লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছয় স্ত্রীর রহস্যমৃত্যু ও বিমার টাকা: নেটফ্লিক্সে থমাস র‍্যান্ডলফের অপরাধ কাহিনি

২০০৮ সালের ৮ মে রাতে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের জরুরি সেবার নম্বরে একটি ফোন আসে। ফোনের ওপাশে থাকা থমাস র‍্যান্ডলফ দাবি করেন, তাঁর বাড়িতে ঢুকে পড়া এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীকে গুলি করেছেন এবং তিনি আত্মরক্ষার্থে সেই মুখোশধারীকে গুলি করে হত্যা করেছেন। বাহ্যিকভাবে ঘটনাটি আত্মরক্ষার সাধারণ মামলা মনে হলেও তদন্তের সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে আসতে শুরু করে এক অন্ধকার ইতিহাস। একের পর এক বিয়ে, স্ত্রীদের রহস্যজনক মৃত্যু এবং জীবনবিমার বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের খবর তৈরি করে নতুন আলোড়ন। সেই দীর্ঘ ১৫ বছরের জটিল তদন্তের বিবরণ এবার উঠে এসেছে নেটফ্লিক্সের নতুন তথ্যচিত্র ‘দ্য উইডোয়ার: টিল ডেথ ডু আস পার্ট’-এ। টাইম সাময়িকীর ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই তথ্যচিত্রটি পরিচালনা করেছেন ক্রিস স্মিথ। এতে মূল ভূমিকা পালন করেছেন ‘ডেটলাইন এনবিসি’র প্রযোজক ড্যান স্লেপিয়ান, যিনি ২০০৮ সাল থেকে পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

ঘটনার রাতে ষষ্ঠ স্ত্রী শ্যারন কসকে নিয়ে মাদার্স ডে উপলক্ষে রাতের খাবার খেয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন র‍্যান্ডলফ। শ্যারন একা ঘরে ঢোকার পর গুলির শব্দ শুনতে পেয়ে র‍্যান্ডলফ ভেতরে গিয়ে স্ত্রীকে রক্তাক্ত দেখতে পান এবং পাশের ঘর থেকে বন্দুক এনে এক মুখোশধারীকে গুলি করেন বলে দাবি করেন। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিন ও’কেলির মনে বেশ কিছু গভীর অসংগতি ধরা পড়ে। থমাসের ব্যবহৃত বন্দুকের পাশেই মুখোশধারীর মৃতদেহ থাকলেও মুখোশে কোনো রক্তের দাগ ছিল না এবং করিডরে গুলির খোসাও মেলেনি। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ওঠে সময় নিয়ে; প্রতিবেশীরা রাত ৮টা ৩৩ মিনিটে গুলির শব্দ শুনলেও র‍্যান্ডলফ জরুরি নম্বরে ফোন করেছিলেন ৮টা ৪৫ মিনিটে। এই ১২ মিনিটের ব্যবধানই তদন্তের গতিপথ পুরোপুরি বদলে দেয়।

শ্যারনের মেয়ে কলিন তদন্তকারীদের জানান, বিয়ের মাত্র তিন মাসের মধ্যে র‍্যান্ডলফ তাঁর মায়ের উইলে নিজেকে একমাত্র সুবিধাভোগী করেছিলেন এবং শ্যারনের নামে ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলারের জীবনবিমা করেছিলেন। একই সময়ে উত্তর ক্যারোলাইনায় র‍্যান্ডলফের পরিচিত কর্মী মাইক মিলারের পরিবারের সন্ধান পান তদন্তকারীরা। মিলারের পরিবার জানায়, স্ত্রীকে কীভাবে হত্যা করা যায়, সে বিষয়ে একবার মিলারের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন র‍্যান্ডলফ। এই তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ নিশ্চিত হয় যে শ্যারনের মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে দীর্ঘ অপরাধ ইতিহাস রয়েছে।

