লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্পেনের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখা মিকেল মেরিনো এখন আস্থার প্রতীক

একটি মাত্র গোল কখনো কখনো পুরো দলের ভাগ্য বদলে দেয়, আর পর্তুগালের বিপক্ষে স্পেনের ম্যাচে মিকেল মেরিনো ঠিক তেমন একটি মুহূর্তের জন্ম দিয়েছেন। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা সময়ে তাঁর করা একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় স্পেন, যা নিশ্চিত করে লা রোজাদের কোয়ার্টার ফাইনাল যাত্রা এবং বিদায় ঘটায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পর্তুগালের। এই গোলটি মেরিনোকে কেবল ম্যাচের নায়কই করেনি, বরং স্পেনের বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্নকেও বাঁচিয়ে রেখেছে।

১৯৯৬ সালের ২২ জুন স্পেনের নাভারা অঞ্চলের পাম্পলোনায় জন্মগ্রহণ করেন মিকেল মেরিনো। পেশাদার ফুটবলার বাবা মিগেল মেরিনোর হাত ধরেই ফুটবলের সঙ্গে তাঁর সখ্যতা গড়ে ওঠে। ওসাসুনা একাডেমিতে স্বপ্নের ভিত্তি গড়ার পর তিনি জার্মানির বরুসিয়া ডর্টমুন্ড এবং ইংল্যান্ডের নিউক্যাসল ইউনাইটেডে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। রিয়াল সোসিয়েদাদে থাকাকালীন তিনি নিজেকে স্পেনের অন্যতম সেরা বক্স-টু-বক্স মিডফিল্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন, যার ধারাবাহিকতায় তিনি আর্সেনালে যোগ দেন। ইংল্যান্ডেও তিনি তাঁর পরিশ্রম, বল নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণ-রক্ষণে দক্ষতার মাধ্যমে দ্রুত সমর্থকদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

স্পেনের বয়সভিত্তিক দল পেরিয়ে সিনিয়র জাতীয় দলেও তিনি এখন মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা। তাঁর মাঠে উপস্থিতি মানেই দলের বাড়তি ভারসাম্য, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস। আকাশে বল দখলের সক্ষমতা, নিখুঁত পাস এবং দূরপাল্লার শট নেওয়ার ক্ষমতার কারণে তাঁকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম পরিপূর্ণ মিডফিল্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ঐতিহাসিক জয়ের পর মেরিনো নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের মুহূর্তের জন্যই ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখা হয়। তিনি আরও বলেন, পর্তুগালের মতো শক্তিশালী দলকে হারাতে হলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস ধরে রাখা জরুরি, যা তাঁদের জয় এনে দিয়েছে। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে মেরিনোর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, তিনি কখনো আলো দাবি করেন না কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সবসময় সামনে এসে দাঁড়ান। সতীর্থ পেদ্রির মতে, মেরিনো দলের ভারসাম্য রক্ষা করেন এবং তাঁর উপস্থিতিতে অন্য খেলোয়াড়রা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলতে পারেন।

মাঠের বাইরে মেরিনো অত্যন্ত শান্ত ও বিনয়ী স্বভাবের। প্রচারের ঝলকানির চেয়ে কঠোর অনুশীলন এবং নিজেকে উন্নত করার ওপরই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তার চেয়ে ফুটবল মাঠেই নিজের পরিচয় গড়তে বিশ্বাসী এই খেলোয়াড় স্পেনের বিশ্বকাপ অভিযানে কেবল একজন মিডফিল্ডার নন, বরং আস্থার প্রতীক ও বিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

স্পেনের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখা মিকেল মেরিনো এখন আস্থার প্রতীক

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:২১:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

একটি মাত্র গোল কখনো কখনো পুরো দলের ভাগ্য বদলে দেয়, আর পর্তুগালের বিপক্ষে স্পেনের ম্যাচে মিকেল মেরিনো ঠিক তেমন একটি মুহূর্তের জন্ম দিয়েছেন। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা সময়ে তাঁর করা একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় স্পেন, যা নিশ্চিত করে লা রোজাদের কোয়ার্টার ফাইনাল যাত্রা এবং বিদায় ঘটায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পর্তুগালের। এই গোলটি মেরিনোকে কেবল ম্যাচের নায়কই করেনি, বরং স্পেনের বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্নকেও বাঁচিয়ে রেখেছে।

১৯৯৬ সালের ২২ জুন স্পেনের নাভারা অঞ্চলের পাম্পলোনায় জন্মগ্রহণ করেন মিকেল মেরিনো। পেশাদার ফুটবলার বাবা মিগেল মেরিনোর হাত ধরেই ফুটবলের সঙ্গে তাঁর সখ্যতা গড়ে ওঠে। ওসাসুনা একাডেমিতে স্বপ্নের ভিত্তি গড়ার পর তিনি জার্মানির বরুসিয়া ডর্টমুন্ড এবং ইংল্যান্ডের নিউক্যাসল ইউনাইটেডে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। রিয়াল সোসিয়েদাদে থাকাকালীন তিনি নিজেকে স্পেনের অন্যতম সেরা বক্স-টু-বক্স মিডফিল্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন, যার ধারাবাহিকতায় তিনি আর্সেনালে যোগ দেন। ইংল্যান্ডেও তিনি তাঁর পরিশ্রম, বল নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণ-রক্ষণে দক্ষতার মাধ্যমে দ্রুত সমর্থকদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।

স্পেনের বয়সভিত্তিক দল পেরিয়ে সিনিয়র জাতীয় দলেও তিনি এখন মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা। তাঁর মাঠে উপস্থিতি মানেই দলের বাড়তি ভারসাম্য, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস। আকাশে বল দখলের সক্ষমতা, নিখুঁত পাস এবং দূরপাল্লার শট নেওয়ার ক্ষমতার কারণে তাঁকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম পরিপূর্ণ মিডফিল্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ঐতিহাসিক জয়ের পর মেরিনো নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের মুহূর্তের জন্যই ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখা হয়। তিনি আরও বলেন, পর্তুগালের মতো শক্তিশালী দলকে হারাতে হলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস ধরে রাখা জরুরি, যা তাঁদের জয় এনে দিয়েছে। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে মেরিনোর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, তিনি কখনো আলো দাবি করেন না কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সবসময় সামনে এসে দাঁড়ান। সতীর্থ পেদ্রির মতে, মেরিনো দলের ভারসাম্য রক্ষা করেন এবং তাঁর উপস্থিতিতে অন্য খেলোয়াড়রা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলতে পারেন।

মাঠের বাইরে মেরিনো অত্যন্ত শান্ত ও বিনয়ী স্বভাবের। প্রচারের ঝলকানির চেয়ে কঠোর অনুশীলন এবং নিজেকে উন্নত করার ওপরই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তার চেয়ে ফুটবল মাঠেই নিজের পরিচয় গড়তে বিশ্বাসী এই খেলোয়াড় স্পেনের বিশ্বকাপ অভিযানে কেবল একজন মিডফিল্ডার নন, বরং আস্থার প্রতীক ও বিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছেন।