লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪ দিনেও সারেনি এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি, দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট

মাতারবাড়ী ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) ত্রুটি চার দিনেও মেরামত করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে সারা দেশে গ্যাস সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শুক্রবার ছুটির দিনেও দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকা ছাড়া বেশির ভাগ অঞ্চলে গ্যাস ছিল না। সাভার, গাজীপুর, আশুলিয়া ও ধনুয়াসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে অন্তত ২০০টি কারখানা বন্ধ রাখতে হয়েছে। অধিকাংশ সিএনজি স্টেশন গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না, আবার অনেক স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বাসাবাড়িতেও রান্নার গ্যাসের জন্য চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন গ্রাহকরা।

গত মঙ্গলবার সকালে শর্ট সার্কিট থেকে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটরের এফএসআরইউতে আগুন লাগার পর মাতারবাড়ী ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে সারা দেশের গ্যাস সরবরাহে বিপর্যয় নেমে আসে। দেশে দৈনিক সাধারণত ২৬৫ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে বিদেশ থেকে আমদানি করা এলএনজি দুটি টার্মিনাল দিয়ে সরবরাহ করা হতো ১১ কোটি ঘনফুট। বর্তমানে একটি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় এলএনজি সরবরাহ ৪৫ কোটি ঘনফুট কমে গেছে, যার ফলে মোট সরবরাহ ২২০ কোটি ঘনফুটে এসে ঠেকেছে।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এই ভাসমান টার্মিনাল মেরামতের জন্য যুক্তরাজ্য থেকে তিনজন প্রকৌশলী আনা হয়েছে। তারা গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে পুড়ে যাওয়া কেবলগুলো নতুন করে সংযোগ দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত টার্মিনালটি চালু করা যাচ্ছে না। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় এই প্রকৌশলীদের সঙ্গে পেট্রোবাংলার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার টার্মিনাল চালুর সময় জানতে চাওয়া হলেও তারা নিশ্চিত করে কোনো দিনক্ষণ জানাতে পারেননি। শুক্রবার সন্ধ্যায় টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালুর কথা থাকলেও তা সম্ভব না হওয়ায় পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

টার্মিনালটির অপারেটর এক্সিলারেটর পেট্রোবাংলাকে জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটি শতভাগ দূর না করে তারা এটি চালু করবে না। ত্রুটিপূর্ণ অবস্থায় জাহাজ থেকে এলএনজি খালাস করা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে, যা পুরো বাংলাদেশের গ্যাস সঞ্চালন ব্যবস্থায় আরও বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক্সিলারেটরের এক কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিদেশি প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। তাদের সবুজ সংকেত ছাড়া টার্মিনাল চালু করা যাবে না। তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত মেরামতের কাজ চালানো হচ্ছে। পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) রফিকুল ইসলাম জানান, দ্রুত ত্রুটি মেরামতের জন্য এক্সিলারেটরকে ক্রমাগত তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।

তিতাস এবং বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্যাসের এই তীব্র সংকটে শিল্প খাত বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। আশুলিয়া, গাজীপুর ও ধনুয়াসহ বিভিন্ন এলাকার শত শত কারখানা এখন বন্ধ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এক কারখানা মালিক তিতাসের কাছে জানতে চান যে গ্যাসের অভাবে শ্রমিকদের বসিয়ে রাখবেন নাকি ছুটি দিয়ে দেবেন। তিতাসের এক কর্মকর্তা তাকে আপাতত শ্রমিকদের ছুটি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। যদিও পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, শুক্রবার শিল্প খাতে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে এবং বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ কমানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুর্ঘটনার পর বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহ ছিল ৭৫ কোটি ঘনফুট, যা শুক্রবার কমিয়ে ৬৮ কোটি ঘনফুট করা হয়। বাকি গ্যাস শিল্প ও সিএনজি খাতে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গ্যাস সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। গত শুক্রবার রাত ১টায় সারা দেশে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ৯২৪ মেগাওয়াট, আর দুপুর ১টায় তা ছিল ২৬০ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা জানান, দেশজুড়ে বৃষ্টি হওয়ার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কম রয়েছে, ফলে বিদ্যুৎ নিয়ে বড় ধরনের হাহাকার তৈরি হয়নি। এই সময়ে বৃষ্টি না হলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিত। পিডিবি জানিয়েছে, এতদিন গ্যাস দিয়ে ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হতো, যা শুক্রবার কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে। শুক্রবার দুপুর ২টায় সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১২ হাজার ৪৫৮ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে ১২ হাজার ২০১ মেগাওয়াট।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, টার্মিনাল চালু হতে যত বেশি সময় লাগবে, দেশের গ্যাস সংকট তত প্রকট হবে। এমনকি টার্মিনাল চালুর পরও পাইপলাইনের গ্যাস চাপ স্বাভাবিক হতে আরও ২ থেকে ৩ দিন সময় লেগে যেতে পারে। শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটির কারণে গ্যাসের চাহিদা কিছুটা কম থাকলেও, রবিবার থেকে অফিস-আদালত ও সব কলকারখানা পুরোদমে চালু হলে গ্যাসের জন্য হাহাকার আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।

