লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদ্রাসার গভর্নিং বডি বাতিলের প্রজ্ঞাপন স্থগিত করলেন হাইকোর্ট

সারা দেশের ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি বাতিল সংক্রান্ত ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই প্রজ্ঞাপনটি কেন অবৈধ ও অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি চার সপ্তাহের রুল জারি করা হয়েছে। সোমবার বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতের এই স্থগিতাদেশের পর সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রিটকারী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেন বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, ভোলা জেলার চরফ্যাশন কারামতিয়া কামিল মাদ্রাসার সভাপতির দায়ের করা একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এই আদেশ দেন। রিটটি ওই হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় ৩৬ নম্বর আইটেম হিসেবে শুনানির জন্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মামলার পটভূমি উল্লেখ করে রিটকারীর আইনজীবী জানান, গত ১৯শে অক্টোবর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের সব ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি একযোগে বাতিল করেছিল ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় (ইআবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এ. কে. মুহা. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয়েছিল যে, গত ১৫ই অক্টোবর অনুষ্ঠিত ৪৩তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

হাইকোর্টে শুনানিকালে রিটের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেন বলেন, মাদ্রাসাগুলোর গভর্নিং বডি গঠন ও বাতিলের একটি সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া এবং বিধিবিধান রয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান বা কমিটি আইনের ব্যত্যয় ঘটালে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া ও যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার কর্তৃপক্ষের রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে কোনো জরুরি অবস্থা বিদ্যমান না থাকা সত্ত্বেও কোনো প্রকার নোটিশ বা তদন্ত ছাড়া হঠাৎ এক চিঠিতে সারা দেশের গভর্নিং বডিগুলো ঢালাওভাবে বাতিল করা সম্পূর্ণ আইনপরিপন্থী।

আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে এক ভিন্ন প্রেক্ষাপট ও জরুরি পরিস্থিতির কারণে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড তৎকালীন কমিটিগুলো বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল। তবে বর্তমান স্বাভাবিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে দেওয়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিদ্বেষমূলক। শুনানি শেষে আদালত যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া প্রতিপালন না করার কারণে প্রজ্ঞাপনটির কার্যকারিতা স্থগিত করেন এবং তা চূড়ান্তভাবে কেন অকার্যকর ও বাতিল করা হবে না, তা নিয়ে চার সপ্তাহের রুল জারি করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৯শে অক্টোবরের বাতিলকৃত ওই অফিস আদেশে নতুন করে অ্যাডহক কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল। ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় সংবিধি-২০২৩ (খ) এর ধারা (১) খ (১), (৩) মোতাবেক সভাপতি হিসেবে জেলা সদরে অবস্থিত মাদ্রাসায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং জেলা সদরের বাইরের মাদ্রাসার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (এডিসি) মনোনয়ন দেওয়া হয়। এছাড়া বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে জেলা পর্যায়ে জেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে মনোনীত করার কথা বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে মাদ্রাসাগুলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ফরমে অ্যাডহক কমিটি অনুমোদনের প্রস্তাব প্রেরণের অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

৫৬ জেলায় তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ লাখ টাকা অর্থায়ন শুরু

মাদ্রাসার গভর্নিং বডি বাতিলের প্রজ্ঞাপন স্থগিত করলেন হাইকোর্ট

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৪৫:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

সারা দেশের ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি বাতিল সংক্রান্ত ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই প্রজ্ঞাপনটি কেন অবৈধ ও অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি চার সপ্তাহের রুল জারি করা হয়েছে। সোমবার বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতের এই স্থগিতাদেশের পর সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রিটকারী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেন বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, ভোলা জেলার চরফ্যাশন কারামতিয়া কামিল মাদ্রাসার সভাপতির দায়ের করা একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এই আদেশ দেন। রিটটি ওই হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় ৩৬ নম্বর আইটেম হিসেবে শুনানির জন্য অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মামলার পটভূমি উল্লেখ করে রিটকারীর আইনজীবী জানান, গত ১৯শে অক্টোবর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের সব ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি একযোগে বাতিল করেছিল ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় (ইআবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এ. কে. মুহা. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয়েছিল যে, গত ১৫ই অক্টোবর অনুষ্ঠিত ৪৩তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

হাইকোর্টে শুনানিকালে রিটের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেন বলেন, মাদ্রাসাগুলোর গভর্নিং বডি গঠন ও বাতিলের একটি সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া এবং বিধিবিধান রয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান বা কমিটি আইনের ব্যত্যয় ঘটালে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া ও যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার কর্তৃপক্ষের রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে কোনো জরুরি অবস্থা বিদ্যমান না থাকা সত্ত্বেও কোনো প্রকার নোটিশ বা তদন্ত ছাড়া হঠাৎ এক চিঠিতে সারা দেশের গভর্নিং বডিগুলো ঢালাওভাবে বাতিল করা সম্পূর্ণ আইনপরিপন্থী।

আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে এক ভিন্ন প্রেক্ষাপট ও জরুরি পরিস্থিতির কারণে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড তৎকালীন কমিটিগুলো বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল। তবে বর্তমান স্বাভাবিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে দেওয়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিদ্বেষমূলক। শুনানি শেষে আদালত যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া প্রতিপালন না করার কারণে প্রজ্ঞাপনটির কার্যকারিতা স্থগিত করেন এবং তা চূড়ান্তভাবে কেন অকার্যকর ও বাতিল করা হবে না, তা নিয়ে চার সপ্তাহের রুল জারি করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৯শে অক্টোবরের বাতিলকৃত ওই অফিস আদেশে নতুন করে অ্যাডহক কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল। ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় সংবিধি-২০২৩ (খ) এর ধারা (১) খ (১), (৩) মোতাবেক সভাপতি হিসেবে জেলা সদরে অবস্থিত মাদ্রাসায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং জেলা সদরের বাইরের মাদ্রাসার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (এডিসি) মনোনয়ন দেওয়া হয়। এছাড়া বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে জেলা পর্যায়ে জেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে মনোনীত করার কথা বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে মাদ্রাসাগুলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ফরমে অ্যাডহক কমিটি অনুমোদনের প্রস্তাব প্রেরণের অনুরোধ জানানো হয়েছিল।