তদন্ত এগোতেই র‍্যান্ডলফের আগের বিয়েগুলোর একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে থাকে। ১৯৭৫ সালে ক্যাথিকে বিয়ে করেন র‍্যান্ডলফ, যাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। ক্যাথির নামেও জীবনবিমা করা হয়েছিল। পরে ক্যাথির সঙ্গে বিচ্ছেদ হলে ক্যাথির দ্বিতীয় স্বামী স্টিভ থমাস পুলিশকে জানান, র‍্যান্ডলফ তাঁকে ক্যাথিকে হত্যার জন্য প্ররোচিত করার চেষ্টা করেছিলেন। ১৯৮৩ সালে ক্যাথির সঙ্গে বিচ্ছেদের দিনই র‍্যান্ডলফ বিয়ে করেন দ্বিতীয় স্ত্রী বেকি গল্টকে। তিন বছর পর ইউটাহর বাড়িতে বেকির মাথায় গুলিবিদ্ধ মরদেহ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলা হলেও র‍্যান্ডলফ বিমার ৫ লাখ ডলার লাভ করেন। ১৯৮৮ সালে বেকিকে হত্যার অভিযোগে র‍্যান্ডলফের বিচার শুরু হয় এবং তাঁর বন্ধু এরিক টারান্টিনো সাক্ষ্য দেন যে বেকিকে মারার জন্য তাঁকে ভাড়া করা হয়েছিল। তবে আইনজীবীদের যুক্তিতে র‍্যান্ডলফ সেবার খালাস পেয়ে যান।

বেকির পরও র‍্যান্ডলফের জীবনে একাধিক নারীর আগমন ঘটে এবং মৃত্যু যেন তাঁর সঙ্গ ছাড়েনি। তাঁর আরেক স্ত্রী গেইনাল অলমন বেঁচে গেলেও তাঁর নামেও বিমা করেছিলেন র‍্যান্ডলফ। ফ্রান্সিস র‍্যান্ডলফের ক্ষেত্রে ঘটেছিল অন্য ঘটনা; হৃদ্‌যন্ত্রের অস্ত্রোপচারের পর তিনি মারা গেলে র‍্যান্ডলফ চিকিৎসায় ভুলের দোহাই দিয়ে বিমার অর্থ নেন ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এমনকি ফ্রান্সিস মারা যাওয়ার আগে নিজের উইল পড়ে শোনানোর ভিডিও ধারণ করে রেখেছিলেন র‍্যান্ডলফ। পরবর্তীতে লিওনা স্ট্যাপলটন নামের আরেক নারী র‍্যান্ডলফকে বিয়ের কিছুদিন পরেই ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পর পর একাধিক স্ত্রীর মৃত্যু ও বিমার টাকা পাওয়ার এই অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতার কারণেই তিনি ‘ব্ল্যাক উইডোয়ার’ তকমা পান, যদিও নিজেকে সর্বদা নির্দোষ দাবি করে এসেছেন র‍্যান্ডলফ।

ড্যান স্লেপিয়ান ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ইউটাহতে মায়ের বাড়ি থেকে র‍্যান্ডলফকে গ্রেপ্তারের চিত্র সরাসরি ক্যামেরাবন্দী করেন। কারাগারে থাকাকালেও র‍্যান্ডলফ স্লেপিয়ানের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলতেন এবং ভাবতেন ক্যামেরা তাঁর আত্মপক্ষ সমর্থনের হাতিয়ার। স্লেপিয়ানকে তিনি একবার বলেছিলেন, ‘আমরা একসঙ্গে কুখ্যাত হয়ে যাব।’ তবে যে ক্যামেরাকে তিনি নিজের পক্ষে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে শক্ত নথিতে পরিণত হয়। ২০১৭ সালে বিচারিক আদালত শ্যারন কস হত্যা ও ষোলো আনা ষড়যন্ত্রের অভিযোগে র‍্যান্ডলফকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে ২০২০ সালে নেভাদা সুপ্রিম কোর্ট প্রমাণ ব্যবহারের ত্রুটি দেখিয়ে সেই দণ্ড বাতিল করেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে নতুন বিচারে তদন্তকারী ডিন ও’কেলি আগের অসংগতি ও র‍্যান্ডলফের তৈরি ঘটনার পুনর্নির্মাণের ভিডিও আদালতে হাজির করলে জুরি বোর্ড তাঁকে পুনরায় দোষী সাব্যস্ত করে ৬০ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। বর্তমানে নেভাদার লাভলক কারেকশনাল সেন্টারে বন্দী ৭১ বছর বয়সী র‍্যান্ডলফের ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের একটি সর্বশেষ আপিলও খারিজ হয়ে গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পানামায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, ৯ দেশে সুনামি সতর্কতা

