লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানি মিত্রদের বড় ধরনের সমন্বিত হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরব

সৌদি আরবের কৌশলগত জ্বালানি অবকাঠামো, বিমানবন্দর এবং সমুদ্রবন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের সামরিক হামলার আশঙ্কা করছে রিয়াদ। দেশটির জ্যেষ্ঠ সরকারি সূত্র দাবি করেছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) তত্ত্বাবধানে উত্তরে ইরাকি শিয়া মিলিশিয়া এবং দক্ষিণে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সমন্বয়ে এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যে এমন ভয়াবহ হামলার ইঙ্গিত পাওয়ার পরই রিয়াদ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ১১ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি শুক্রবার ভোরে জানান, নাজরান প্রদেশে হওয়া এই হামলায় সাত সৌদি নাগরিক, এক ইয়েমেনি, দুই মিসরীয় ও এক পাকিস্তানি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার কাছাকাছি রয়েছে তেহরান। আধা-সরকারি ফার্স নিউজ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় জাহাজ চলাচলের জন্য তিন ধাপের একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রণালিতে প্রবেশের সময় ইরান উপকূল এবং বের হওয়ার সময় ওমান উপকূল ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হওয়ার পর দুটি লেনই বন্ধ করে সব বাণিজ্যিক জাহাজ একটি একক কেন্দ্রীয় করিডোর দিয়ে চলাচলের বিধান রাখা হয়েছে। পারস্য উপসাগরে প্রবেশের সময় ইরান এককভাবে এবং বের হওয়ার সময় ইরান ও ওমান যৌথভাবে জাহাজ তদারকি করবে।

তবে এই দ্বিপক্ষীয় কাঠামো চূড়ান্ত হলেও প্রণালিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে উন্মুক্ত হচ্ছে না বলে সতর্ক করেছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। তিনি রাষ্ট্রীয় মাধ্যম আইআরএনএ-কে জানান, মুক্ত চলাচলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বাজেয়াপ্ত সম্পদ নিয়ে আলোচনার শর্ত পূরণ করতে হবে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কোনো দ্বিতীয় করিডোর তৈরি করতে দেওয়া হবে না। তিনি সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলে তাদের বাহিনী ও জাহাজ সরাসরি আঘাতের মুখে পড়তে পারে।

পাশাপাশি ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি একটি নতুন খসড়া বিল পর্যালোচনা করছে। এই বিলে মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজসহ ইরানের ক্ষতি করা যেকোনো দেশের সামরিক ও বেসামরিক জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এবং অমান্যকারী কার্গোর ওপর ২০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ট্রানজিট ফি হিসেবে ইরানি মুদ্রা নির্ধারণের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রদর্শনীতে মুজিব থাকলেও নেই জিয়া: জামায়াত আমিরের ব্যাখ্যা ও রিজভীর প্রশ্ন

ইরানি মিত্রদের বড় ধরনের সমন্বিত হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরব

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩৬:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরবের কৌশলগত জ্বালানি অবকাঠামো, বিমানবন্দর এবং সমুদ্রবন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের সামরিক হামলার আশঙ্কা করছে রিয়াদ। দেশটির জ্যেষ্ঠ সরকারি সূত্র দাবি করেছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) তত্ত্বাবধানে উত্তরে ইরাকি শিয়া মিলিশিয়া এবং দক্ষিণে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সমন্বয়ে এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যে এমন ভয়াবহ হামলার ইঙ্গিত পাওয়ার পরই রিয়াদ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ১১ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি শুক্রবার ভোরে জানান, নাজরান প্রদেশে হওয়া এই হামলায় সাত সৌদি নাগরিক, এক ইয়েমেনি, দুই মিসরীয় ও এক পাকিস্তানি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার কাছাকাছি রয়েছে তেহরান। আধা-সরকারি ফার্স নিউজ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় জাহাজ চলাচলের জন্য তিন ধাপের একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রণালিতে প্রবেশের সময় ইরান উপকূল এবং বের হওয়ার সময় ওমান উপকূল ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হওয়ার পর দুটি লেনই বন্ধ করে সব বাণিজ্যিক জাহাজ একটি একক কেন্দ্রীয় করিডোর দিয়ে চলাচলের বিধান রাখা হয়েছে। পারস্য উপসাগরে প্রবেশের সময় ইরান এককভাবে এবং বের হওয়ার সময় ইরান ও ওমান যৌথভাবে জাহাজ তদারকি করবে।

তবে এই দ্বিপক্ষীয় কাঠামো চূড়ান্ত হলেও প্রণালিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে উন্মুক্ত হচ্ছে না বলে সতর্ক করেছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি। তিনি রাষ্ট্রীয় মাধ্যম আইআরএনএ-কে জানান, মুক্ত চলাচলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বাজেয়াপ্ত সম্পদ নিয়ে আলোচনার শর্ত পূরণ করতে হবে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কোনো দ্বিতীয় করিডোর তৈরি করতে দেওয়া হবে না। তিনি সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলে তাদের বাহিনী ও জাহাজ সরাসরি আঘাতের মুখে পড়তে পারে।

পাশাপাশি ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি একটি নতুন খসড়া বিল পর্যালোচনা করছে। এই বিলে মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজসহ ইরানের ক্ষতি করা যেকোনো দেশের সামরিক ও বেসামরিক জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এবং অমান্যকারী কার্গোর ওপর ২০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ট্রানজিট ফি হিসেবে ইরানি মুদ্রা নির্ধারণের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।