পিডিবি জানিয়েছে, এতদিন গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হতো ৬ হাজার মেগাওয়াট। শুক্রবার তা নেমে এসেছে ৩৫০০ মেগাওয়াটে। দুপুর ২টায় সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১২ হাজার ৪৫৮ মেগাওয়াট। তবে সরবরাহ করা হয়েছে ১২ হাজার ২০১ মেগাওয়াট। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, টার্মিনাল চালু হতে যত বেশি সময় লাগবে দেশে গ্যাস সংকট তত বেশি বাড়বে। এমনকি টার্মিনাল চালুর ২-৩ দিনেও গ্যাস সরবরাহ সিস্টেম স্বাভাবিক হবে না। কারণ পাইপলাইনের গ্যাস পূর্ণ হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। তারা বলেন, শুক্রবার এবং শনিবার সরকারি বন্ধের কারণে গ্যাসের চাহিদা কিছুটা কম। কিন্তু রোববার থেকে অফিস আদালত এবং সব ফ্যাক্টরি চালু হলে দেশে গ্যাসের জন্য আরও হাহাকার বাড়বে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় স্বার্থেই সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াবে ঢাকা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

৪ দিনেও সারেনি এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি, দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৫৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

মাতারবাড়ী ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) ত্রুটি চার দিনেও মেরামত করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে সারা দেশে গ্যাস সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শুক্রবার ছুটির দিনেও দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকা ছাড়া বেশির ভাগ অঞ্চলে গ্যাস ছিল না। সাভার, গাজীপুর, আশুলিয়া ও ধনুয়াসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে অন্তত ২০০টি কারখানা বন্ধ রাখতে হয়েছে। অধিকাংশ সিএনজি স্টেশন গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না, আবার অনেক স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বাসাবাড়িতেও রান্নার গ্যাসের জন্য চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন গ্রাহকরা।

গত মঙ্গলবার সকালে শর্ট সার্কিট থেকে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটরের এফএসআরইউতে আগুন লাগার পর মাতারবাড়ী ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে সারা দেশের গ্যাস সরবরাহে বিপর্যয় নেমে আসে। দেশে দৈনিক সাধারণত ২৬৫ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে বিদেশ থেকে আমদানি করা এলএনজি দুটি টার্মিনাল দিয়ে সরবরাহ করা হতো ১১ কোটি ঘনফুট। বর্তমানে একটি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় এলএনজি সরবরাহ ৪৫ কোটি ঘনফুট কমে গেছে, যার ফলে মোট সরবরাহ ২২০ কোটি ঘনফুটে এসে ঠেকেছে।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এই ভাসমান টার্মিনাল মেরামতের জন্য যুক্তরাজ্য থেকে তিনজন প্রকৌশলী আনা হয়েছে। তারা গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে পুড়ে যাওয়া কেবলগুলো নতুন করে সংযোগ দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত টার্মিনালটি চালু করা যাচ্ছে না। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় এই প্রকৌশলীদের সঙ্গে পেট্রোবাংলার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার টার্মিনাল চালুর সময় জানতে চাওয়া হলেও তারা নিশ্চিত করে কোনো দিনক্ষণ জানাতে পারেননি। শুক্রবার সন্ধ্যায় টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালুর কথা থাকলেও তা সম্ভব না হওয়ায় পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

