লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুয়ালালামপুরে জাল নথি চক্রে ২৭ বাংলাদেশি আটক, জব্দ ১০ পাসপোর্ট

বিদেশি শ্রমিকদের জন্য জাল নথি তৈরির একটি চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মালয়েশিয়ায় ২৭ বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আটকদের মধ্যে ১০ বাংলাদেশি পুরুষ ও এক নারীকে ওই জালিয়াত চক্রের হোতা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইলের বরাতে মালয় মেইল জানিয়েছে, সোমবার কুয়ালালামপুরের জালান চান সো লিন বাণিজ্যিক এলাকার ১১টি স্থানে একযোগে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

অভিযানে আটক ২৭ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে বিদেশি শ্রমিকদের জন্য নথি জাল করার কথিত চক্র পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। বাকি ১৬ বাংলাদেশিকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও তিন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে, যাদের একজন মিয়ানমারের এবং দুজন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক।

‘অপস সেরকাপ’ নামে পরিচালিত এই অভিযানে ১৮টি ল্যাপটপ, ২১টি প্রিন্টার ও স্ক্যানার, তিনটি মোবাইল ফোন এবং ১০টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, অভিযানে জাল অস্থায়ী কর্মসংস্থান পাসের কপি এবং ভুয়া পুলিশ প্রতিবেদনও পাওয়া গেছে।

সাইফুদ্দিন বলেন, প্রতিটি জাল কর্মসংস্থান পাস ১৫০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত এবং ভুয়া পুলিশ প্রতিবেদন ৭০ রিঙ্গিতে বিক্রি করা হতো। বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কারসাজি এবং নথি জাল করার সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করছে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ বলেও জানান তিনি।

এমন এক সময়ে এই অভিযান চালানো হচ্ছে, যখন বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খোলার আলোচনা গতি পেয়েছে। অনিয়ম ও শ্রম শোষণের অভিযোগের মধ্যে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল মালয়েশিয়া। এরপর দুই দেশ শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা শুরু করে।

সম্প্রতি মালয়েশিয়া আরও ৩১২টি বাংলাদেশি এজেন্সিকে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটিং এজেন্সি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এর আগে দেশটির বিদেশি কর্মী নিয়োগের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার আওতায় ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডকে (বোয়েসেল) অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগে গত জুলাইয়ে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করে বাংলাদেশ।

দুর্নীতি দমন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এসব এজেন্সি ২ লাখ ৬৭ হাজার ২৭৬ জন কর্মীকে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছিল। তারা কর্মীদের কাছ থেকে সরকারি নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে অর্থ নিয়ে ৪ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর্মীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ব্যয়ের পাঁচ গুণ অর্থ নেওয়ারও অভিযোগ পেয়েছে দুদক।

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজায় ভবন ধসে নিহত ২০, ধ্বংসস্তূপে আটকা বহু

কুয়ালালামপুরে জাল নথি চক্রে ২৭ বাংলাদেশি আটক, জব্দ ১০ পাসপোর্ট

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩১:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদেশি শ্রমিকদের জন্য জাল নথি তৈরির একটি চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মালয়েশিয়ায় ২৭ বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আটকদের মধ্যে ১০ বাংলাদেশি পুরুষ ও এক নারীকে ওই জালিয়াত চক্রের হোতা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইলের বরাতে মালয় মেইল জানিয়েছে, সোমবার কুয়ালালামপুরের জালান চান সো লিন বাণিজ্যিক এলাকার ১১টি স্থানে একযোগে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

অভিযানে আটক ২৭ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে বিদেশি শ্রমিকদের জন্য নথি জাল করার কথিত চক্র পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। বাকি ১৬ বাংলাদেশিকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও তিন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে, যাদের একজন মিয়ানমারের এবং দুজন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক।

‘অপস সেরকাপ’ নামে পরিচালিত এই অভিযানে ১৮টি ল্যাপটপ, ২১টি প্রিন্টার ও স্ক্যানার, তিনটি মোবাইল ফোন এবং ১০টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, অভিযানে জাল অস্থায়ী কর্মসংস্থান পাসের কপি এবং ভুয়া পুলিশ প্রতিবেদনও পাওয়া গেছে।

সাইফুদ্দিন বলেন, প্রতিটি জাল কর্মসংস্থান পাস ১৫০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত এবং ভুয়া পুলিশ প্রতিবেদন ৭০ রিঙ্গিতে বিক্রি করা হতো। বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কারসাজি এবং নথি জাল করার সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করছে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ বলেও জানান তিনি।

এমন এক সময়ে এই অভিযান চালানো হচ্ছে, যখন বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খোলার আলোচনা গতি পেয়েছে। অনিয়ম ও শ্রম শোষণের অভিযোগের মধ্যে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল মালয়েশিয়া। এরপর দুই দেশ শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা শুরু করে।

সম্প্রতি মালয়েশিয়া আরও ৩১২টি বাংলাদেশি এজেন্সিকে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটিং এজেন্সি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এর আগে দেশটির বিদেশি কর্মী নিয়োগের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার আওতায় ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডকে (বোয়েসেল) অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগে গত জুলাইয়ে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করে বাংলাদেশ।

দুর্নীতি দমন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এসব এজেন্সি ২ লাখ ৬৭ হাজার ২৭৬ জন কর্মীকে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছিল। তারা কর্মীদের কাছ থেকে সরকারি নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে অর্থ নিয়ে ৪ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর্মীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ব্যয়ের পাঁচ গুণ অর্থ নেওয়ারও অভিযোগ পেয়েছে দুদক।