লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মিয়ানমারে দুটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প

মিয়ানমারে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর দুইটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। সর্বশেষ শনিবার (১১ জুলাই) ভোররাতে দেশটিতে ৪.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর ঠিক আগের দিন শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় ৪.৫ মাত্রার আরেকটি কম্পন রেকর্ড করা হয়েছিল।

ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) জানিয়েছে, শনিবারের ভূমিকম্পটি ভারতীয় প্রমাণ সময় (আইএসটি) রাত ১২টা ২০ মিনিটে আঘাত হানে। এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে সংস্থাটি জানায়, এই কম্পনটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ৯০ কিলোমিটার গভীরে এবং এর স্থানাঙ্ক ছিল ২১.৬৯৮ উত্তর অক্ষাংশ ও ৯৪.৫০৪ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৯ মিনিটে (আইএসটি) প্রথম দফায় কেঁপে ওঠে মিয়ানমার, যার কেন্দ্র ছিল ভূগর্ভের ১০০ কিলোমিটার গভীরে।

ভূমিকম্পবিদরা জানিয়েছেন, মায়ানমার ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটি মূলত চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের—ভারতীয়, ইউরেশীয়, সুন্দা এবং বার্মা প্লেট—সংযোগস্থলে থাকায় এখানে প্রতিনিয়ত ভূগর্ভস্থ সক্রিয় প্রক্রিয়া সচল থাকে। ফলে দীর্ঘ উপকূলরেখা বরাবর মাঝারি ও বড় মাত্রার ভূমিকম্প এবং সুনামির স্থায়ী ঝুঁকি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের মূল কারণ দেশটির মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ১,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘সাগাইং ফল্ট’ বা ফাটল রেখা। এই ফাটলটি আন্দামান স্প্রেডিং সেন্টারকে উত্তরের সাগাইং ফল্ট নামক সংঘর্ষ অঞ্চলের সাথে যুক্ত করেছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ ফাটল এলাকার আশেপাশেই সাগাইং, মান্দালে, বাগো ও ইয়াঙ্গুনের মতো প্রধান শহরগুলো গড়ে উঠেছে, যেখানে মিয়ানমারের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৬ শতাংশ মানুষ বসবাস করে। গবেষকদের মতে, ইয়াঙ্গুন মূল ফাটল রেখা থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত হলেও অধিক ঘনবসতির কারণে সেখানে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। ১৯০৩ সালে বাগো অঞ্চলে হওয়া ৭.০ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাতে ইয়াঙ্গুন শহর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, সাম্প্রতিক এই দুটি ভূমিকম্পে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ডিএনসিসির ২৮ মামলায় জরিমানা আদায়

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মিয়ানমারে দুটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৪৫:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

মিয়ানমারে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর দুইটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। সর্বশেষ শনিবার (১১ জুলাই) ভোররাতে দেশটিতে ৪.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর ঠিক আগের দিন শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় ৪.৫ মাত্রার আরেকটি কম্পন রেকর্ড করা হয়েছিল।

ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) জানিয়েছে, শনিবারের ভূমিকম্পটি ভারতীয় প্রমাণ সময় (আইএসটি) রাত ১২টা ২০ মিনিটে আঘাত হানে। এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে সংস্থাটি জানায়, এই কম্পনটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ৯০ কিলোমিটার গভীরে এবং এর স্থানাঙ্ক ছিল ২১.৬৯৮ উত্তর অক্ষাংশ ও ৯৪.৫০৪ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৯ মিনিটে (আইএসটি) প্রথম দফায় কেঁপে ওঠে মিয়ানমার, যার কেন্দ্র ছিল ভূগর্ভের ১০০ কিলোমিটার গভীরে।

ভূমিকম্পবিদরা জানিয়েছেন, মায়ানমার ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটি মূলত চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের—ভারতীয়, ইউরেশীয়, সুন্দা এবং বার্মা প্লেট—সংযোগস্থলে থাকায় এখানে প্রতিনিয়ত ভূগর্ভস্থ সক্রিয় প্রক্রিয়া সচল থাকে। ফলে দীর্ঘ উপকূলরেখা বরাবর মাঝারি ও বড় মাত্রার ভূমিকম্প এবং সুনামির স্থায়ী ঝুঁকি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের মূল কারণ দেশটির মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ১,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘সাগাইং ফল্ট’ বা ফাটল রেখা। এই ফাটলটি আন্দামান স্প্রেডিং সেন্টারকে উত্তরের সাগাইং ফল্ট নামক সংঘর্ষ অঞ্চলের সাথে যুক্ত করেছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ ফাটল এলাকার আশেপাশেই সাগাইং, মান্দালে, বাগো ও ইয়াঙ্গুনের মতো প্রধান শহরগুলো গড়ে উঠেছে, যেখানে মিয়ানমারের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৬ শতাংশ মানুষ বসবাস করে। গবেষকদের মতে, ইয়াঙ্গুন মূল ফাটল রেখা থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত হলেও অধিক ঘনবসতির কারণে সেখানে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। ১৯০৩ সালে বাগো অঞ্চলে হওয়া ৭.০ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাতে ইয়াঙ্গুন শহর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, সাম্প্রতিক এই দুটি ভূমিকম্পে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।