লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

র‍্যাব বিলুপ্ত হচ্ছে না, নতুন নামে পুনর্গঠনের পথে সরকার

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত না করে বরং বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে নতুন আইনের অধীনে একে টিকিয়ে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বর্তমানে এ লক্ষ্যে একটি নতুন আইনের খসড়া তৈরির কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন এই বাহিনীটি 'স্পেশাল রেসপন্স ফোর্স' (এসআরএফ) অথবা 'স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন' (এসআরবি) নামে পুলিশের অধীনে কাজ করবে। ২০০৩ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (সংশোধনী) আইনের মাধ্যমে র‍্যাব গঠিত হলেও, এবার সম্পূর্ণ পৃথক আইনের মাধ্যমে নতুন এই ইউনিটটি পরিচালিত হবে।

গত রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে নতুন খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, র‍্যাবকে কেবল নামমাত্র পুলিশের অধীনে না রেখে তাদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এছাড়া র‍্যাবের কার্যক্রম সারা দেশের পরিবর্তে কেবল মহানগর এলাকায় সীমাবদ্ধ রাখা যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে জেলা পর্যায়ে পুলিশের জনবল সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ র‍্যাবের কার্যক্রম জেলা পর্যায়ে বিস্তৃত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।

প্রস্তাবিত খসড়া আইনে ৯টি অধ্যায় ও ২৯টি ধারা রয়েছে। এর মধ্যে ইউনিটের গঠন, দায়িত্ব, তল্লাশি ও গ্রেপ্তার, ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত, শৃঙ্খলা, প্রশিক্ষণ এবং পুরোনো র‍্যাবের সম্পদ ও সদস্য স্থানান্তরের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে র‍্যাব নামটি বিলুপ্ত হলেও বাহিনীটির যাবতীয় স্থাপনা, অস্ত্র, সরঞ্জাম, মামলা এবং সদস্য নতুন ইউনিটে স্থানান্তরিত হবে। ২৯ জুলাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সাথে আরেকটি সভা শেষে এই আইনের খসড়া চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।

নতুন এই বিশেষায়িত ইউনিটটি পুলিশের অধীনে কাজ করবে এবং এর মহাপরিচালক হিসেবে পুলিশে কর্মরত অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। খসড়া অনুযায়ী, বাহিনীটিতে পুলিশ ছাড়াও সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রেষণে বা সাময়িকভাবে সংযুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সুপারিশ ছিল যে, শুধু পুলিশের প্রশিক্ষিত সদস্যদের নিয়ে এই ইউনিট গঠন করা হোক, তবে প্রস্তাবিত খসড়ায় সামরিক সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পুরোপুরি রহিত করা হয়নি।

নতুন ইউনিটের দায়িত্বের তালিকায় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সন্ত্রাসী ও সাইবার অপরাধ দমন এবং মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের মতো আটটি ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও প্রস্তাবিত আইনে রাখা হয়েছে। এছাড়া, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই ইউনিট পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সংস্থার ভূমিকা পালন করতে পারবে। তবে মানবাধিকারকর্মী মো. নূর খান মনে করেন, শুধু নাম বা পোশাক পরিবর্তন করলেই বাহিনীর সংস্কার হয় না; বরং বাহিনীর ক্ষমতা, কাঠামো ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদের নিয়মিত আইন প্রয়োগের কাজে যুক্ত রাখার বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের

র‍্যাব বিলুপ্ত হচ্ছে না, নতুন নামে পুনর্গঠনের পথে সরকার

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত না করে বরং বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে নতুন আইনের অধীনে একে টিকিয়ে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বর্তমানে এ লক্ষ্যে একটি নতুন আইনের খসড়া তৈরির কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন এই বাহিনীটি 'স্পেশাল রেসপন্স ফোর্স' (এসআরএফ) অথবা 'স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন' (এসআরবি) নামে পুলিশের অধীনে কাজ করবে। ২০০৩ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (সংশোধনী) আইনের মাধ্যমে র‍্যাব গঠিত হলেও, এবার সম্পূর্ণ পৃথক আইনের মাধ্যমে নতুন এই ইউনিটটি পরিচালিত হবে।

গত রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে নতুন খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, র‍্যাবকে কেবল নামমাত্র পুলিশের অধীনে না রেখে তাদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এছাড়া র‍্যাবের কার্যক্রম সারা দেশের পরিবর্তে কেবল মহানগর এলাকায় সীমাবদ্ধ রাখা যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে জেলা পর্যায়ে পুলিশের জনবল সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ র‍্যাবের কার্যক্রম জেলা পর্যায়ে বিস্তৃত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।

প্রস্তাবিত খসড়া আইনে ৯টি অধ্যায় ও ২৯টি ধারা রয়েছে। এর মধ্যে ইউনিটের গঠন, দায়িত্ব, তল্লাশি ও গ্রেপ্তার, ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত, শৃঙ্খলা, প্রশিক্ষণ এবং পুরোনো র‍্যাবের সম্পদ ও সদস্য স্থানান্তরের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নতুন কাঠামো কার্যকর হলে র‍্যাব নামটি বিলুপ্ত হলেও বাহিনীটির যাবতীয় স্থাপনা, অস্ত্র, সরঞ্জাম, মামলা এবং সদস্য নতুন ইউনিটে স্থানান্তরিত হবে। ২৯ জুলাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সাথে আরেকটি সভা শেষে এই আইনের খসড়া চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।

নতুন এই বিশেষায়িত ইউনিটটি পুলিশের অধীনে কাজ করবে এবং এর মহাপরিচালক হিসেবে পুলিশে কর্মরত অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। খসড়া অনুযায়ী, বাহিনীটিতে পুলিশ ছাড়াও সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রেষণে বা সাময়িকভাবে সংযুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সুপারিশ ছিল যে, শুধু পুলিশের প্রশিক্ষিত সদস্যদের নিয়ে এই ইউনিট গঠন করা হোক, তবে প্রস্তাবিত খসড়ায় সামরিক সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পুরোপুরি রহিত করা হয়নি।

নতুন ইউনিটের দায়িত্বের তালিকায় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সন্ত্রাসী ও সাইবার অপরাধ দমন এবং মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের মতো আটটি ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও প্রস্তাবিত আইনে রাখা হয়েছে। এছাড়া, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই ইউনিট পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সংস্থার ভূমিকা পালন করতে পারবে। তবে মানবাধিকারকর্মী মো. নূর খান মনে করেন, শুধু নাম বা পোশাক পরিবর্তন করলেই বাহিনীর সংস্কার হয় না; বরং বাহিনীর ক্ষমতা, কাঠামো ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদের নিয়মিত আইন প্রয়োগের কাজে যুক্ত রাখার বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।