ছয় স্ত্রীর রহস্যমৃত্যু ও বিমার টাকা: নেটফ্লিক্সে থমাস র‍্যান্ডলফের অপরাধ কাহিনি

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩২:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

২০০৮ সালের ৮ মে রাতে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের জরুরি সেবার নম্বরে একটি ফোন আসে। ফোনের ওপাশে থাকা থমাস র‍্যান্ডলফ দাবি করেন, তাঁর বাড়িতে ঢুকে পড়া এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীকে গুলি করেছেন এবং তিনি আত্মরক্ষার্থে সেই মুখোশধারীকে গুলি করে হত্যা করেছেন। বাহ্যিকভাবে ঘটনাটি আত্মরক্ষার সাধারণ মামলা মনে হলেও তদন্তের সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে আসতে শুরু করে এক অন্ধকার ইতিহাস। একের পর এক বিয়ে, স্ত্রীদের রহস্যজনক মৃত্যু এবং জীবনবিমার বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের খবর তৈরি করে নতুন আলোড়ন। সেই দীর্ঘ ১৫ বছরের জটিল তদন্তের বিবরণ এবার উঠে এসেছে নেটফ্লিক্সের নতুন তথ্যচিত্র ‘দ্য উইডোয়ার: টিল ডেথ ডু আস পার্ট’-এ। টাইম সাময়িকীর ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই তথ্যচিত্রটি পরিচালনা করেছেন ক্রিস স্মিথ। এতে মূল ভূমিকা পালন করেছেন ‘ডেটলাইন এনবিসি’র প্রযোজক ড্যান স্লেপিয়ান, যিনি ২০০৮ সাল থেকে পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

ঘটনার রাতে ষষ্ঠ স্ত্রী শ্যারন কসকে নিয়ে মাদার্স ডে উপলক্ষে রাতের খাবার খেয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন র‍্যান্ডলফ। শ্যারন একা ঘরে ঢোকার পর গুলির শব্দ শুনতে পেয়ে র‍্যান্ডলফ ভেতরে গিয়ে স্ত্রীকে রক্তাক্ত দেখতে পান এবং পাশের ঘর থেকে বন্দুক এনে এক মুখোশধারীকে গুলি করেন বলে দাবি করেন। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিন ও’কেলির মনে বেশ কিছু গভীর অসংগতি ধরা পড়ে। থমাসের ব্যবহৃত বন্দুকের পাশেই মুখোশধারীর মৃতদেহ থাকলেও মুখোশে কোনো রক্তের দাগ ছিল না এবং করিডরে গুলির খোসাও মেলেনি। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ওঠে সময় নিয়ে; প্রতিবেশীরা রাত ৮টা ৩৩ মিনিটে গুলির শব্দ শুনলেও র‍্যান্ডলফ জরুরি নম্বরে ফোন করেছিলেন ৮টা ৪৫ মিনিটে। এই ১২ মিনিটের ব্যবধানই তদন্তের গতিপথ পুরোপুরি বদলে দেয়।

শ্যারনের মেয়ে কলিন তদন্তকারীদের জানান, বিয়ের মাত্র তিন মাসের মধ্যে র‍্যান্ডলফ তাঁর মায়ের উইলে নিজেকে একমাত্র সুবিধাভোগী করেছিলেন এবং শ্যারনের নামে ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলারের জীবনবিমা করেছিলেন। একই সময়ে উত্তর ক্যারোলাইনায় র‍্যান্ডলফের পরিচিত কর্মী মাইক মিলারের পরিবারের সন্ধান পান তদন্তকারীরা। মিলারের পরিবার জানায়, স্ত্রীকে কীভাবে হত্যা করা যায়, সে বিষয়ে একবার মিলারের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন র‍্যান্ডলফ। এই তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ নিশ্চিত হয় যে শ্যারনের মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে দীর্ঘ অপরাধ ইতিহাস রয়েছে।

