লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষকসংকটে স্থবির কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ, বাড়ছে সেশনজট

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আইন বিভাগে দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকটের কারণে একাডেমিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাবে নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা, সময়মতো পরীক্ষা গ্রহণ এবং ফলাফল প্রকাশের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিভাগটিতে ক্রমেই সেশনজটের আশঙ্কা বাড়ছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে যাত্রা শুরু করা আইন বিভাগে বর্তমানে মোট আটজন শিক্ষক থাকলেও তাদের মধ্যে চারজনই শিক্ষা ছুটিতে আছেন। ফলে অবশিষ্ট চারজন শিক্ষককে সাতটি ব্যাচের পাঠদান, পরীক্ষা গ্রহণ, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব একসাথে সামলাতে হচ্ছে। এই অতিরিক্ত চাপের কারণে নির্ধারিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

শিক্ষকসংকটের কারণে বিভাগটিকে বিভিন্ন কোর্স পরিচালনার জন্য বাইরের শিক্ষকদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, অন্য বিভাগের শিক্ষকদের সময়সূচির সাথে আইন বিভাগের ক্লাসের সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. বায়েজিদ হোসেন জানান, বিজনেস ফ্যাকাল্টি ও সোশ্যাল সায়েন্সের শিক্ষকদের দিয়ে ক্লাস নেওয়ায় নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষকদের সাথে সমন্বয় করাও চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বিভাগের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষার্থী ইয়াসিন পাঠান সৈকত জানান, বিভাগটি স্বতন্ত্র অনুষদ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। বিভাগে বর্তমানে কোনো অধ্যাপক বা ডক্টরেট ডিগ্রিধারী শিক্ষক নেই, সবাই সহকারী অধ্যাপক। এছাড়া প্রায় ৬০ শতাংশ কোর্স গেস্ট টিচারের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হচ্ছে। আরেক শিক্ষার্থী যোবায়ের আহমেদের মতে, বিভাগ চালুর দশ বছরেও একজন অধ্যাপক নিয়োগ দেওয়া হয়নি, যা বিভাগের মানোন্নয়নের পথে বড় বাধা।

চলতি বছরের ২৩ জুন সেশনজট নিরসনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিভাগে তালা ঝুলিয়ে কর্মসূচি পালন করেন। সে সময় বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান সাদিয়া তাবাসসুম, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন এবং তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান সাদিয়া তাবাসসুম স্বীকার করেন যে, বর্তমান শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে প্রতিটি শিক্ষককে ছয়টি করে কোর্স নিতে হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি ইউজিসির অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। আইন অনুষদের ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যংশ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন জানান, তারা ইউজিসির কাছে শিক্ষক চেয়ে আবেদন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে এবং নতুন অর্গানোগ্রাম অনুমোদিত হলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় বাসা ভাড়া নিয়ে জাল নোটের কারবার, আটক ১

শিক্ষকসংকটে স্থবির কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ, বাড়ছে সেশনজট

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৩৩:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আইন বিভাগে দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকটের কারণে একাডেমিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাবে নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা, সময়মতো পরীক্ষা গ্রহণ এবং ফলাফল প্রকাশের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিভাগটিতে ক্রমেই সেশনজটের আশঙ্কা বাড়ছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে যাত্রা শুরু করা আইন বিভাগে বর্তমানে মোট আটজন শিক্ষক থাকলেও তাদের মধ্যে চারজনই শিক্ষা ছুটিতে আছেন। ফলে অবশিষ্ট চারজন শিক্ষককে সাতটি ব্যাচের পাঠদান, পরীক্ষা গ্রহণ, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব একসাথে সামলাতে হচ্ছে। এই অতিরিক্ত চাপের কারণে নির্ধারিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

শিক্ষকসংকটের কারণে বিভাগটিকে বিভিন্ন কোর্স পরিচালনার জন্য বাইরের শিক্ষকদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, অন্য বিভাগের শিক্ষকদের সময়সূচির সাথে আইন বিভাগের ক্লাসের সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. বায়েজিদ হোসেন জানান, বিজনেস ফ্যাকাল্টি ও সোশ্যাল সায়েন্সের শিক্ষকদের দিয়ে ক্লাস নেওয়ায় নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষকদের সাথে সমন্বয় করাও চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বিভাগের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষার্থী ইয়াসিন পাঠান সৈকত জানান, বিভাগটি স্বতন্ত্র অনুষদ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। বিভাগে বর্তমানে কোনো অধ্যাপক বা ডক্টরেট ডিগ্রিধারী শিক্ষক নেই, সবাই সহকারী অধ্যাপক। এছাড়া প্রায় ৬০ শতাংশ কোর্স গেস্ট টিচারের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হচ্ছে। আরেক শিক্ষার্থী যোবায়ের আহমেদের মতে, বিভাগ চালুর দশ বছরেও একজন অধ্যাপক নিয়োগ দেওয়া হয়নি, যা বিভাগের মানোন্নয়নের পথে বড় বাধা।

চলতি বছরের ২৩ জুন সেশনজট নিরসনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিভাগে তালা ঝুলিয়ে কর্মসূচি পালন করেন। সে সময় বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান সাদিয়া তাবাসসুম, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন এবং তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান সাদিয়া তাবাসসুম স্বীকার করেন যে, বর্তমান শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে প্রতিটি শিক্ষককে ছয়টি করে কোর্স নিতে হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি ইউজিসির অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। আইন অনুষদের ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যংশ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন জানান, তারা ইউজিসির কাছে শিক্ষক চেয়ে আবেদন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে এবং নতুন অর্গানোগ্রাম অনুমোদিত হলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।