লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গত সাত মাসে দেশে বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত হয়েছে: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার গত সাত মাসে দেশে অভূতপূর্ব বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক মানবাধিকার নিশ্চিত করেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক সরকার ব্যবস্থা’ শীর্ষক এক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদ পরবর্তী সময়ে পুঞ্জীভূত সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা কঠিন। তবে গত সাত মাসের বাস্তব চিত্র হলো, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় মদদে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও দাবি করেন, আজকের এই মুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ফসল। ফ্যাসিবাদী আমলে কেবল বিএনপিরই ৬০ লক্ষাধিক নেতাকর্মী মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, হাজার হাজার সহযোদ্ধা গুম ও শহীদ হয়েছেন। গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেই এই কঠিন আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এ সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া বিরোধী মত ও আদর্শ দমনে রাষ্ট্রীয় কোনো হস্তক্ষেপ করা হয়নি।

তিনি স্পষ্ট করেন, অতীতে রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিরোধী মতের মানুষের তালিকা তৈরি করে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হতো, যা বর্তমান সরকার বন্ধ করেছে। বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে বিচ্ছিন্ন কোনো প্রশাসনিক ভুল বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সরকার দ্রুত তার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করছে। তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে দমন-নিপীড়নের সংস্কৃতি ভেঙে প্রান্তিক মানুষের অভিযোগকে মূল্যায়ন করাই সরকারের ইতিবাচক পরিবর্তন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, এটি নির্দিষ্ট কোনো দলের আন্দোলন ছিল না, বরং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত প্রয়াস ছিল। সরকার এই গণঅভ্যুত্থানের আদর্শ ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা বজায় রেখেছে। এছাড়া বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশগুলো দ্রুত আইনে রূপান্তর করা হয়েছে এবং আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, সংবিধানের অপব্যাখ্যা দিয়ে অতীতে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার আইনের অক্ষরের চেয়ে তার মানবিক প্রয়োগ নিশ্চিত করাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে বিএনপির ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ বারবার গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরেছে।

এই আলোচনায় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের পরিচালনায় অংশ নেন ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির, ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী ও তরুণ রাজনীতিক তাসনিম জারা। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি ও তরুণরা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগকে এ দেশে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গত সাত মাসে দেশে বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত হয়েছে: মাহদী আমিন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩১:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার গত সাত মাসে দেশে অভূতপূর্ব বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক মানবাধিকার নিশ্চিত করেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক সরকার ব্যবস্থা’ শীর্ষক এক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদ পরবর্তী সময়ে পুঞ্জীভূত সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা কঠিন। তবে গত সাত মাসের বাস্তব চিত্র হলো, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় মদদে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও দাবি করেন, আজকের এই মুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ফসল। ফ্যাসিবাদী আমলে কেবল বিএনপিরই ৬০ লক্ষাধিক নেতাকর্মী মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, হাজার হাজার সহযোদ্ধা গুম ও শহীদ হয়েছেন। গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেই এই কঠিন আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এ সময়ে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া বিরোধী মত ও আদর্শ দমনে রাষ্ট্রীয় কোনো হস্তক্ষেপ করা হয়নি।

তিনি স্পষ্ট করেন, অতীতে রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিরোধী মতের মানুষের তালিকা তৈরি করে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হতো, যা বর্তমান সরকার বন্ধ করেছে। বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে বিচ্ছিন্ন কোনো প্রশাসনিক ভুল বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সরকার দ্রুত তার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করছে। তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে দমন-নিপীড়নের সংস্কৃতি ভেঙে প্রান্তিক মানুষের অভিযোগকে মূল্যায়ন করাই সরকারের ইতিবাচক পরিবর্তন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, এটি নির্দিষ্ট কোনো দলের আন্দোলন ছিল না, বরং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত প্রয়াস ছিল। সরকার এই গণঅভ্যুত্থানের আদর্শ ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা বজায় রেখেছে। এছাড়া বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশগুলো দ্রুত আইনে রূপান্তর করা হয়েছে এবং আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, সংবিধানের অপব্যাখ্যা দিয়ে অতীতে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার আইনের অক্ষরের চেয়ে তার মানবিক প্রয়োগ নিশ্চিত করাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে বিএনপির ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ বারবার গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরেছে।

এই আলোচনায় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের পরিচালনায় অংশ নেন ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির, ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী ও তরুণ রাজনীতিক তাসনিম জারা। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি ও তরুণরা উপস্থিত ছিলেন।