লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জের যমুনা চরে মাশকলাই চাষে লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা

যমুনা নদীবিধৌত সিরাজগঞ্জের কৃষকেরা এখন মাশকলাই চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত বছর এই ফসল চাষে ভালো মুনাফা পাওয়ায় এবার কৃষকদের মাঝে মাশকলাই চাষের আগ্রহ বহুগুণ বেড়েছে। প্রতিবছর যমুনা ভাঙনের ফলে কাজিপুর উপজেলার হাজার হাজার একর আবাদি জমি বন্যার কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা কৃষকদের অসহায় করে তোলে। তবে এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ হিসেবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পরামর্শে তারা এখন মাশকলাই চাষে মনোনিবেশ করেছেন।

নদীপাড়ের উর্বর মাটিতে আদিকালের চাষ পদ্ধতি পরিহার করে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় মাশকলাই চাষে লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা। বর্তমানে যমুনার পূর্বপারের বিশাল চরজুড়ে দিগন্তজোড়া মাশকলাইয়ের সবুজ সমারোহ দেখা যাচ্ছে। সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার ৯টি উপজেলায় ৬ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে মাশকলাই চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে কৃষকেরা ইতিমধ্যে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বীজ রোপণ সম্পন্ন করেছেন।

বন্যা পরবর্তী সময়ে মাশকলাই চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সাধারণত বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর জুলাই ও আগস্ট মাসে এই ফসলের বীজ রোপণ করা হয়। বিশেষ করে চরাঞ্চলের ছয়টি ইউনিয়নে এই ফসল বেশি উৎপাদিত হয়। মনসুরনগর ইউনিয়নের চাষি সবুর মিয়া জানান, এবার দুই বিঘা জমিতে মাশকলাই চাষ করেছেন তিনি। তার মতে, এই ফসলে সার ও পানির খরচ খুবই কম কিন্তু লাভের পরিমাণ বেশি। ছরগিরিশ এলাকার চাষি হান্নান নিজের তিন বিঘা জমির পাশাপাশি আরও এক বিঘা জমি বর্গা নিয়ে মাশকলাই চাষ করেছেন এবং নিয়মিত কৃষি বিভাগের পরামর্শ পাচ্ছেন। এছাড়া তেকানীর চাষি জামাল উদ্দিন জানান, মাশকলাই আবাদের পর ধান চাষ করলে ফলন ভালো হয়। বন্যার পর পতিত জমিতে কলাই চাষ করে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতি বিঘায় ৫ থেকে ৭ মন পর্যন্ত মাশকলাই পাওয়া সম্ভব বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।

কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম জানান, কৃষকদের অধিক লাভবান করতে কৃষি অফিস সর্বদা পাশে আছে। ফলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারিভাবে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে এবং নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ, কে, এম, মনজুরে মাওলা বলেন, কাজিপুর, চৌহালী ও সিরাজগঞ্জ সদরসহ পুরো জেলায় ৬ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে মাশকলাই আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল এবং কৃষকদের সরকারিভাবে প্রণোদনাও দেওয়া হয়েছে। তবে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা ব্যাহত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ছরগিরিশের চাষি হান্নান বলেন, নিজের তিন বিঘার পাশাপাশি আরও ১ বিঘা বর্গা নিয়ে মাশকলাই লাগিয়েছি।

প্রতি বিঘায় ৫-৭ মন পর্যন্ত মাশকলাই পাওয়া যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েলি নির্বাচনে নেতানিয়াহুর পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিলেন না ট্রাম্প

সিরাজগঞ্জের যমুনা চরে মাশকলাই চাষে লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৩১:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

যমুনা নদীবিধৌত সিরাজগঞ্জের কৃষকেরা এখন মাশকলাই চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত বছর এই ফসল চাষে ভালো মুনাফা পাওয়ায় এবার কৃষকদের মাঝে মাশকলাই চাষের আগ্রহ বহুগুণ বেড়েছে। প্রতিবছর যমুনা ভাঙনের ফলে কাজিপুর উপজেলার হাজার হাজার একর আবাদি জমি বন্যার কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা কৃষকদের অসহায় করে তোলে। তবে এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ হিসেবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের পরামর্শে তারা এখন মাশকলাই চাষে মনোনিবেশ করেছেন।

নদীপাড়ের উর্বর মাটিতে আদিকালের চাষ পদ্ধতি পরিহার করে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় মাশকলাই চাষে লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা। বর্তমানে যমুনার পূর্বপারের বিশাল চরজুড়ে দিগন্তজোড়া মাশকলাইয়ের সবুজ সমারোহ দেখা যাচ্ছে। সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার ৯টি উপজেলায় ৬ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে মাশকলাই চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে কৃষকেরা ইতিমধ্যে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বীজ রোপণ সম্পন্ন করেছেন।

বন্যা পরবর্তী সময়ে মাশকলাই চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সাধারণত বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর জুলাই ও আগস্ট মাসে এই ফসলের বীজ রোপণ করা হয়। বিশেষ করে চরাঞ্চলের ছয়টি ইউনিয়নে এই ফসল বেশি উৎপাদিত হয়। মনসুরনগর ইউনিয়নের চাষি সবুর মিয়া জানান, এবার দুই বিঘা জমিতে মাশকলাই চাষ করেছেন তিনি। তার মতে, এই ফসলে সার ও পানির খরচ খুবই কম কিন্তু লাভের পরিমাণ বেশি। ছরগিরিশ এলাকার চাষি হান্নান নিজের তিন বিঘা জমির পাশাপাশি আরও এক বিঘা জমি বর্গা নিয়ে মাশকলাই চাষ করেছেন এবং নিয়মিত কৃষি বিভাগের পরামর্শ পাচ্ছেন। এছাড়া তেকানীর চাষি জামাল উদ্দিন জানান, মাশকলাই আবাদের পর ধান চাষ করলে ফলন ভালো হয়। বন্যার পর পতিত জমিতে কলাই চাষ করে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতি বিঘায় ৫ থেকে ৭ মন পর্যন্ত মাশকলাই পাওয়া সম্ভব বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।

কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম জানান, কৃষকদের অধিক লাভবান করতে কৃষি অফিস সর্বদা পাশে আছে। ফলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারিভাবে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে এবং নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ, কে, এম, মনজুরে মাওলা বলেন, কাজিপুর, চৌহালী ও সিরাজগঞ্জ সদরসহ পুরো জেলায় ৬ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে মাশকলাই আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল এবং কৃষকদের সরকারিভাবে প্রণোদনাও দেওয়া হয়েছে। তবে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা ব্যাহত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ছরগিরিশের চাষি হান্নান বলেন, নিজের তিন বিঘার পাশাপাশি আরও ১ বিঘা বর্গা নিয়ে মাশকলাই লাগিয়েছি।

প্রতি বিঘায় ৫-৭ মন পর্যন্ত মাশকলাই পাওয়া যায়।