লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদত্যাগ করে গুলশানের বাসায় উঠছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। আজ বা আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বঙ্গভবন ত্যাগ করতে পারেন। বঙ্গভবন ছাড়ার পর তিনি রাজধানীর গুলশানে নিজের ব্যক্তিগত বাসভবনে গিয়ে উঠবেন।

দেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে হলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তবে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফেরার পর এই আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত রূপ পাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি ইতিমধ্যে পদত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তাঁর পদত্যাগপত্রও তৈরি করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তিনি তাতে স্বাক্ষর করেননি। রাষ্ট্রপতির মনোনীত কয়েকজন কর্মকর্তা ইতিমধ্যে তাঁদের ব্যক্তিগত মালামাল গোছানোর কাজ শেষ করেছেন। কয়েক দিন আগে রাষ্ট্রপতি তাঁর অধস্তন কর্মকর্তাদের চলতি মাসের মধ্যেই বঙ্গভবন ছাড়ার মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন। পদত্যাগের পর গুলশানের বাসায় কিছুদিন থাকার পর চিকিৎসা ও বিশ্রামের উদ্দেশ্যে তাঁর বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বঙ্গভবনে কর্মরত আরেকজন কর্মকর্তা জানান, দুদিন আগে রাষ্ট্রপতি তাঁদের বলেছিলেন, ‘স্যার দুদিন আগে জানিয়েছেন যে, ওরা আমাকে (রাষ্ট্রপতি) চলে যেতে বলেছে। হয়তো আমার চলে যেতে হবে। তোমরা চলতি মাসের মধ্যেই বঙ্গভবন ছেড়ে যার যার মতো করে চলে যাও।’ তবে ‘ওরা’ বলতে রাষ্ট্রপতি কাদের বুঝিয়েছেন, সে বিষয়ে ওই কর্মকর্তা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

রাষ্ট্রপতির এই আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্তের পেছনে কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ১৮ মে তিনি দেশে ফেরার পর একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মাঠে নামে। মূলত এই গোপন ফোনালাপ এবং আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা—এই দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই সরকার মনে করছে রাষ্ট্রপতিকে আর এই পদে রাখা সমীচীন হবে না। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সর্বশেষ তিনি জানিয়েছিলেন, সরকার চাইলে তিনি দায়িত্বে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

পদত্যাগ করে গুলশানের বাসায় উঠছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩৭:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। আজ বা আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বঙ্গভবন ত্যাগ করতে পারেন। বঙ্গভবন ছাড়ার পর তিনি রাজধানীর গুলশানে নিজের ব্যক্তিগত বাসভবনে গিয়ে উঠবেন।

দেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে হলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তবে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমানে চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফেরার পর এই আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত রূপ পাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি ইতিমধ্যে পদত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তাঁর পদত্যাগপত্রও তৈরি করা হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তিনি তাতে স্বাক্ষর করেননি। রাষ্ট্রপতির মনোনীত কয়েকজন কর্মকর্তা ইতিমধ্যে তাঁদের ব্যক্তিগত মালামাল গোছানোর কাজ শেষ করেছেন। কয়েক দিন আগে রাষ্ট্রপতি তাঁর অধস্তন কর্মকর্তাদের চলতি মাসের মধ্যেই বঙ্গভবন ছাড়ার মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন। পদত্যাগের পর গুলশানের বাসায় কিছুদিন থাকার পর চিকিৎসা ও বিশ্রামের উদ্দেশ্যে তাঁর বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বঙ্গভবনে কর্মরত আরেকজন কর্মকর্তা জানান, দুদিন আগে রাষ্ট্রপতি তাঁদের বলেছিলেন, ‘স্যার দুদিন আগে জানিয়েছেন যে, ওরা আমাকে (রাষ্ট্রপতি) চলে যেতে বলেছে। হয়তো আমার চলে যেতে হবে। তোমরা চলতি মাসের মধ্যেই বঙ্গভবন ছেড়ে যার যার মতো করে চলে যাও।’ তবে ‘ওরা’ বলতে রাষ্ট্রপতি কাদের বুঝিয়েছেন, সে বিষয়ে ওই কর্মকর্তা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

রাষ্ট্রপতির এই আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্তের পেছনে কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ১৮ মে তিনি দেশে ফেরার পর একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মাঠে নামে। মূলত এই গোপন ফোনালাপ এবং আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা—এই দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই সরকার মনে করছে রাষ্ট্রপতিকে আর এই পদে রাখা সমীচীন হবে না। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সর্বশেষ তিনি জানিয়েছিলেন, সরকার চাইলে তিনি দায়িত্বে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।