লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিচার ও গ্রেফতারের দাবি: আইন কী বলে?

পদত্যাগের দুদিন পর গত ২৬ জুলাই দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন ছেড়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন গ্রিন ভিলার উদ্দেশে রওনা হন। এর আগে গত ২৪ জুলাই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা মো. সাহাবুদ্দিনের পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের ২৩ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তিনি তিন বছর তিন মাস দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ ও গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) কয়েকটি দল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যার মধ্যে ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার থাকাকালীন অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, ব্যাংক খাতের লুটপাট ধামাচাপা দেওয়া এবং জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যায় সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।

সাবেক এই রাষ্ট্রপতির বিচার ও গ্রেফতারের দাবির প্রেক্ষিতে দেশের বিশিষ্ট আইনজীবীরা সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ নিয়ে তাদের অভিমত দিয়েছেন। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিকের মতে, ৫১(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালীন কর্মকাণ্ডের সুরক্ষাই কেবল পাওয়া যায়, কিন্তু দুর্নীতি বা ফৌজদারি অপরাধ এই সুরক্ষার আওতায় পড়ে না। সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীনের মতে, দাপ্তরিক দায়িত্বের বাইরের কাজ বা রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগের অপরাধের জন্য তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামও জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালীন সময়ের সুরক্ষা থাকলেও, পদে থাকা আগের বা পরের অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।

অন্যদিকে, সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না জানিয়েছেন, সংবিধানের ৫১ ধারা অনুযায়ী তিনি দায়মুক্তি পেতে পারেন। এছাড়া, পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নিজেও দাবি করেছেন যে, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, 'কিসের বিচার করবে? আমি কি অপরাধ করেছি। আমাকে হেয় করার জন্য এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে।'

সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে দুই ধরনের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। ৫১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বা অনুরূপ বিবেচনায় কোনো কাজ বা নিষ্ক্রিয়তার জন্য আদালতে জবাবদিহি করতে হয় না। ৫১(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যধারা দায়ের বা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি নিষিদ্ধ। আইনজীবীরা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উদাহরণ টেনে বলেন, পদত্যাগের পর রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের বাইরে ব্যক্তিগত অপরাধের বিচার হওয়া সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিআইজির বাংলোয় রহস্যময় অভিযান: নেপথ্যে কি অভ্যন্তরীণ স্বার্থের দ্বন্দ্ব?

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিচার ও গ্রেফতারের দাবি: আইন কী বলে?

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:১৮:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

পদত্যাগের দুদিন পর গত ২৬ জুলাই দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন ছেড়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন গ্রিন ভিলার উদ্দেশে রওনা হন। এর আগে গত ২৪ জুলাই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করা মো. সাহাবুদ্দিনের পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের ২৩ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তিনি তিন বছর তিন মাস দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ ও গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) কয়েকটি দল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যার মধ্যে ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপ, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার থাকাকালীন অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, ব্যাংক খাতের লুটপাট ধামাচাপা দেওয়া এবং জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যায় সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।

সাবেক এই রাষ্ট্রপতির বিচার ও গ্রেফতারের দাবির প্রেক্ষিতে দেশের বিশিষ্ট আইনজীবীরা সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ নিয়ে তাদের অভিমত দিয়েছেন। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিকের মতে, ৫১(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালীন কর্মকাণ্ডের সুরক্ষাই কেবল পাওয়া যায়, কিন্তু দুর্নীতি বা ফৌজদারি অপরাধ এই সুরক্ষার আওতায় পড়ে না। সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীনের মতে, দাপ্তরিক দায়িত্বের বাইরের কাজ বা রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগের অপরাধের জন্য তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামও জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালীন সময়ের সুরক্ষা থাকলেও, পদে থাকা আগের বা পরের অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।

অন্যদিকে, সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না জানিয়েছেন, সংবিধানের ৫১ ধারা অনুযায়ী তিনি দায়মুক্তি পেতে পারেন। এছাড়া, পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নিজেও দাবি করেছেন যে, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, 'কিসের বিচার করবে? আমি কি অপরাধ করেছি। আমাকে হেয় করার জন্য এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে।'

সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে দুই ধরনের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। ৫১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বা অনুরূপ বিবেচনায় কোনো কাজ বা নিষ্ক্রিয়তার জন্য আদালতে জবাবদিহি করতে হয় না। ৫১(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যধারা দায়ের বা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি নিষিদ্ধ। আইনজীবীরা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উদাহরণ টেনে বলেন, পদত্যাগের পর রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের বাইরে ব্যক্তিগত অপরাধের বিচার হওয়া সম্ভব।