লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ত্রাণের আশায় আঙুলের ছাপ দিয়ে ‘রোহিঙ্গা’ পরিচয় সংকটে ৫ শতাধিক বাংলাদেশি

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপকূলের চরম দারিদ্র্যপীড়িত অন্তত ৫ শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিক বর্তমানে এক ভয়াবহ আইনি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে আসা বাস্তুচ্যুত মানুষের ঢলের সময় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দেওয়া ত্রাণের আশায় তারা লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। অভাবের তাড়নায় চাল-ডাল-তেলের এক প্যাকেট ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা না বুঝেই বায়োমেট্রিক মেশিনে আঙুলের ছাপ দিয়েছিলেন। সেই মুহূর্তের সামান্য অসতর্কতা আজ তাদের জন্য স্থায়ী আইনি ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক ডাটাবেজে তাদের পরিচয় এখন ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে গেছে।

ভুক্তভোগী এসব মানুষ এখন পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা মৌলিক নাগরিক সুবিধা পেতে গিয়ে চরম বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। উখিয়ার এক দুর্গম গ্রামের ৬৫ বছর বয়সি এক দিনমজুর জানান, সে সময় খিদের জ্বালায় ছোট সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে তারা লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। তারা জানতেন না যে ছবি তোলা ও আঙুলের ছাপ দেওয়ার এই প্রক্রিয়া তাদের আজীবনের জন্য ভিনদেশি পরিচয়ে আটকে ফেলবে।

এমনই এক ভুক্তভোগী টেকনাফের নয়াপাড়া শিলখালী গ্রামের ৪৬ বছর বয়সি ছেনুয়ারা বেগম। জন্মসূত্রে বাংলাদেশি এবং এনআইডি থাকা সত্ত্বেও ২০১৭ সালে ত্রাণ কার্ডের জন্য নিবন্ধন করতে গিয়ে তার নাম ডাটাবেজে ‘রহিমা’ হিসেবে উঠে যায়। একই রকম করুণ পরিস্থিতির শিকার উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১১ বছরের শিশু গুরায়া (গুরা)। চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, শিশুটি না বুঝে খেলার ছলে ত্রাণ নিতে গিয়ে আঙুলের ছাপ দিয়েছিল, যার ফলে এখন তার ভবিষ্যৎ অন্ধকার। শুধু তার এলাকা থেকেই ৭০ জনের বেশি মানুষ এই সমস্যার সমাধান চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি জানান, উখিয়া-টেকনাফের ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিরক্ষরতা ও দারিদ্র্যের কারণে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। আন্তর্জাতিক ডাটাবেজ থেকে নাম বাদ দেওয়া অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ। অনেক ভুক্তভোগী রোহিঙ্গা নারী বিয়ে করে ভাসানচরেও চলে গেছেন বলে তিনি জানান। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আরআরআরসির সঙ্গে বৈঠকে একটি কার্যকর সমাধান বের করার চেষ্টা চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা

ত্রাণের আশায় আঙুলের ছাপ দিয়ে ‘রোহিঙ্গা’ পরিচয় সংকটে ৫ শতাধিক বাংলাদেশি

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:১৪:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপকূলের চরম দারিদ্র্যপীড়িত অন্তত ৫ শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিক বর্তমানে এক ভয়াবহ আইনি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে আসা বাস্তুচ্যুত মানুষের ঢলের সময় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দেওয়া ত্রাণের আশায় তারা লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। অভাবের তাড়নায় চাল-ডাল-তেলের এক প্যাকেট ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা না বুঝেই বায়োমেট্রিক মেশিনে আঙুলের ছাপ দিয়েছিলেন। সেই মুহূর্তের সামান্য অসতর্কতা আজ তাদের জন্য স্থায়ী আইনি ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক ডাটাবেজে তাদের পরিচয় এখন ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে গেছে।

ভুক্তভোগী এসব মানুষ এখন পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা মৌলিক নাগরিক সুবিধা পেতে গিয়ে চরম বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। উখিয়ার এক দুর্গম গ্রামের ৬৫ বছর বয়সি এক দিনমজুর জানান, সে সময় খিদের জ্বালায় ছোট সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে তারা লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। তারা জানতেন না যে ছবি তোলা ও আঙুলের ছাপ দেওয়ার এই প্রক্রিয়া তাদের আজীবনের জন্য ভিনদেশি পরিচয়ে আটকে ফেলবে।

এমনই এক ভুক্তভোগী টেকনাফের নয়াপাড়া শিলখালী গ্রামের ৪৬ বছর বয়সি ছেনুয়ারা বেগম। জন্মসূত্রে বাংলাদেশি এবং এনআইডি থাকা সত্ত্বেও ২০১৭ সালে ত্রাণ কার্ডের জন্য নিবন্ধন করতে গিয়ে তার নাম ডাটাবেজে ‘রহিমা’ হিসেবে উঠে যায়। একই রকম করুণ পরিস্থিতির শিকার উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১১ বছরের শিশু গুরায়া (গুরা)। চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, শিশুটি না বুঝে খেলার ছলে ত্রাণ নিতে গিয়ে আঙুলের ছাপ দিয়েছিল, যার ফলে এখন তার ভবিষ্যৎ অন্ধকার। শুধু তার এলাকা থেকেই ৭০ জনের বেশি মানুষ এই সমস্যার সমাধান চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি জানান, উখিয়া-টেকনাফের ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিরক্ষরতা ও দারিদ্র্যের কারণে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। আন্তর্জাতিক ডাটাবেজ থেকে নাম বাদ দেওয়া অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ। অনেক ভুক্তভোগী রোহিঙ্গা নারী বিয়ে করে ভাসানচরেও চলে গেছেন বলে তিনি জানান। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আরআরআরসির সঙ্গে বৈঠকে একটি কার্যকর সমাধান বের করার চেষ্টা চলছে।