লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় তীব্র নিন্দা

রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। কমিটির সদস্য সজীব তানভীর ও রাফিকুজ্জামান ফরিদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, দেশে যখন হাম ও ডেঙ্গুর মতো মহামারি পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তখন সরকারি টিকাদান কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র এভাবে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া কেবল ভবনে হামলা নয়, এটি পুরো গণস্বাস্থ্যব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের বাঁচার অধিকারের ওপর এক সন্ত্রাসী আক্রমণ।

গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা চালায়। হামলাকারীরা নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে ও হাত-পা বেঁধে মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, ভ্যাকসিন ও অর্থ লুট করে। এরপর ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতারের তথ্যমতে, হামলায় এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলা করেছেন এবং পুলিশ এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, ঘটনার সময় পুলিশের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও ২০০-২৫০ জনের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দল নির্বিঘ্নে দীর্ঘ সময় ধরে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং জেনারেটর, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনসহ ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছে। এছাড়া হামের টিকাসহ সরকারি টিকাদান নথিপত্র ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়ার নাম উঠে আসা এবং দখলদারদের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়ার বিষয়টি এটি যে সুপরিকল্পিত জমি দখলের তাণ্ডব, তার প্রমাণ দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রের নিরাপত্তাকাঠামো ও বিচারহীনতার এক চরম বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত বলে কমিটি উল্লেখ করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যখন নিম্ন আয়ের মানুষ ও শিশুরা চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছে, তখন মাফিয়া ও রাজনৈতিক সুবিধাভোগীদের স্বার্থে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ধ্বংস করা কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে এজাহারভুক্ত বিএনপি নেতা হানিফ মিয়াসহ মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও অংশগ্রহণকারী সন্ত্রাসী ডাকাতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দ্রুততম সময়ে বিচার নিশ্চিত করা; ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করা ও সন্ত্রাসীদের সুযোগ করে দেওয়া শাহ আলী থানার ওসি ও দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া; দখল করা ১০ কাঠা জমি অবিলম্বে উদ্ধার করে সরকারি ও নিজস্ব তহবিলে রাড্ডা ক্লিনিক পুনর্নির্মাণ করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত টিকা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করে গরিব মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা চালু করা। এছাড়া রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয় ব্যবহার করে ভূমিদস্যুতা ও মাফিয়াতন্ত্রের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান দখলের সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

জনপ্রিয় সংবাদ

কল্কি-২: দীপিকার চরিত্রে অন্য কেউ নয়, জানালেন পরিচালক

মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় তীব্র নিন্দা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০৪:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। কমিটির সদস্য সজীব তানভীর ও রাফিকুজ্জামান ফরিদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, দেশে যখন হাম ও ডেঙ্গুর মতো মহামারি পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তখন সরকারি টিকাদান কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র এভাবে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া কেবল ভবনে হামলা নয়, এটি পুরো গণস্বাস্থ্যব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের বাঁচার অধিকারের ওপর এক সন্ত্রাসী আক্রমণ।

গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা চালায়। হামলাকারীরা নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে ও হাত-পা বেঁধে মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, ভ্যাকসিন ও অর্থ লুট করে। এরপর ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতারের তথ্যমতে, হামলায় এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলা করেছেন এবং পুলিশ এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, ঘটনার সময় পুলিশের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও ২০০-২৫০ জনের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দল নির্বিঘ্নে দীর্ঘ সময় ধরে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং জেনারেটর, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনসহ ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছে। এছাড়া হামের টিকাসহ সরকারি টিকাদান নথিপত্র ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়ার নাম উঠে আসা এবং দখলদারদের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়ার বিষয়টি এটি যে সুপরিকল্পিত জমি দখলের তাণ্ডব, তার প্রমাণ দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রের নিরাপত্তাকাঠামো ও বিচারহীনতার এক চরম বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত বলে কমিটি উল্লেখ করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যখন নিম্ন আয়ের মানুষ ও শিশুরা চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছে, তখন মাফিয়া ও রাজনৈতিক সুবিধাভোগীদের স্বার্থে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ধ্বংস করা কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে এজাহারভুক্ত বিএনপি নেতা হানিফ মিয়াসহ মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও অংশগ্রহণকারী সন্ত্রাসী ডাকাতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দ্রুততম সময়ে বিচার নিশ্চিত করা; ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করা ও সন্ত্রাসীদের সুযোগ করে দেওয়া শাহ আলী থানার ওসি ও দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া; দখল করা ১০ কাঠা জমি অবিলম্বে উদ্ধার করে সরকারি ও নিজস্ব তহবিলে রাড্ডা ক্লিনিক পুনর্নির্মাণ করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত টিকা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করে গরিব মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা চালু করা। এছাড়া রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয় ব্যবহার করে ভূমিদস্যুতা ও মাফিয়াতন্ত্রের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান দখলের সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।