লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে বিচার শুরু বাংলাদেশি মানবপাচারকারী সাইফুল্লাহ আল-মামুনের

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মানবপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত সাইফুল্লাহ আল-মামুনকে ব্রাজিলে গ্রেপ্তারের দীর্ঘ সাত বছর পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের লরেডো ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়েছে, যেখানে তার বিরুদ্ধে মানবপাচারের একাধিক অভিযোগে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার সাইফুল্লাহ আল-মামুনকে আনুষ্ঠানিকভাবে লরেডো ফেডারেল আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে গত ৮ জুলাই বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় ব্রাজিল পুলিশ তাকে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করে। ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর সাও পাওলোতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, সাইফুল্লাহ আল-মামুন বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে মানুষ পাচারের একটি আন্তর্জাতিক চক্রের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তিনি জনপ্রতি ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের ব্রাজিল, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন দেশ এবং মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ব্যবস্থা করতেন। পাচারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশি যুবকদের প্রথমে সাও পাওলোর একটি ক্যাম্পে রাখা হতো। পরে মেক্সিকোর তাপাচুলা ও মন্তেররেই শহর হয়ে শেষ ধাপে রিও গ্রান্দে নদী পার করে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করানো হতো।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মেক্সিকোতে গ্রেপ্তার হওয়া চক্রের অন্য দুই সদস্য মোহাম্মদ মিলন হোসেন ও মোক্তার হোসেনের তথ্যের ভিত্তিতে সাইফুল্লাহ আল-মামুনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। মিলন ও মোক্তার এরই মধ্যে দোষ স্বীকার করায় টেক্সাসের ফেডারেল আদালত তাদের ৪৬ মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাইফুল্লাহ আল-মামুনের পাঁচ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

মার্কিন বিচার বিভাগের বিশেষ উদ্যোগ ‘জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স আলফা (জেটিএফএ)’ এই চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। এখন পর্যন্ত এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের ৪৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪১৪ জন বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড পেয়েছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চক্রের আরও কয়েক সদস্য ঢাকা, নোয়াখালী ও সিলেটে অবস্থান করছেন বলে তথ্য রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীপুরে গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের নতুন প্রশাসক নিয়োগ

যুক্তরাষ্ট্রে বিচার শুরু বাংলাদেশি মানবপাচারকারী সাইফুল্লাহ আল-মামুনের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:০০:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মানবপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত সাইফুল্লাহ আল-মামুনকে ব্রাজিলে গ্রেপ্তারের দীর্ঘ সাত বছর পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের লরেডো ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়েছে, যেখানে তার বিরুদ্ধে মানবপাচারের একাধিক অভিযোগে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার সাইফুল্লাহ আল-মামুনকে আনুষ্ঠানিকভাবে লরেডো ফেডারেল আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে গত ৮ জুলাই বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় ব্রাজিল পুলিশ তাকে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করে। ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর সাও পাওলোতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, সাইফুল্লাহ আল-মামুন বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে মানুষ পাচারের একটি আন্তর্জাতিক চক্রের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তিনি জনপ্রতি ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের ব্রাজিল, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন দেশ এবং মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ব্যবস্থা করতেন। পাচারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশি যুবকদের প্রথমে সাও পাওলোর একটি ক্যাম্পে রাখা হতো। পরে মেক্সিকোর তাপাচুলা ও মন্তেররেই শহর হয়ে শেষ ধাপে রিও গ্রান্দে নদী পার করে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করানো হতো।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, মেক্সিকোতে গ্রেপ্তার হওয়া চক্রের অন্য দুই সদস্য মোহাম্মদ মিলন হোসেন ও মোক্তার হোসেনের তথ্যের ভিত্তিতে সাইফুল্লাহ আল-মামুনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। মিলন ও মোক্তার এরই মধ্যে দোষ স্বীকার করায় টেক্সাসের ফেডারেল আদালত তাদের ৪৬ মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাইফুল্লাহ আল-মামুনের পাঁচ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

মার্কিন বিচার বিভাগের বিশেষ উদ্যোগ ‘জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স আলফা (জেটিএফএ)’ এই চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। এখন পর্যন্ত এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের ৪৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪১৪ জন বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড পেয়েছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চক্রের আরও কয়েক সদস্য ঢাকা, নোয়াখালী ও সিলেটে অবস্থান করছেন বলে তথ্য রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।