লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে আটকা ৯৩৩ শ্রমিক, উদ্ধারে মরিয়া অভিযান

নেপালে আকস্মিক বন্যার কবলে পড়ে অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ এলাকায় ৯৩৩ জন শ্রমিক আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ৩১ আগস্ট সোমবার দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে উদ্ধারকারী দলগুলো তাদের জীবন বাঁচাতে মরিয়া প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

নেপালি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানোই এখন উদ্ধার অভিযানের প্রধান লক্ষ্য। উদ্ধারকারী দলের প্রকাশিত বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, ভারী মাটি কাটার যন্ত্র ব্যবহার করে কাদা সরিয়ে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেট জানান, সুড়ঙ্গের ভেতরে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জমে থাকায় উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া গাইড আশিষ গুরুং জানান, সুড়ঙ্গের ভেতরের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। তিনি বলেন, চারদিকে শুধু কাদা, যা এতটাই গভীর যে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব। রোববার উদ্ধারকারী দল রুসওয়ার চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভেতরে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। পর্বতারোহীরা কাদার গভীরতা পরিমাপের জন্য কাঠের তক্তা ব্যবহার করেন এবং সেগুলো দিয়ে অস্থায়ী সেতু তৈরির পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য দড়ির ব্যবস্থাও করা হয়। গুরুং আরও জানান, প্রথম স্টেশনের প্রায় ১৩০ মিটার ভেতরে প্রবেশ করার পর তারা যে দৃশ্য দেখেছেন, তাতে মনে হচ্ছিল ভেতরে কেবল মরদেহ রয়েছে। তবে প্রকল্পের মানচিত্র বিশ্লেষণ করে উদ্ধারকারীদের ধারণা, সুড়ঙ্গের ভেতরের কোনো নিরাপদ অবকাঠামোয় আশ্রয় নিয়ে কিছু মানুষ এখনো জীবিত থাকতে পারেন।

গত বুধবার থেকে নেপালের বিভিন্ন উপত্যকায় বরফ, পাথর ও কাদার নজিরবিহীন স্রোত নেমে আসায় এখন পর্যন্ত দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সীমান্তের তিব্বত অংশে আরও ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নেপালে ৪ হাজারের বেশি এবং তিব্বতে প্রায় ৫০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। রেড ক্রসের হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্যোগে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন ও ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম ভূখণ্ড সত্ত্বেও জীবন রক্ষায় প্রায় ২১ হাজার নিরাপত্তাকর্মীসহ বেসামরিক স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করে যাচ্ছেন। নেপাল সরকার জানিয়েছে, সাধারণ উদ্ধারকাজে বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন না হলেও সুড়ঙ্গ থেকে মানুষ উদ্ধারের বিশেষ দক্ষতার জন্য ভারত ও চীনের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।

ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর নেপালের অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ এলাকায় ৯০০ জনেরও বেশি শ্রমিক আটকে পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া অভিযান চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। সোমবার (৩১ আগস্ট) দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর গার্ডিয়ানের।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন: গ্রেডভেদে বাড়বে ১০০-১৪২ শতাংশ

নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে আটকা ৯৩৩ শ্রমিক, উদ্ধারে মরিয়া অভিযান

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৩০:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

নেপালে আকস্মিক বন্যার কবলে পড়ে অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ এলাকায় ৯৩৩ জন শ্রমিক আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ৩১ আগস্ট সোমবার দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে উদ্ধারকারী দলগুলো তাদের জীবন বাঁচাতে মরিয়া প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

নেপালি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানোই এখন উদ্ধার অভিযানের প্রধান লক্ষ্য। উদ্ধারকারী দলের প্রকাশিত বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, ভারী মাটি কাটার যন্ত্র ব্যবহার করে কাদা সরিয়ে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেট জানান, সুড়ঙ্গের ভেতরে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জমে থাকায় উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া গাইড আশিষ গুরুং জানান, সুড়ঙ্গের ভেতরের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। তিনি বলেন, চারদিকে শুধু কাদা, যা এতটাই গভীর যে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব। রোববার উদ্ধারকারী দল রুসওয়ার চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভেতরে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। পর্বতারোহীরা কাদার গভীরতা পরিমাপের জন্য কাঠের তক্তা ব্যবহার করেন এবং সেগুলো দিয়ে অস্থায়ী সেতু তৈরির পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য দড়ির ব্যবস্থাও করা হয়। গুরুং আরও জানান, প্রথম স্টেশনের প্রায় ১৩০ মিটার ভেতরে প্রবেশ করার পর তারা যে দৃশ্য দেখেছেন, তাতে মনে হচ্ছিল ভেতরে কেবল মরদেহ রয়েছে। তবে প্রকল্পের মানচিত্র বিশ্লেষণ করে উদ্ধারকারীদের ধারণা, সুড়ঙ্গের ভেতরের কোনো নিরাপদ অবকাঠামোয় আশ্রয় নিয়ে কিছু মানুষ এখনো জীবিত থাকতে পারেন।

গত বুধবার থেকে নেপালের বিভিন্ন উপত্যকায় বরফ, পাথর ও কাদার নজিরবিহীন স্রোত নেমে আসায় এখন পর্যন্ত দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সীমান্তের তিব্বত অংশে আরও ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নেপালে ৪ হাজারের বেশি এবং তিব্বতে প্রায় ৫০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। রেড ক্রসের হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্যোগে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন ও ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম ভূখণ্ড সত্ত্বেও জীবন রক্ষায় প্রায় ২১ হাজার নিরাপত্তাকর্মীসহ বেসামরিক স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করে যাচ্ছেন। নেপাল সরকার জানিয়েছে, সাধারণ উদ্ধারকাজে বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন না হলেও সুড়ঙ্গ থেকে মানুষ উদ্ধারের বিশেষ দক্ষতার জন্য ভারত ও চীনের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।

ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর নেপালের অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ এলাকায় ৯০০ জনেরও বেশি শ্রমিক আটকে পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া অভিযান চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। সোমবার (৩১ আগস্ট) দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর গার্ডিয়ানের।