টার্মিনালটির অপারেটর এক্সিলারেটর পেট্রোবাংলাকে জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটি শতভাগ দূর না করে তারা এটি চালু করবে না। ত্রুটিপূর্ণ অবস্থায় জাহাজ থেকে এলএনজি খালাস করা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে, যা পুরো বাংলাদেশের গ্যাস সঞ্চালন ব্যবস্থায় আরও বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক্সিলারেটরের এক কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিদেশি প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। তাদের সবুজ সংকেত ছাড়া টার্মিনাল চালু করা যাবে না। তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত মেরামতের কাজ চালানো হচ্ছে। পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) রফিকুল ইসলাম জানান, দ্রুত ত্রুটি মেরামতের জন্য এক্সিলারেটরকে ক্রমাগত তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।

তিতাস এবং বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্যাসের এই তীব্র সংকটে শিল্প খাত বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। আশুলিয়া, গাজীপুর ও ধনুয়াসহ বিভিন্ন এলাকার শত শত কারখানা এখন বন্ধ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এক কারখানা মালিক তিতাসের কাছে জানতে চান যে গ্যাসের অভাবে শ্রমিকদের বসিয়ে রাখবেন নাকি ছুটি দিয়ে দেবেন। তিতাসের এক কর্মকর্তা তাকে আপাতত শ্রমিকদের ছুটি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। যদিও পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, শুক্রবার শিল্প খাতে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে এবং বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ কমানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুর্ঘটনার পর বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহ ছিল ৭৫ কোটি ঘনফুট, যা শুক্রবার কমিয়ে ৬৮ কোটি ঘনফুট করা হয়। বাকি গ্যাস শিল্প ও সিএনজি খাতে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গ্যাস সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। গত শুক্রবার রাত ১টায় সারা দেশে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল ৯২৪ মেগাওয়াট, আর দুপুর ১টায় তা ছিল ২৬০ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা জানান, দেশজুড়ে বৃষ্টি হওয়ার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কম রয়েছে, ফলে বিদ্যুৎ নিয়ে বড় ধরনের হাহাকার তৈরি হয়নি। এই সময়ে বৃষ্টি না হলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিত। পিডিবি জানিয়েছে, এতদিন গ্যাস দিয়ে ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হতো, যা শুক্রবার কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে। শুক্রবার দুপুর ২টায় সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১২ হাজার ৪৫৮ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে ১২ হাজার ২০১ মেগাওয়াট।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, টার্মিনাল চালু হতে যত বেশি সময় লাগবে, দেশের গ্যাস সংকট তত প্রকট হবে। এমনকি টার্মিনাল চালুর পরও পাইপলাইনের গ্যাস চাপ স্বাভাবিক হতে আরও ২ থেকে ৩ দিন সময় লেগে যেতে পারে। শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটির কারণে গ্যাসের চাহিদা কিছুটা কম থাকলেও, রবিবার থেকে অফিস-আদালত ও সব কলকারখানা পুরোদমে চালু হলে গ্যাসের জন্য হাহাকার আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।

পিডিবি জানিয়েছে, এতদিন গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হতো ৬ হাজার মেগাওয়াট। শুক্রবার তা নেমে এসেছে ৩৫০০ মেগাওয়াটে। দুপুর ২টায় সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১২ হাজার ৪৫৮ মেগাওয়াট। তবে সরবরাহ করা হয়েছে ১২ হাজার ২০১ মেগাওয়াট। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, টার্মিনাল চালু হতে যত বেশি সময় লাগবে দেশে গ্যাস সংকট তত বেশি বাড়বে। এমনকি টার্মিনাল চালুর ২-৩ দিনেও গ্যাস সরবরাহ সিস্টেম স্বাভাবিক হবে না। কারণ পাইপলাইনের গ্যাস পূর্ণ হতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। তারা বলেন, শুক্রবার এবং শনিবার সরকারি বন্ধের কারণে গ্যাসের চাহিদা কিছুটা কম। কিন্তু রোববার থেকে অফিস আদালত এবং সব ফ্যাক্টরি চালু হলে দেশে গ্যাসের জন্য আরও হাহাকার বাড়বে।