লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাংলাদেশে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ

গত ২৬ আগস্ট নেপালের তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নদীর তীরবর্তী জনপদ, সড়ক, সেতু এবং বিভিন্ন স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ত্রিশূলী নদীতেও বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়ে। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২৫০ জনে পৌঁছেছে এবং ৪ হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

এই ভয়াবহ বন্যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে নেপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের ওপর। নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের (এনইএ) ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দুটি প্রকল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। বন্যায় নেপালের মোট ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

সাধারণত বর্ষাকালে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় নেপাল উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ রপ্তানি করে থাকে। গত কয়েক বছরে দেশটি গড়ে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করলেও এবারের বন্যায় উৎপাদন কমে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটি বাংলাদেশ ও ভারতে ২ হাজার ৯৩২ কোটি নেপালি রুপির বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছিল, যা এখন বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে।

বাংলাদেশ সদ্যই ভারতীয় গ্রিড ব্যবহার করে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করেছিল। ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি এনইএ, ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। চিলিমে প্রকল্প থেকে ২১ দশমিক ৪ মেগাওয়াট এবং ত্রিশূলী প্রকল্প থেকে ১৮ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিক্রির অনুমোদন ছিল। পরবর্তী সময়ে আরও ২০ মেগাওয়াট যুক্ত করার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি থাকলেও ভারতীয় সঞ্চালন লাইন ব্যবহারের অতিরিক্ত অনুমোদন এখনো পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে কাজ করছে এনইএ। পাশাপাশি বিকল্প কোনো প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমতির জন্য ভারতের কাছে আবেদন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।

পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত জেএসসি বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের সঙ্গে আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করার বিষয়ে বাংলাদেশ ও নেপাল নীতিগতভাবে সম্মত হয়। তবে ভারতীয় সঞ্চালন লাইন ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন এখনো পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘরোয়া ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি এক লাফে দ্বিগুণ করল বিসিবি

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাংলাদেশে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:২৩:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গত ২৬ আগস্ট নেপালের তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নদীর তীরবর্তী জনপদ, সড়ক, সেতু এবং বিভিন্ন স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ত্রিশূলী নদীতেও বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়ে। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২৫০ জনে পৌঁছেছে এবং ৪ হাজারের বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

এই ভয়াবহ বন্যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে নেপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের ওপর। নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের (এনইএ) ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ জানিয়েছেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দুটি প্রকল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। বন্যায় নেপালের মোট ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

সাধারণত বর্ষাকালে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে যাওয়ায় নেপাল উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ রপ্তানি করে থাকে। গত কয়েক বছরে দেশটি গড়ে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করলেও এবারের বন্যায় উৎপাদন কমে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটি বাংলাদেশ ও ভারতে ২ হাজার ৯৩২ কোটি নেপালি রুপির বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছিল, যা এখন বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে।

বাংলাদেশ সদ্যই ভারতীয় গ্রিড ব্যবহার করে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করেছিল। ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি এনইএ, ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসার কথা ছিল। চিলিমে প্রকল্প থেকে ২১ দশমিক ৪ মেগাওয়াট এবং ত্রিশূলী প্রকল্প থেকে ১৮ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিক্রির অনুমোদন ছিল। পরবর্তী সময়ে আরও ২০ মেগাওয়াট যুক্ত করার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি থাকলেও ভারতীয় সঞ্চালন লাইন ব্যবহারের অতিরিক্ত অনুমোদন এখনো পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে কাজ করছে এনইএ। পাশাপাশি বিকল্প কোনো প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমতির জন্য ভারতের কাছে আবেদন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।

পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত জেএসসি বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের সঙ্গে আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করার বিষয়ে বাংলাদেশ ও নেপাল নীতিগতভাবে সম্মত হয়। তবে ভারতীয় সঞ্চালন লাইন ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন এখনো পাওয়া যায়নি।