লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্পেনে আটকা পড়া অভিবাসীদের ইউরোপে আশ্রয়ের দাবিতে বিক্ষোভ

স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় প্রবেশ করা শত শত অভিবাসী রোববার এল ত্রামপোলিন সৈকতে বিক্ষোভ করেছেন। তারা দাবি জানিয়েছেন, মরক্কোতে ফেরত না পাঠিয়ে স্পেন কর্তৃপক্ষ যেন তাদের আশ্রয়ের সুযোগ দেয়। দুই সপ্তাহ আগে সেউতা সীমান্তে ব্যাপক অভিবাসী ঢলের পর প্রায় ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার মানুষ সেখানে আটকা পড়েছেন, যাদের মধ্যে এই বিক্ষোভকারীরা রয়েছেন। ওই সময়ে প্রায় ৭২ হাজার মানুষ ৮০ হাজার জনসংখ্যার এই ছোট ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন, যার একটি বড় অংশ পরবর্তীতে স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেলেও যারা রয়ে গেছেন তারা ইউরোপে প্রবেশের অধিকারের দাবিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ ইসমাইল হোসাইন (৩৪) রয়েছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দুই বছর আগে বাংলাদেশ ছেড়ে তিনি ভারত, পাকিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, মিশর, লিবিয়া ও আলজেরিয়া হয়ে পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপের দিকে এগিয়েছেন। মরুভূমিতে তৃষ্ণায় সহযাত্রীদের মৃত্যুর ভয়াবহতা দেখেছেন তিনি। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল ‘আমরাও মানুষ’ এবং ‘আমরা মরক্কোয় ফিরে যেতে চাই না’। তারা ‘আমরা ক্লান্ত’ ও ‘আমাদের একটি সমাধান দরকার’ স্লোগান দেন। তেতোয়ান শহরের বাসিন্দা আয়ুব এলারুদ জানান, তারা সমুদ্রের পাশে ঠান্ডা ও দুর্গন্ধের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং পুলিশ তাদের শহরের কেন্দ্রের দিকে যেতে বাধা দিচ্ছে।

স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা চলতি সপ্তাহে জানিয়েছেন, অনিয়মিতভাবে সেউতায় প্রবেশ করা অভিবাসীদের সেখানে থাকার অনুমতি বা মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। তবে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে। সেউতার মেডিকেল বোর্ডের প্রধান এনরিকে রোভিরাল্তা কেন্দ্রীয় সরকারের এই ধীর প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন। তিনি জানান, সেখানে সংক্রামক ডায়রিয়া ও খোসপাঁচড়ার মতো রোগ ছড়িয়ে পড়ছে এবং মারামারি ও ছুরিকাঘাতের মতো সহিংস ঘটনা বাড়ছে, যার ফলে স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছেন।

মরক্কোর অধিকাংশ অভিবাসী জানিয়েছেন, নিজ দেশে কর্মপরিবেশ ও আয়ের অভাবের কারণে তারা ইউরোপে পাড়ি জমাচ্ছেন। তবে সবাই কেবল অর্থনৈতিক কারণে আসছেন না; নাইজেরিয়ার ইলেকট্রিশিয়ান ইমানুয়েল জানান, সন্তানদের অপহরণের ভয় থেকে বাঁচতে তিনি চার মাসের বিপজ্জনক যাত্রা শুরু করেন। সেনেগালের ওসমান জানান, যৌন পরিচয়ের কারণে নিপীড়নের শিকার হয়ে তিনি আশ্রয় খুঁজছেন। বর্তমানে সেউতার এই পরিস্থিতি স্পেনের জন্য মানবিক, রাজনৈতিক ও স্বাস্থ্যসেবার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কোটালীপাড়ায় বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, আহত ২

স্পেনে আটকা পড়া অভিবাসীদের ইউরোপে আশ্রয়ের দাবিতে বিক্ষোভ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় প্রবেশ করা শত শত অভিবাসী রোববার এল ত্রামপোলিন সৈকতে বিক্ষোভ করেছেন। তারা দাবি জানিয়েছেন, মরক্কোতে ফেরত না পাঠিয়ে স্পেন কর্তৃপক্ষ যেন তাদের আশ্রয়ের সুযোগ দেয়। দুই সপ্তাহ আগে সেউতা সীমান্তে ব্যাপক অভিবাসী ঢলের পর প্রায় ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার মানুষ সেখানে আটকা পড়েছেন, যাদের মধ্যে এই বিক্ষোভকারীরা রয়েছেন। ওই সময়ে প্রায় ৭২ হাজার মানুষ ৮০ হাজার জনসংখ্যার এই ছোট ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন, যার একটি বড় অংশ পরবর্তীতে স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেলেও যারা রয়ে গেছেন তারা ইউরোপে প্রবেশের অধিকারের দাবিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ ইসমাইল হোসাইন (৩৪) রয়েছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দুই বছর আগে বাংলাদেশ ছেড়ে তিনি ভারত, পাকিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, মিশর, লিবিয়া ও আলজেরিয়া হয়ে পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপের দিকে এগিয়েছেন। মরুভূমিতে তৃষ্ণায় সহযাত্রীদের মৃত্যুর ভয়াবহতা দেখেছেন তিনি। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল ‘আমরাও মানুষ’ এবং ‘আমরা মরক্কোয় ফিরে যেতে চাই না’। তারা ‘আমরা ক্লান্ত’ ও ‘আমাদের একটি সমাধান দরকার’ স্লোগান দেন। তেতোয়ান শহরের বাসিন্দা আয়ুব এলারুদ জানান, তারা সমুদ্রের পাশে ঠান্ডা ও দুর্গন্ধের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং পুলিশ তাদের শহরের কেন্দ্রের দিকে যেতে বাধা দিচ্ছে।

স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা চলতি সপ্তাহে জানিয়েছেন, অনিয়মিতভাবে সেউতায় প্রবেশ করা অভিবাসীদের সেখানে থাকার অনুমতি বা মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। তবে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে। সেউতার মেডিকেল বোর্ডের প্রধান এনরিকে রোভিরাল্তা কেন্দ্রীয় সরকারের এই ধীর প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন। তিনি জানান, সেখানে সংক্রামক ডায়রিয়া ও খোসপাঁচড়ার মতো রোগ ছড়িয়ে পড়ছে এবং মারামারি ও ছুরিকাঘাতের মতো সহিংস ঘটনা বাড়ছে, যার ফলে স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছেন।

মরক্কোর অধিকাংশ অভিবাসী জানিয়েছেন, নিজ দেশে কর্মপরিবেশ ও আয়ের অভাবের কারণে তারা ইউরোপে পাড়ি জমাচ্ছেন। তবে সবাই কেবল অর্থনৈতিক কারণে আসছেন না; নাইজেরিয়ার ইলেকট্রিশিয়ান ইমানুয়েল জানান, সন্তানদের অপহরণের ভয় থেকে বাঁচতে তিনি চার মাসের বিপজ্জনক যাত্রা শুরু করেন। সেনেগালের ওসমান জানান, যৌন পরিচয়ের কারণে নিপীড়নের শিকার হয়ে তিনি আশ্রয় খুঁজছেন। বর্তমানে সেউতার এই পরিস্থিতি স্পেনের জন্য মানবিক, রাজনৈতিক ও স্বাস্থ্যসেবার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।