তদন্ত এগোতেই র‍্যান্ডলফের আগের বিয়েগুলোর একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে থাকে। ১৯৭৫ সালে ক্যাথিকে বিয়ে করেন র‍্যান্ডলফ, যাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। ক্যাথির নামেও জীবনবিমা করা হয়েছিল। পরে ক্যাথির সঙ্গে বিচ্ছেদ হলে ক্যাথির দ্বিতীয় স্বামী স্টিভ থমাস পুলিশকে জানান, র‍্যান্ডলফ তাঁকে ক্যাথিকে হত্যার জন্য প্ররোচিত করার চেষ্টা করেছিলেন। ১৯৮৩ সালে ক্যাথির সঙ্গে বিচ্ছেদের দিনই র‍্যান্ডলফ বিয়ে করেন দ্বিতীয় স্ত্রী বেকি গল্টকে। তিন বছর পর ইউটাহর বাড়িতে বেকির মাথায় গুলিবিদ্ধ মরদেহ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলা হলেও র‍্যান্ডলফ বিমার ৫ লাখ ডলার লাভ করেন। ১৯৮৮ সালে বেকিকে হত্যার অভিযোগে র‍্যান্ডলফের বিচার শুরু হয় এবং তাঁর বন্ধু এরিক টারান্টিনো সাক্ষ্য দেন যে বেকিকে মারার জন্য তাঁকে ভাড়া করা হয়েছিল। তবে আইনজীবীদের যুক্তিতে র‍্যান্ডলফ সেবার খালাস পেয়ে যান।

বেকির পরও র‍্যান্ডলফের জীবনে একাধিক নারীর আগমন ঘটে এবং মৃত্যু যেন তাঁর সঙ্গ ছাড়েনি। তাঁর আরেক স্ত্রী গেইনাল অলমন বেঁচে গেলেও তাঁর নামেও বিমা করেছিলেন র‍্যান্ডলফ। ফ্রান্সিস র‍্যান্ডলফের ক্ষেত্রে ঘটেছিল অন্য ঘটনা; হৃদ্‌যন্ত্রের অস্ত্রোপচারের পর তিনি মারা গেলে র‍্যান্ডলফ চিকিৎসায় ভুলের দোহাই দিয়ে বিমার অর্থ নেন ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এমনকি ফ্রান্সিস মারা যাওয়ার আগে নিজের উইল পড়ে শোনানোর ভিডিও ধারণ করে রেখেছিলেন র‍্যান্ডলফ। পরবর্তীতে লিওনা স্ট্যাপলটন নামের আরেক নারী র‍্যান্ডলফকে বিয়ের কিছুদিন পরেই ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পর পর একাধিক স্ত্রীর মৃত্যু ও বিমার টাকা পাওয়ার এই অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতার কারণেই তিনি ‘ব্ল্যাক উইডোয়ার’ তকমা পান, যদিও নিজেকে সর্বদা নির্দোষ দাবি করে এসেছেন র‍্যান্ডলফ।

ড্যান স্লেপিয়ান ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ইউটাহতে মায়ের বাড়ি থেকে র‍্যান্ডলফকে গ্রেপ্তারের চিত্র সরাসরি ক্যামেরাবন্দী করেন। কারাগারে থাকাকালেও র‍্যান্ডলফ স্লেপিয়ানের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলতেন এবং ভাবতেন ক্যামেরা তাঁর আত্মপক্ষ সমর্থনের হাতিয়ার। স্লেপিয়ানকে তিনি একবার বলেছিলেন, ‘আমরা একসঙ্গে কুখ্যাত হয়ে যাব।’ তবে যে ক্যামেরাকে তিনি নিজের পক্ষে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে শক্ত নথিতে পরিণত হয়। ২০১৭ সালে বিচারিক আদালত শ্যারন কস হত্যা ও ষোলো আনা ষড়যন্ত্রের অভিযোগে র‍্যান্ডলফকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে ২০২০ সালে নেভাদা সুপ্রিম কোর্ট প্রমাণ ব্যবহারের ত্রুটি দেখিয়ে সেই দণ্ড বাতিল করেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে নতুন বিচারে তদন্তকারী ডিন ও’কেলি আগের অসংগতি ও র‍্যান্ডলফের তৈরি ঘটনার পুনর্নির্মাণের ভিডিও আদালতে হাজির করলে জুরি বোর্ড তাঁকে পুনরায় দোষী সাব্যস্ত করে ৬০ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। বর্তমানে নেভাদার লাভলক কারেকশনাল সেন্টারে বন্দী ৭১ বছর বয়সী র‍্যান্ডলফের ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের একটি সর্বশেষ আপিলও খারিজ হয়ে গেছে।