লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনৈতিক তদবিরে এলএনজি কার্গো সংকটে বিপর্যস্ত গ্যাস সরবরাহ

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ক্রয় ও সরবরাহ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে দেশে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে দেশের দুটি ভাসমান টার্মিনালের (এফএসআরইউ) মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে কোনো এলএনজি কার্গো নেই, ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সোমবার কার্গো আসার কথা থাকলেও সরকারি কর্মকর্তারা তা নিশ্চিত করতে পারেননি।

পেট্রোবাংলা, আরপিজিসিএল এবং জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই সংকটের মূলে রয়েছে এলএনজি ক্রয়ে রাজনৈতিক তদবির। সরকারের এক শীর্ষ নেতার সুপারিশে সরাসরি ক্রয় নীতির (ডিপিএম) আওতায় হংকংভিত্তিক কোম্পানি জেন হু শিপিংকে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টনের একটি কার্গো আমদানির অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রতি ইউনিট ১৪ দশমিক ৯ ডলারে গ্যাস কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করলেও, আন্তর্জাতিক বাজার দর বর্তমানে ২২ ডলার। সোমবার কার্গো আসার কথা থাকলেও শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত কোম্পানিটি কোনো কাগজপত্র জমা দিতে পারেনি। স্থানীয় এজেন্ট মাহবুব হোসেনের কাছে বারবার বিস্তারিত চাওয়া হলেও তিনি তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। এতে এত কম দামে এলএনজি সরবরাহ নিয়ে সরকারের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। গত ১৫ দিনে জ্বালানি বিভাগ রাজনৈতিক তদবিরে এভাবেই ৮টি কার্গো সরাসরি ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পেট্রোবাংলা মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটকে সৌদি কোম্পানি আরামকোর কার্গো 'আল হামরা' থেকে এলএনজি খালাসের অনুরোধ জানিয়েছে। আরামকোর এই কার্গোটি তিন দিন ধরে বহির্নোঙরে অপেক্ষায় রয়েছে। শুক্রবার রাতে এক্সিলারেট তাদের টার্মিনালের দুটি বয়েলার পরীক্ষা করে ইতিবাচক ফল পেয়েছে এবং তারা জানিয়েছে কার্গো পেলে পুরোদমে গ্যাস সরবরাহ সম্ভব। তবে শনিবার রাত পর্যন্ত এক্সিলারেট এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। এর আগে বিটল কোম্পানির একটি কার্গো খালাস করা হলেও জেন হু শিপিংয়ের কার্গো অনিশ্চিত হওয়ায় আরামকোর জাহাজটিকে আটকে রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী সরকারকে এক কার্গো এলএনজির জন্য ৯৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করতে হয়। ক্রয় পদ্ধতিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দেশের অর্থনীতির জন্য বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ১৭, ২৩, ২৭ ও ৩০ আগস্ট এবং ৬ সেপ্টেম্বর সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আরও ৬টি কার্গো আসার কথা থাকলেও সেগুলোর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা পেট্রোবাংলার কাছে নেই। জ্বালানি বিভাগ জেন হু শিপিং, ব্রেক কিউব এবং ম্যাক্সওয়েলকে কার্গো আনার অনুমতি দিলেও আগের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়; এর আগে ১২টি কোম্পানিকে অনুমতি দেওয়া হলেও কোনো তেল আসেনি।

এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে লোডশেডিং কিছুটা কমেছে। শনিবার বিকাল ৫টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ১০৭ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৩৩৭ মেগাওয়াট এবং লোডশেডিং ছিল ৭৭০ মেগাওয়াট।

জানা যায়, জ্বালানি বিভাগ জেন হু শিপিং, ব্রেক কিউব এবং ম্যাক্সওয়েল নামে তিনটি কোম্পানিকে টেন্ডার ছাড়া দুটি করে মোট ছয়টি কার্গো আনার অনুমতি দিয়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে টেন্ডার ছাড়া সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় ১২টি কোম্পানিকে জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি দিয়েছিল জ্বালানি বিভাগ। সেই অনুমোদনের এক ছটাক তেল গত ৬ মাসে আসেনি। এমনকি দুটি কোম্পানি ছাড়া কেউ পারফরম্যান্স গ্যারান্টিও দিতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে আবারও টেন্ডারবিহীন এলএনজি আনার অনুমতি দেওয়া হলো। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অনুমোদিত ১-২টি কোম্পানি সরব আছে। তারা এলএনজি ঠিক সময়ে দিতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যাংকে কোটি টাকার আমানতকারীর সংখ্যা ১ লাখ ৪১ হাজার ছাড়াল

