লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি বসাতে তীব্র প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া

চাঁদে স্থায়ী মানববসতি স্থাপন এবং মহাকাশ গবেষণার জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো। এই লক্ষ্য অর্জনে চাঁদের বুকে পারমাণবিক চুল্লি বা নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর বসানোর তীব্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবিষ্যতে মহাকাশ মিশনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নাসা ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে পরমাণু চুল্লি পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। অন্যদিকে, মস্কো ও বেইজিং যৌথভাবে ২০৩৬ সালের মধ্যে 'সেলেনা' নামের একটি পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

চাঁদে সৌরশক্তির ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদী গবেষণার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সেখানে টানা দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে রাত থাকে, যে সময়ে চরম ঠান্ডা ও অন্ধকারে স্থায়ী ঘাঁটির কার্যক্রম সচল রাখতে পরমাণু শক্তির বিকল্প নেই। নাসা তাদের প্রস্তাবিত ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার 'লুনার রিঅ্যাক্টর-১' চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বসাতে চায়, যা কোনো রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই টানা পাঁচ বছর সক্রিয় থাকবে। বিপরীতে চীন-রাশিয়া যৌথ উদ্যোগের ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার 'সেলেনা' চুল্লিটি টানা এক দশক ধরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।

তবে চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের এই তাড়াহুড়ো নিয়ে বিজ্ঞানীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রকেট উৎক্ষেপণের সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে মহাকাশে বা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া চাঁদের মতো প্রতিকূল পরিবেশে এসব চুল্লির সুরক্ষা নিশ্চিত করাও প্রযুক্তিগতভাবে বেশ কঠিন।

এই স্থাপনাগুলোকে কেন্দ্র করে চাঁদের ভূখণ্ড নিয়ে নতুন ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। ১৯৬৭ সালের 'আউটার স্পেস ট্রিটি' অনুযায়ী কোনো দেশ চাঁদের কোনো অংশের ওপর একক মালিকানা দাবি করতে পারে না। তবে পারমাণবিক সুরক্ষার অজুহাতে যদি কোনো দেশ নিজস্ব চুল্লির চারপাশে 'নিষিদ্ধ বা সংরক্ষিত এলাকা' ঘোষণা করে, তবে তা অন্য দেশের নভোচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এই আশঙ্কার কারণে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও বেশি জোর দিচ্ছে, যা মহাকাশে নতুন করে বিভাজন তৈরি করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাগুরায় ৮ হাজার ইয়াবাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী আটক

চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি বসাতে তীব্র প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩২:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

চাঁদে স্থায়ী মানববসতি স্থাপন এবং মহাকাশ গবেষণার জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো। এই লক্ষ্য অর্জনে চাঁদের বুকে পারমাণবিক চুল্লি বা নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর বসানোর তীব্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবিষ্যতে মহাকাশ মিশনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নাসা ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে পরমাণু চুল্লি পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। অন্যদিকে, মস্কো ও বেইজিং যৌথভাবে ২০৩৬ সালের মধ্যে 'সেলেনা' নামের একটি পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

চাঁদে সৌরশক্তির ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদী গবেষণার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সেখানে টানা দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে রাত থাকে, যে সময়ে চরম ঠান্ডা ও অন্ধকারে স্থায়ী ঘাঁটির কার্যক্রম সচল রাখতে পরমাণু শক্তির বিকল্প নেই। নাসা তাদের প্রস্তাবিত ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার 'লুনার রিঅ্যাক্টর-১' চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বসাতে চায়, যা কোনো রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই টানা পাঁচ বছর সক্রিয় থাকবে। বিপরীতে চীন-রাশিয়া যৌথ উদ্যোগের ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার 'সেলেনা' চুল্লিটি টানা এক দশক ধরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।

তবে চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের এই তাড়াহুড়ো নিয়ে বিজ্ঞানীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রকেট উৎক্ষেপণের সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে মহাকাশে বা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া চাঁদের মতো প্রতিকূল পরিবেশে এসব চুল্লির সুরক্ষা নিশ্চিত করাও প্রযুক্তিগতভাবে বেশ কঠিন।

এই স্থাপনাগুলোকে কেন্দ্র করে চাঁদের ভূখণ্ড নিয়ে নতুন ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। ১৯৬৭ সালের 'আউটার স্পেস ট্রিটি' অনুযায়ী কোনো দেশ চাঁদের কোনো অংশের ওপর একক মালিকানা দাবি করতে পারে না। তবে পারমাণবিক সুরক্ষার অজুহাতে যদি কোনো দেশ নিজস্ব চুল্লির চারপাশে 'নিষিদ্ধ বা সংরক্ষিত এলাকা' ঘোষণা করে, তবে তা অন্য দেশের নভোচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এই আশঙ্কার কারণে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও বেশি জোর দিচ্ছে, যা মহাকাশে নতুন করে বিভাজন তৈরি করছে।