লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, সব শ্রেণি-পেশার গণমানুষ ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত অংশগ্রহণে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ফল উৎসব-২০২৬’-এর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ঐতিহাসিক ১৬ জুলাই উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের শুরুতে মাহদী আমিন শহিদ আবু সাঈদ ও শহিদ ওয়াসিম আকরামসহ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে প্রাণ হারানো সবার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের লক্ষ্যে সেদিন শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল। বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি দিনমজুর, হকার, রিকশাচালক, গার্মেন্টস শ্রমিক, কৃষক এবং প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা এই আন্দোলনে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে মায়েরা তাদের সন্তানদের বাঁচাতে ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, যা পুরো জাতিকে চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

মাহদী আমিন আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, যেখানে সামাজিক ন্যায্যতা নিশ্চিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদ পরবর্তী বাংলাদেশে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। গত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে বিএনপি সবচেয়ে বেশি গুম, খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে। যেহেতু বিএনপি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল, আমাদের ৬০ লক্ষ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছিল। এ সময় তিনি জানান, গণঅভ্যুত্থানে দলটির ৪০০-এর বেশি নেতাকর্মী শহিদ হয়েছেন এবং ছাত্রদলের ১৪০ জনের বেশি কর্মী প্রাণ দিয়েছেন।

তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভূমিকার প্রশংসা করে উপদেষ্টা বলেন, ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সূচনালগ্ন থেকেই তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর ও তাদের ঢাল হিসেবে কাজ করার স্পষ্ট নির্দেশনা দেন। তার দূরদর্শী রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ও জাতীয় ঐক্যের ডাক গণঅভ্যুত্থানকে সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

প্রবাসীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের সময় প্রবাসীরাই আন্তর্জাতিক কণ্ঠস্বর হিসেবে বিশ্ব দরবারে স্বৈরাচারের নির্মমতার চিত্র তুলে ধরেছেন। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রোপাগান্ডা রুখে দিতে এবং জনমত গঠনে ডিজিটাল ফ্রন্টে লড়াই করেছেন। অনুষ্ঠানে ডিআরইউ-এর সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলামসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক মসজিদের দানবাক্সে ৬ মাসে মিলল ১০ লাখ টাকা

সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে: মাহদী আমিন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:১৬:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, সব শ্রেণি-পেশার গণমানুষ ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত অংশগ্রহণে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ফল উৎসব-২০২৬’-এর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ঐতিহাসিক ১৬ জুলাই উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের শুরুতে মাহদী আমিন শহিদ আবু সাঈদ ও শহিদ ওয়াসিম আকরামসহ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে প্রাণ হারানো সবার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের লক্ষ্যে সেদিন শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল। বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের পাশাপাশি দিনমজুর, হকার, রিকশাচালক, গার্মেন্টস শ্রমিক, কৃষক এবং প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা এই আন্দোলনে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে মায়েরা তাদের সন্তানদের বাঁচাতে ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, যা পুরো জাতিকে চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।

মাহদী আমিন আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, যেখানে সামাজিক ন্যায্যতা নিশ্চিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদ পরবর্তী বাংলাদেশে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। গত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে বিএনপি সবচেয়ে বেশি গুম, খুন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে। যেহেতু বিএনপি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল, আমাদের ৬০ লক্ষ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছিল। এ সময় তিনি জানান, গণঅভ্যুত্থানে দলটির ৪০০-এর বেশি নেতাকর্মী শহিদ হয়েছেন এবং ছাত্রদলের ১৪০ জনের বেশি কর্মী প্রাণ দিয়েছেন।

তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভূমিকার প্রশংসা করে উপদেষ্টা বলেন, ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সূচনালগ্ন থেকেই তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর ও তাদের ঢাল হিসেবে কাজ করার স্পষ্ট নির্দেশনা দেন। তার দূরদর্শী রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ও জাতীয় ঐক্যের ডাক গণঅভ্যুত্থানকে সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

প্রবাসীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের সময় প্রবাসীরাই আন্তর্জাতিক কণ্ঠস্বর হিসেবে বিশ্ব দরবারে স্বৈরাচারের নির্মমতার চিত্র তুলে ধরেছেন। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রোপাগান্ডা রুখে দিতে এবং জনমত গঠনে ডিজিটাল ফ্রন্টে লড়াই করেছেন। অনুষ্ঠানে ডিআরইউ-এর সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলামসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।