লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীতে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি বুলডোজারে ভাঙচুর ও লুটপাট

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মিজানুর রহমানের বসতঘর বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার পর মালামাল লুট করে আগুন দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নেতার পরিবারের অভিযোগ, পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ছোট ভাই শাহীন চৌধুরী এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

কাজী মিজানুর রহমান মাধবখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁর বাড়িটি উপজেলার কাঁঠালতলী বাজারসংলগ্ন উত্তর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত। হামলার খবর পেয়ে মির্জাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল শনিবার সকাল ৬টা ৮ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম জানান, তারা সেখানে গিয়ে বাড়ির সামনের অংশ ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান এবং চারটি কক্ষে জ্বলন্ত আগুন নেভাতে সক্ষম হন।

ভুক্তভোগী নেতার স্ত্রী মেহেরুন্নেছা শিল্পী জানান, অসুস্থ শাশুড়িকে নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করার সুযোগে মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান এবং সাবেক সভাপতি মনির খন্দকারের নেতৃত্বে প্রায় আড়াই শ মানুষ এই হামলা চালায়। তিনি আরও জানান, ভবন ভাঙার পাশাপাশি চারটি রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন, এসি ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। ছয় কক্ষের প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের বাড়িটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

মেহেরুন্নেছা অভিযোগ করেন, হামলার আগে এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং ভিডিও ধারণ করতে চাইলে অনেকের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বাড়ির অদূরে কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও, হামলাকারীরা পুলিশকে ধাওয়া দিলে নিরাপত্তার স্বার্থে তারা সরে যেতে বাধ্য হয়। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে মৌখিকভাবে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন চৌধুরী দাবি করেন, তিনি শুক্রবার ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরেছেন, তাই ঘটনার বিষয়ে অবগত নন। ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মনির খন্দকার সরাসরি অভিযোগ অস্বীকার না করে দাবি করেন, মিজানুর রহমান পাবলিক লাইব্রেরির জমি দখল করে ঘর তুলেছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন যে, ৫ আগস্টের পর তারা চাইলে বাড়িটি ভাঙতে পারতেন কিন্তু তখন পাহারা দিয়েছিলেন।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা বাড়িটি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলেছেন এবং কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়িকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বেড়ায় হলুদের ক্ষেত থেকে ব্যবসায়ীর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার

পটুয়াখালীতে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি বুলডোজারে ভাঙচুর ও লুটপাট

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৪৬:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী মিজানুর রহমানের বসতঘর বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার পর মালামাল লুট করে আগুন দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নেতার পরিবারের অভিযোগ, পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ছোট ভাই শাহীন চৌধুরী এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত।

কাজী মিজানুর রহমান মাধবখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁর বাড়িটি উপজেলার কাঁঠালতলী বাজারসংলগ্ন উত্তর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত। হামলার খবর পেয়ে মির্জাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল শনিবার সকাল ৬টা ৮ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম জানান, তারা সেখানে গিয়ে বাড়ির সামনের অংশ ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান এবং চারটি কক্ষে জ্বলন্ত আগুন নেভাতে সক্ষম হন।

ভুক্তভোগী নেতার স্ত্রী মেহেরুন্নেছা শিল্পী জানান, অসুস্থ শাশুড়িকে নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করার সুযোগে মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান এবং সাবেক সভাপতি মনির খন্দকারের নেতৃত্বে প্রায় আড়াই শ মানুষ এই হামলা চালায়। তিনি আরও জানান, ভবন ভাঙার পাশাপাশি চারটি রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন, এসি ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। ছয় কক্ষের প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের বাড়িটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

মেহেরুন্নেছা অভিযোগ করেন, হামলার আগে এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং ভিডিও ধারণ করতে চাইলে অনেকের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বাড়ির অদূরে কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও, হামলাকারীরা পুলিশকে ধাওয়া দিলে নিরাপত্তার স্বার্থে তারা সরে যেতে বাধ্য হয়। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে মৌখিকভাবে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহিন চৌধুরী দাবি করেন, তিনি শুক্রবার ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরেছেন, তাই ঘটনার বিষয়ে অবগত নন। ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মনির খন্দকার সরাসরি অভিযোগ অস্বীকার না করে দাবি করেন, মিজানুর রহমান পাবলিক লাইব্রেরির জমি দখল করে ঘর তুলেছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন যে, ৫ আগস্টের পর তারা চাইলে বাড়িটি ভাঙতে পারতেন কিন্তু তখন পাহারা দিয়েছিলেন।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা বাড়িটি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলেছেন এবং কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়িকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।