লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে ভূমিধসে ৮ রোহিঙ্গার মৃত্যু, ভারতেও সতর্কতা জারি

টানা মৌসুমি বর্ষণের ফলে কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে পাহাড় ধসের ঘটনায় অন্তত আটজন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে পৃথক চারটি স্থানে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। এছাড়া একই সময়ে কক্সবাজার পৌর এলাকার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে আলী আকবর (৫০) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তার পরিবারের আরও তিনজন মাটিচাপা পড়লেও বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে হতাহতের ঘটনায় জানা গেছে, সোমবার ভোর ৩টার দিকে ১১ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড় ধসে উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং হারুনুর রশিদ (৩) নিহত হন। রাত ১টা ৪৫ মিনিটে কুতুপালং ৭ নম্বর ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে একরাম (৭) নামে এক শিশু এবং রাত ১টা ১০ মিনিটে পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী ক্যাম্পে মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) ও তাদের চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন। উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানিয়েছেন, রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।

কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, আর কোনো প্রাণহানি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢাল থেকে মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, পাহাড়ধসের ঝুঁকি এড়াতে নিয়মিত মাইকিংয়ের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী কয়েক দিন আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে, যা কক্সবাজারসহ পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিধস ও পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

এদিকে, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনও বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানান, জেলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মাইকিং, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।

অন্যদিকে, প্রতিবেশী দেশ ভারতেও মৌসুমি বৃষ্টির প্রভাবে দুর্যোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের কারণে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (IMD) ওডিশার পাঁচ জেলায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় সেখানে অতিভারী বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড় ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওডিশা, ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড়সহ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে ইতোমধ্যে ভারী বৃষ্টির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এবং উদ্ধারকারী দলগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হকিতে মালয়েশিয়ার কাছে বাংলাদেশের বড় ব্যবধানে হার

কক্সবাজারে ভূমিধসে ৮ রোহিঙ্গার মৃত্যু, ভারতেও সতর্কতা জারি

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:২৪:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

টানা মৌসুমি বর্ষণের ফলে কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে পাহাড় ধসের ঘটনায় অন্তত আটজন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে পৃথক চারটি স্থানে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। এছাড়া একই সময়ে কক্সবাজার পৌর এলাকার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে আলী আকবর (৫০) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তার পরিবারের আরও তিনজন মাটিচাপা পড়লেও বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে হতাহতের ঘটনায় জানা গেছে, সোমবার ভোর ৩টার দিকে ১১ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড় ধসে উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং হারুনুর রশিদ (৩) নিহত হন। রাত ১টা ৪৫ মিনিটে কুতুপালং ৭ নম্বর ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে একরাম (৭) নামে এক শিশু এবং রাত ১টা ১০ মিনিটে পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী ক্যাম্পে মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) ও তাদের চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন। উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানিয়েছেন, রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।

কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, আর কোনো প্রাণহানি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢাল থেকে মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, পাহাড়ধসের ঝুঁকি এড়াতে নিয়মিত মাইকিংয়ের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী কয়েক দিন আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে, যা কক্সবাজারসহ পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিধস ও পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

এদিকে, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনও বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানান, জেলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মাইকিং, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।

অন্যদিকে, প্রতিবেশী দেশ ভারতেও মৌসুমি বৃষ্টির প্রভাবে দুর্যোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের কারণে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (IMD) ওডিশার পাঁচ জেলায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় সেখানে অতিভারী বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড় ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওডিশা, ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড়সহ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে ইতোমধ্যে ভারী বৃষ্টির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এবং উদ্ধারকারী দলগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।