লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নোয়াখালীতে চলন্ত অটোরিকশায় সন্তান প্রসব, ডাস্টবিনে ফেলে পালানোর চেষ্টাকালে আটক ৪

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে চলন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সন্তান প্রসবের পর নবজাতককে ডাস্টবিনে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বিকেলে বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয় লোকজন নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করেন এবং শিশুটির মা, নানি, এক প্রবীণ নারী ও অটোরিকশাচালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রসবকালীন শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে ওই কিশোরী মাকে প্রথমে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানকার চিকিৎসকেরা তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। এরপর সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাঁকে সরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পথেই চলন্ত গাড়িতে তিনি এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।

অভিযোগ উঠেছে, সন্তান প্রসবের পর অটোরিকশাটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না নিয়ে সামনে থাকা একটি ডাস্টবিনের পাশে থামানো হয়। সেখানে নবজাতকটিকে ফেলে রেখে পালানোর চেষ্টা করা হলে আশপাশের লোকজন তা দেখে ফেলেন। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে অটোরিকশাটির পথ রোধ করে ডাস্টবিন থেকে জীবিত অবস্থায় সদ্যোজাত শিশুটিকে উদ্ধার করেন। এরপর অটোরিকশায় থাকা চারজনকে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন—কিশোরী মা, তাঁর ৩৫ বছর বয়সী মা (নবজাতকের নানি), ৬০ বছর বয়সী এক নারী এবং ৩৫ বছর বয়সী অটোরিকশাচালক।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম জানান, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে শিশুটির বাবা তার দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান। এ কারণেই হাসপাতালে নেওয়ার পথে অটোরিকশায় জন্ম নেওয়া নবজাতকটিকে ডাস্টবিনে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির জিম্মায় নবজাতক ও তার মাকে চিকিৎসার জন্য জেলা সদরের নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। ওসি আরও উল্লেখ করেন, ভুক্তভোগী পরিবারটি এর আগে আইনি সহযোগিতার জন্য থানায় কোনো যোগাযোগ করেনি। তারা চাইলে পুলিশ সব ধরনের আইনি সহায়তা দিতে পারত।

এদিকে, নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. রাজিব উদ্দিন চৌধুরী জানান, সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা থেকে কোনো নবজাতককে চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে আনা হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

কোটালীপাড়ায় বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, আহত ২

নোয়াখালীতে চলন্ত অটোরিকশায় সন্তান প্রসব, ডাস্টবিনে ফেলে পালানোর চেষ্টাকালে আটক ৪

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০৩:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে চলন্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সন্তান প্রসবের পর নবজাতককে ডাস্টবিনে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বিকেলে বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয় লোকজন নবজাতকটিকে জীবিত উদ্ধার করেন এবং শিশুটির মা, নানি, এক প্রবীণ নারী ও অটোরিকশাচালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রসবকালীন শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে ওই কিশোরী মাকে প্রথমে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানকার চিকিৎসকেরা তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। এরপর সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাঁকে সরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পথেই চলন্ত গাড়িতে তিনি এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।

অভিযোগ উঠেছে, সন্তান প্রসবের পর অটোরিকশাটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না নিয়ে সামনে থাকা একটি ডাস্টবিনের পাশে থামানো হয়। সেখানে নবজাতকটিকে ফেলে রেখে পালানোর চেষ্টা করা হলে আশপাশের লোকজন তা দেখে ফেলেন। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে অটোরিকশাটির পথ রোধ করে ডাস্টবিন থেকে জীবিত অবস্থায় সদ্যোজাত শিশুটিকে উদ্ধার করেন। এরপর অটোরিকশায় থাকা চারজনকে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন—কিশোরী মা, তাঁর ৩৫ বছর বয়সী মা (নবজাতকের নানি), ৬০ বছর বয়সী এক নারী এবং ৩৫ বছর বয়সী অটোরিকশাচালক।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম জানান, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে শিশুটির বাবা তার দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান। এ কারণেই হাসপাতালে নেওয়ার পথে অটোরিকশায় জন্ম নেওয়া নবজাতকটিকে ডাস্টবিনে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তির জিম্মায় নবজাতক ও তার মাকে চিকিৎসার জন্য জেলা সদরের নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। ওসি আরও উল্লেখ করেন, ভুক্তভোগী পরিবারটি এর আগে আইনি সহযোগিতার জন্য থানায় কোনো যোগাযোগ করেনি। তারা চাইলে পুলিশ সব ধরনের আইনি সহায়তা দিতে পারত।

এদিকে, নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. রাজিব উদ্দিন চৌধুরী জানান, সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা থেকে কোনো নবজাতককে চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে আনা হয়নি।