রাজনৈতিক তদবিরে এলএনজি কার্গো সংকটে বিপর্যস্ত গ্যাস সরবরাহ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩১:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ক্রয় ও সরবরাহ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে দেশে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে দেশের দুটি ভাসমান টার্মিনালের (এফএসআরইউ) মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে কোনো এলএনজি কার্গো নেই, ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সোমবার কার্গো আসার কথা থাকলেও সরকারি কর্মকর্তারা তা নিশ্চিত করতে পারেননি।

পেট্রোবাংলা, আরপিজিসিএল এবং জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই সংকটের মূলে রয়েছে এলএনজি ক্রয়ে রাজনৈতিক তদবির। সরকারের এক শীর্ষ নেতার সুপারিশে সরাসরি ক্রয় নীতির (ডিপিএম) আওতায় হংকংভিত্তিক কোম্পানি জেন হু শিপিংকে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টনের একটি কার্গো আমদানির অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রতি ইউনিট ১৪ দশমিক ৯ ডলারে গ্যাস কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করলেও, আন্তর্জাতিক বাজার দর বর্তমানে ২২ ডলার। সোমবার কার্গো আসার কথা থাকলেও শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত কোম্পানিটি কোনো কাগজপত্র জমা দিতে পারেনি। স্থানীয় এজেন্ট মাহবুব হোসেনের কাছে বারবার বিস্তারিত চাওয়া হলেও তিনি তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। এতে এত কম দামে এলএনজি সরবরাহ নিয়ে সরকারের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। গত ১৫ দিনে জ্বালানি বিভাগ রাজনৈতিক তদবিরে এভাবেই ৮টি কার্গো সরাসরি ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পেট্রোবাংলা মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটকে সৌদি কোম্পানি আরামকোর কার্গো 'আল হামরা' থেকে এলএনজি খালাসের অনুরোধ জানিয়েছে। আরামকোর এই কার্গোটি তিন দিন ধরে বহির্নোঙরে অপেক্ষায় রয়েছে। শুক্রবার রাতে এক্সিলারেট তাদের টার্মিনালের দুটি বয়েলার পরীক্ষা করে ইতিবাচক ফল পেয়েছে এবং তারা জানিয়েছে কার্গো পেলে পুরোদমে গ্যাস সরবরাহ সম্ভব। তবে শনিবার রাত পর্যন্ত এক্সিলারেট এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। এর আগে বিটল কোম্পানির একটি কার্গো খালাস করা হলেও জেন হু শিপিংয়ের কার্গো অনিশ্চিত হওয়ায় আরামকোর জাহাজটিকে আটকে রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী সরকারকে এক কার্গো এলএনজির জন্য ৯৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করতে হয়। ক্রয় পদ্ধতিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দেশের অর্থনীতির জন্য বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ১৭, ২৩, ২৭ ও ৩০ আগস্ট এবং ৬ সেপ্টেম্বর সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আরও ৬টি কার্গো আসার কথা থাকলেও সেগুলোর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা পেট্রোবাংলার কাছে নেই। জ্বালানি বিভাগ জেন হু শিপিং, ব্রেক কিউব এবং ম্যাক্সওয়েলকে কার্গো আনার অনুমতি দিলেও আগের অভিজ্ঞতা সুখকর নয়; এর আগে ১২টি কোম্পানিকে অনুমতি দেওয়া হলেও কোনো তেল আসেনি।

এদিকে বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে লোডশেডিং কিছুটা কমেছে। শনিবার বিকাল ৫টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ১০৭ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৩৩৭ মেগাওয়াট এবং লোডশেডিং ছিল ৭৭০ মেগাওয়াট।

জানা যায়, জ্বালানি বিভাগ জেন হু শিপিং, ব্রেক কিউব এবং ম্যাক্সওয়েল নামে তিনটি কোম্পানিকে টেন্ডার ছাড়া দুটি করে মোট ছয়টি কার্গো আনার অনুমতি দিয়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে টেন্ডার ছাড়া সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় ১২টি কোম্পানিকে জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি দিয়েছিল জ্বালানি বিভাগ। সেই অনুমোদনের এক ছটাক তেল গত ৬ মাসে আসেনি। এমনকি দুটি কোম্পানি ছাড়া কেউ পারফরম্যান্স গ্যারান্টিও দিতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে আবারও টেন্ডারবিহীন এলএনজি আনার অনুমতি দেওয়া হলো। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অনুমোদিত ১-২টি কোম্পানি সরব আছে। তারা এলএনজি ঠিক সময়ে দিতে পারে।