আগের দিন শনিবারও একই দাবিতে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

মেজর আখতারুজ্জামানের জামিন বহাল, রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ

মিরপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ ও সহিংসতায় ৪ মামলায় সাড়ে ১০ হাজার আসামি

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৩০:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে টানা দুই দিনের বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষ এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মোট চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলাগুলোতে অজ্ঞাতনামা হিসেবে সাড়ে ১০ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

মিরপুর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় ট্রাফিক বক্স ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলায় তিন হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই-বাছাই করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পল্লবী থানায় সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ট্রাফিক বক্স ভাঙচুরের অভিযোগে আরও তিনটি মামলা রুজু হয়েছে। এসব মামলার বাদী স্বয়ং পুলিশ। প্রতিটি মামলায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। পল্লবী থানায় দায়ের করা এই তিন মামলায় এ পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভাষ্যমতে, শ্রমিকদের এই আন্দোলনকে পুঁজি করে মিরপুরে নাশকতার পরিকল্পনা করেছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। ডিবির তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। তারা মূলত পোশাক কারখানার শ্রমিক নন, বরং বিভিন্ন জেলা থেকে এসে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার উদ্দেশ্যে মিরপুরে জড়ো হয়েছিলেন। তাদের অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে সংগঠিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে জনমনে আতঙ্ক ও দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে।

বিক্ষোভের ঘটনায় গত সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বরের সেনপাড়া পর্বতা এলাকায় শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দেয় ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এছাড়া মিরপুর-২ নম্বর স্টেডিয়ামের পাশের প্রশিকা মোড় এলাকাতেও শ্রমিকদের হটিয়ে দেয় পুলিশ।

এর আগে রোববার সকাল আটটার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর মোড়ে শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করেন, যা বেলা সোয়া ১১টার দিকে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পুলিশ লাঠিপেটা, জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে এবং এক পর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১০, ১১ ও পল্লবী মেট্রোস্টেশন বেলা ১১টা ৩৮ মিনিট থেকে ১টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছিল। এর আগের দিন শনিবারও একই দাবিতে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছিল।