লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়াশরুমে মোবাইল রাখার অভিযোগে ক্যান্টিনকর্মী আটক

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বিজয় ’২৪ হলের নারী শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রাখার অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে কর্মরত এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার রাতের এই ঘটনায় হলজুড়ে চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওয়াশরুমে একটি সন্দেহজনক মোবাইল ফোন দেখতে পেয়ে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। পরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে কর্মরত ইমাম হাসান নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেন তারা। তার বাবার নাম আসাদুজ্জামান। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় দুই বছর ধরে বিজয় ’২৪ হলের ক্যান্টিনে কর্মরত রয়েছেন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে হলের বিভিন্ন ব্লকের শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হন। পরে অভিযুক্তকে হলের ভেতরে আটকে রাখা হয় এবং বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।

আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিক ভিডিও পাওয়া গেছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে হলের ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ এবং সেগুলো বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে পাঠানোর অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, নারী আবাসিক হলের মতো একটি সংরক্ষিত স্থানে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া নারী আবাসিক হলে বহিরাগত ও বিভিন্ন সেবাদানকারী কর্মীদের প্রবেশে কার্যকর নজরদারি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি এবং হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বিজয় ’২৪ হলের প্রভোস্ট বলেন, ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

আঙুলের শব্দে আম্পায়ার বিভ্রান্ত, ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে প্রতারণার নজির

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়াশরুমে মোবাইল রাখার অভিযোগে ক্যান্টিনকর্মী আটক

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৩৬:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বিজয় ’২৪ হলের নারী শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রাখার অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে কর্মরত এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার রাতের এই ঘটনায় হলজুড়ে চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওয়াশরুমে একটি সন্দেহজনক মোবাইল ফোন দেখতে পেয়ে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। পরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে কর্মরত ইমাম হাসান নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেন তারা। তার বাবার নাম আসাদুজ্জামান। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় দুই বছর ধরে বিজয় ’২৪ হলের ক্যান্টিনে কর্মরত রয়েছেন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে হলের বিভিন্ন ব্লকের শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হন। পরে অভিযুক্তকে হলের ভেতরে আটকে রাখা হয় এবং বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।

আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিক ভিডিও পাওয়া গেছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে হলের ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণ এবং সেগুলো বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে পাঠানোর অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, নারী আবাসিক হলের মতো একটি সংরক্ষিত স্থানে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া নারী আবাসিক হলে বহিরাগত ও বিভিন্ন সেবাদানকারী কর্মীদের প্রবেশে কার্যকর নজরদারি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি এবং হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বিজয় ’২৪ হলের প্রভোস্ট বলেন, ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন।