লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পানির ন্যায্য হিস্যা না পেলে ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা নয়: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশের নদ-নদীতে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না হলে ভারতকে কোনো ধরনের করিডোর বা ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, যদি নদীতে পানি না আসে, তবে ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে আসতে পারবে না এবং কোনো করিডোর বা ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল সম্প্রচারের সুযোগ দেওয়ারও বিরোধিতা করেন তিনি।

রোববার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) জাতীয় যুবশক্তি আয়োজিত এক যুব সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি আরও বলেন, সরকার যদি জাপানের সঙ্গে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে কোনো আলোচনা বা চুক্তি করে থাকে, তবে সেই বিষয়টি জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, যা সংস্কারের মাধ্যমে বাস্তবায়নের কথা ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এখন সবকিছু অস্বীকার করছে। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই ২০২৪-এ রাজপথে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গণভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের মতামত জানিয়েছে, যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে।

সরকারের গঠিত নতুন কমিটিতে বিরোধী দলকে ডাকার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, সালাউদ্দিন সাহেবের কোনো কমিটিতে বিরোধী দল যাবে না এবং সেখানে কোনো মতামত দেবে না। তিনি অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি জানান। নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সংস্কার প্রশ্নে টালবাহানার পরিণতি সরকারকে ভোগ করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন যে, সরকার ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার সংকট তৈরির মতো একই ধরনের চেষ্টা করছে এবং আগামী নির্বাচনে নিজেদের পছন্দের লোক বসানোর পরিকল্পনা করছে।

বিএনপি সরকারের আট মাসে তরুণদের কর্মসংস্থান, শ্রমিকদের মজুরি ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সরকারি নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পদত্যাগে চাপ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক সমাধানের আহ্বান জানান এবং আন্দোলন দমনে পুলিশ ব্যবহার না করার দাবি করেন। পরিশেষে, আইনশৃঙ্খলা ও জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলা ও ওসমান হাদি হত্যার বিচার ত্বরান্বিত করার দাবি জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পোশাক কারখানায় নিরাপত্তা ও উৎপাদন সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা

পানির ন্যায্য হিস্যা না পেলে ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা নয়: নাহিদ ইসলাম

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩০:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের নদ-নদীতে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না হলে ভারতকে কোনো ধরনের করিডোর বা ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, যদি নদীতে পানি না আসে, তবে ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে আসতে পারবে না এবং কোনো করিডোর বা ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল সম্প্রচারের সুযোগ দেওয়ারও বিরোধিতা করেন তিনি।

রোববার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) জাতীয় যুবশক্তি আয়োজিত এক যুব সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি আরও বলেন, সরকার যদি জাপানের সঙ্গে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে কোনো আলোচনা বা চুক্তি করে থাকে, তবে সেই বিষয়টি জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, যা সংস্কারের মাধ্যমে বাস্তবায়নের কথা ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এখন সবকিছু অস্বীকার করছে। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই ২০২৪-এ রাজপথে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গণভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের মতামত জানিয়েছে, যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে।

সরকারের গঠিত নতুন কমিটিতে বিরোধী দলকে ডাকার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, সালাউদ্দিন সাহেবের কোনো কমিটিতে বিরোধী দল যাবে না এবং সেখানে কোনো মতামত দেবে না। তিনি অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি জানান। নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সংস্কার প্রশ্নে টালবাহানার পরিণতি সরকারকে ভোগ করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন যে, সরকার ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার সংকট তৈরির মতো একই ধরনের চেষ্টা করছে এবং আগামী নির্বাচনে নিজেদের পছন্দের লোক বসানোর পরিকল্পনা করছে।

বিএনপি সরকারের আট মাসে তরুণদের কর্মসংস্থান, শ্রমিকদের মজুরি ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সরকারি নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পদত্যাগে চাপ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক সমাধানের আহ্বান জানান এবং আন্দোলন দমনে পুলিশ ব্যবহার না করার দাবি করেন। পরিশেষে, আইনশৃঙ্খলা ও জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলা ও ওসমান হাদি হত্যার বিচার ত্বরান্বিত করার দাবি জানান তিনি।