লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাস্তার ধারের খাবারের ব্যবসায় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, আপত্তি ব্যবসায়ীদের

আগামী ১ নভেম্বর থেকে রাস্তার ধারের পিঠা, পুরি, পিঁয়াজু ও ফলের রসের মতো অস্থায়ী খাবারের দোকানের মালিকদের জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) এই নতুন নিয়ম কার্যকর করতে যাচ্ছে। এর ফলে খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের বিদ্যমান ভ্যাট নিবন্ধন ও অন্যান্য লাইসেন্সের পাশাপাশি নতুন এই ধাপটি সম্পন্ন করতে হবে।

গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ জারি করা হয়। নতুন এই প্রবিধান অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে সংশ্লিষ্টরা নিবন্ধন ও লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি বিনা মূল্যে রাখা হয়েছে। তবে বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য—যেমন উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি ও বিপণনের সঙ্গে জড়িতদের নিবন্ধনের পাশাপাশি ফি দিয়ে বিশেষায়িত লাইসেন্স নিতে হবে।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো খাবার বিক্রেতাদের একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনা। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বিক্রেতাদের তালিকা তৈরি করা সহজ হবে, প্রয়োজনে প্রশিক্ষণ দেওয়া যাবে এবং জবাবদিহির জায়গা তৈরি হবে। তবে কাউকে হয়রানি করার পরিকল্পনা নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। রাস্তার ধারের খাবার জনস্বাস্থ্যের জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি করছে কি না, তা দেখভাল করাই এই কার্যক্রমের লক্ষ্য।

নতুন এই নিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান এই উদ্যোগকে ব্যবসায়ীদের ওপর নির্যাতনের নতুন ‘হাতিয়ার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে লাইসেন্স নেওয়াই কঠিন। নতুন এই বিধান কার্যকর হলে তা ব্যবসায়ীদের জরিমানা করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে। তার মতে, এ খাতের অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি একক নিয়ন্ত্রণকাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন ছিল।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, ক্যাটারিং, প্যাকেটজাত খাবার উৎপাদনকারী, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী, পাইকারি মুদি ব্যবসা, হিমাগার এবং ভোজ্যতেল ও লবণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া শিশুদের ফর্মুলা দুধ, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত খাবার, প্রোবায়োটিক, জৈব খাদ্য এবং জিনগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত খাদ্য ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স নিতে হবে।

লাইসেন্সের ফি প্রতিষ্ঠানের আয়তনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের জন্য ১০ হাজার টাকা এবং ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের জন্য ৬০ হাজার টাকা ফি দিতে হবে। এই নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ থাকবে তিন বছর। মেয়াদ শেষে তা নবায়ন করতে হবে এবং খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বিএফএসএর নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। বর্তমানে প্রাথমিক আবেদনগুলো সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে জমা দেওয়া যাবে, তবে পর্যায়ক্রমে শতভাগ অনলাইন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, অনুমোদন ছাড়া খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করা দণ্ডনীয় অপরাধ।

জনপ্রিয় সংবাদ

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কাঠালিয়ায় বিভিন্ন মন্দির পরিদর্শন করলেন সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু

রাস্তার ধারের খাবারের ব্যবসায় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, আপত্তি ব্যবসায়ীদের

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০৯:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

আগামী ১ নভেম্বর থেকে রাস্তার ধারের পিঠা, পুরি, পিঁয়াজু ও ফলের রসের মতো অস্থায়ী খাবারের দোকানের মালিকদের জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) এই নতুন নিয়ম কার্যকর করতে যাচ্ছে। এর ফলে খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের বিদ্যমান ভ্যাট নিবন্ধন ও অন্যান্য লাইসেন্সের পাশাপাশি নতুন এই ধাপটি সম্পন্ন করতে হবে।

গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’ জারি করা হয়। নতুন এই প্রবিধান অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে সংশ্লিষ্টরা নিবন্ধন ও লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি বিনা মূল্যে রাখা হয়েছে। তবে বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য—যেমন উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি ও বিপণনের সঙ্গে জড়িতদের নিবন্ধনের পাশাপাশি ফি দিয়ে বিশেষায়িত লাইসেন্স নিতে হবে।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো খাবার বিক্রেতাদের একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনা। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বিক্রেতাদের তালিকা তৈরি করা সহজ হবে, প্রয়োজনে প্রশিক্ষণ দেওয়া যাবে এবং জবাবদিহির জায়গা তৈরি হবে। তবে কাউকে হয়রানি করার পরিকল্পনা নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। রাস্তার ধারের খাবার জনস্বাস্থ্যের জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি করছে কি না, তা দেখভাল করাই এই কার্যক্রমের লক্ষ্য।

নতুন এই নিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান এই উদ্যোগকে ব্যবসায়ীদের ওপর নির্যাতনের নতুন ‘হাতিয়ার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে লাইসেন্স নেওয়াই কঠিন। নতুন এই বিধান কার্যকর হলে তা ব্যবসায়ীদের জরিমানা করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে। তার মতে, এ খাতের অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি একক নিয়ন্ত্রণকাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন ছিল।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, ক্যাটারিং, প্যাকেটজাত খাবার উৎপাদনকারী, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী, পাইকারি মুদি ব্যবসা, হিমাগার এবং ভোজ্যতেল ও লবণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া শিশুদের ফর্মুলা দুধ, বিশেষ পথ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত খাবার, প্রোবায়োটিক, জৈব খাদ্য এবং জিনগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত খাদ্য ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স নিতে হবে।

লাইসেন্সের ফি প্রতিষ্ঠানের আয়তনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের জন্য ১০ হাজার টাকা এবং ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের জন্য ৬০ হাজার টাকা ফি দিতে হবে। এই নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ থাকবে তিন বছর। মেয়াদ শেষে তা নবায়ন করতে হবে এবং খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বিএফএসএর নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। বর্তমানে প্রাথমিক আবেদনগুলো সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে জমা দেওয়া যাবে, তবে পর্যায়ক্রমে শতভাগ অনলাইন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, অনুমোদন ছাড়া খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করা দণ্ডনীয় অপরাধ।