লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রশাসনে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি রাখবে না বিএনপি সরকার

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার প্রশাসনে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ বা অবিশ্বস্ত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সরকারের ক্ষমতার পাঁচ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর এখন কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা গোষ্ঠীর কারণে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরির সুযোগ দিতে রাজি নয় সরকার। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী এবং গোপন যোগাযোগ থাকতে পারে এমন সন্দেহভাজনদের স্পর্শকাতর পদে রাখা হবে না। এসব ব্যক্তিদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। সরকার প্রথমদিকে পরিস্থিতি গুছিয়ে নেওয়ার স্বার্থে অনেক বিষয় কৌশলগত কারণে এড়িয়ে গেলেও এখন আর কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয়।

সরকার গঠনের পর থেকে বিভিন্ন অভিযোগে ৬৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় অর্ধশতাধিক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনের ৯ কর্মকর্তাকে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ১৩ জন সচিব, ২২ জন জেলা প্রশাসক ও ১০১ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সরে দাঁড়ানোর বার্তা দেওয়া হলে শুক্রবার তিনি পদত্যাগ করেন। এছাড়া দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন এমন শক্তি ও ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যদিও সরকার এখনই কারও নাম প্রকাশ করতে রাজি হয়নি।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, রাষ্ট্র পরিচালনা আবেগের বিষয় নয়। পূর্ববর্তী সরকারের দোসররা দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে বাধার সৃষ্টি করতে পারে, তাই প্রশাসনে সংস্কার জরুরি। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সরকার অত্যন্ত সতর্ক। ২০০১ সালে একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে রাষ্ট্রপতি করার অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি চায় না সরকার। এবার দলের নীতি ও দর্শনে শতভাগ বিশ্বস্ত এবং বিচক্ষণ ব্যক্তিকে এই পদে আনা হবে।

দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। ৫ আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থান এবং ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সরকার কঠিন ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মেট্রো স্টেশনে বোমা উদ্ধারের মতো ঘটনাগুলোও সরকার খতিয়ে দেখছে। এছাড়া ভারতের একজন প্রভাবশালী সাংবাদিকের ফেসবুক পোস্ট এবং ভূরাজনৈতিক সমীকরণও সরকার পর্যবেক্ষণ করছে।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস নেই, কিন্তু যারা রাষ্ট্রের ক্ষতি করতে চায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো ঠিক হবে না। এছাড়া গবেষক আলতাফ পারভেজ মনে করেন, অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ায় পুরোনো রেজিমের অবশিষ্টাংশের ক্ষমতায় থাকা বাস্তবসম্মত নয়। নতুন সরকার সব পদে নিজস্ব লোক বসাবে, এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি পদটি মূলত প্রতীকী হলেও বিএনপি শাসন ক্ষমতায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে চাইছে যাতে ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়তে না হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রাজিলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না নেইমারকে

প্রশাসনে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি রাখবে না বিএনপি সরকার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩২:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার প্রশাসনে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ বা অবিশ্বস্ত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, সরকারের ক্ষমতার পাঁচ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর এখন কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা গোষ্ঠীর কারণে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরির সুযোগ দিতে রাজি নয় সরকার। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী এবং গোপন যোগাযোগ থাকতে পারে এমন সন্দেহভাজনদের স্পর্শকাতর পদে রাখা হবে না। এসব ব্যক্তিদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। সরকার প্রথমদিকে পরিস্থিতি গুছিয়ে নেওয়ার স্বার্থে অনেক বিষয় কৌশলগত কারণে এড়িয়ে গেলেও এখন আর কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয়।

সরকার গঠনের পর থেকে বিভিন্ন অভিযোগে ৬৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় অর্ধশতাধিক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনের ৯ কর্মকর্তাকে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ১৩ জন সচিব, ২২ জন জেলা প্রশাসক ও ১০১ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সরে দাঁড়ানোর বার্তা দেওয়া হলে শুক্রবার তিনি পদত্যাগ করেন। এছাড়া দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন এমন শক্তি ও ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যদিও সরকার এখনই কারও নাম প্রকাশ করতে রাজি হয়নি।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন, রাষ্ট্র পরিচালনা আবেগের বিষয় নয়। পূর্ববর্তী সরকারের দোসররা দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে বাধার সৃষ্টি করতে পারে, তাই প্রশাসনে সংস্কার জরুরি। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সরকার অত্যন্ত সতর্ক। ২০০১ সালে একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে রাষ্ট্রপতি করার অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি চায় না সরকার। এবার দলের নীতি ও দর্শনে শতভাগ বিশ্বস্ত এবং বিচক্ষণ ব্যক্তিকে এই পদে আনা হবে।

দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। ৫ আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থান এবং ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সরকার কঠিন ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মেট্রো স্টেশনে বোমা উদ্ধারের মতো ঘটনাগুলোও সরকার খতিয়ে দেখছে। এছাড়া ভারতের একজন প্রভাবশালী সাংবাদিকের ফেসবুক পোস্ট এবং ভূরাজনৈতিক সমীকরণও সরকার পর্যবেক্ষণ করছে।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস নেই, কিন্তু যারা রাষ্ট্রের ক্ষতি করতে চায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো ঠিক হবে না। এছাড়া গবেষক আলতাফ পারভেজ মনে করেন, অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ায় পুরোনো রেজিমের অবশিষ্টাংশের ক্ষমতায় থাকা বাস্তবসম্মত নয়। নতুন সরকার সব পদে নিজস্ব লোক বসাবে, এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি পদটি মূলত প্রতীকী হলেও বিএনপি শাসন ক্ষমতায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে চাইছে যাতে ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়তে না হয়।