লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় গাছে আশ্রয় নিয়েছে নিঃসঙ্গ হনুমান

পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের কুমড়াডাঙ্গা মহল্লায় গত কয়েক দিন ধরে একটি নিঃসঙ্গ হনুমানের দেখা মিলছে। কোথা থেকে এই প্রাণীটি এসেছে বা কোথায় তার আপনজন, তা কারও জানা নেই। কখনো সে গাছের ডালে বসে উদাস চোখে এদিক-ওদিক তাকিয়ে থাকে, আবার কখনো উৎসুক মানুষের ভিড় দেখে ভয়ে আরও উঁচুতে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, দলছুট এই হনুমানটি হয়তো কোনো একসময় ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাকে চড়ে বাংলাদেশে চলে এসেছে। এরপর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে অবশেষে কুমড়াডাঙ্গার একটি গাছে এসে আশ্রয় নিয়েছে। এখানে মানুষের বসতি ও অচেনা পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার এক নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রাণীটি।

কখনো তার কপালে খাবার জুটছে, আবার কখনো অনাহারেই কাটছে দিন। স্থানীয় লোকজন মায়াবশত হনুমানটিকে কলা বা অন্যান্য খাবার দিতে এগিয়ে গেলেও সে সহজে কাছে আসছে না। মানুষ কাছে গেলেই ভয় পেয়ে গাছের আরও মগডালে উঠে যাচ্ছে। মানুষের ভালোবাসা বা সহানুভূতিও যেন তার কাছে এখন এক অজানা আতঙ্ক।

এলাকার বাসিন্দারা জানান, হনুমানটির নিচে নামতে না পারার বড় কারণ নিচে ঘুরে বেড়ানো কুকুরের দল। গাছের নিচে কুকুরের আনাগোনা দেখলেই হনুমানটি অত্যন্ত সতর্ক হয়ে যায় এবং ভয়ে গাছের ডালেই বসে থাকে। একসময় হয়তো সে নিজের দলের সঙ্গে বনে-জঙ্গলে আনন্দে লাফিয়ে বেড়াত, কিন্তু আজ সে সম্পূর্ণ একা ও অচেনা এক জনপদে বন্দি। তার ভাষা বোঝার মতো কেউ নেই, সে-ও মানুষের ভাষা বোঝে না।

কুমড়াডাঙ্গার বাসিন্দারা চান না কেউ এই অসহায় প্রাণীটিকে বিরক্ত করুক। তারা নিরাপদে হনুমানটিকে খাবার দেওয়ার পাশাপাশি বন বিভাগের সহায়তা কামনা করছেন। স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগ যেন দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে হনুমানটিকে উদ্ধার করে একটি নিরাপদ ও উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মোহাম্মদপুরে চালক হত্যা মামলা: শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের চার্জগঠন পিছিয়ে ২৬ অক্টোবর

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় গাছে আশ্রয় নিয়েছে নিঃসঙ্গ হনুমান

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:০১:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের কুমড়াডাঙ্গা মহল্লায় গত কয়েক দিন ধরে একটি নিঃসঙ্গ হনুমানের দেখা মিলছে। কোথা থেকে এই প্রাণীটি এসেছে বা কোথায় তার আপনজন, তা কারও জানা নেই। কখনো সে গাছের ডালে বসে উদাস চোখে এদিক-ওদিক তাকিয়ে থাকে, আবার কখনো উৎসুক মানুষের ভিড় দেখে ভয়ে আরও উঁচুতে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, দলছুট এই হনুমানটি হয়তো কোনো একসময় ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাকে চড়ে বাংলাদেশে চলে এসেছে। এরপর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে অবশেষে কুমড়াডাঙ্গার একটি গাছে এসে আশ্রয় নিয়েছে। এখানে মানুষের বসতি ও অচেনা পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার এক নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রাণীটি।

কখনো তার কপালে খাবার জুটছে, আবার কখনো অনাহারেই কাটছে দিন। স্থানীয় লোকজন মায়াবশত হনুমানটিকে কলা বা অন্যান্য খাবার দিতে এগিয়ে গেলেও সে সহজে কাছে আসছে না। মানুষ কাছে গেলেই ভয় পেয়ে গাছের আরও মগডালে উঠে যাচ্ছে। মানুষের ভালোবাসা বা সহানুভূতিও যেন তার কাছে এখন এক অজানা আতঙ্ক।

এলাকার বাসিন্দারা জানান, হনুমানটির নিচে নামতে না পারার বড় কারণ নিচে ঘুরে বেড়ানো কুকুরের দল। গাছের নিচে কুকুরের আনাগোনা দেখলেই হনুমানটি অত্যন্ত সতর্ক হয়ে যায় এবং ভয়ে গাছের ডালেই বসে থাকে। একসময় হয়তো সে নিজের দলের সঙ্গে বনে-জঙ্গলে আনন্দে লাফিয়ে বেড়াত, কিন্তু আজ সে সম্পূর্ণ একা ও অচেনা এক জনপদে বন্দি। তার ভাষা বোঝার মতো কেউ নেই, সে-ও মানুষের ভাষা বোঝে না।

কুমড়াডাঙ্গার বাসিন্দারা চান না কেউ এই অসহায় প্রাণীটিকে বিরক্ত করুক। তারা নিরাপদে হনুমানটিকে খাবার দেওয়ার পাশাপাশি বন বিভাগের সহায়তা কামনা করছেন। স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগ যেন দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে হনুমানটিকে উদ্ধার করে একটি নিরাপদ ও উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে।