লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহরুখের মান্নাত: ১৮ কোটির বাড়ি যেভাবে হলো ৩০০ কোটির সম্পদ

বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের আইকনিক বাসভবন ‘মান্নাত’ আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদনের পর মুম্বাইয়ের বান্দ্রা ব্যান্ড স্ট্যান্ডে অবস্থিত ছয়তলা এই ঐতিহ্যবাহী বাড়িতে আরও দুটি তলা যুক্ত করার আইনি পথ এখন পুরোপুরি উন্মুক্ত। আইনি চ্যালেঞ্জ খারিজ হওয়ায় শাহরুখ খান ও তার পরিবার এখন তাদের বহুদিনের পরিকল্পিত এই সম্প্রসারণকাজ এগিয়ে নিতে পারবেন। সংস্কারকাজ শুরুর সুবিধার্থে ২০২৫ সালের এপ্রিলে শাহরুখ খান পরিবারসহ সাময়িকভাবে বান্দ্রার পালি হিল এলাকার বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ‘পূজা কাসা’-তে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন।

শাহরুখ খানের ‘মান্নাত’ কেনার স্বপ্ন শুরু হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। ‘ইয়েস বস’ ছবির ‘চাঁদ তারে’ গানের শুটিংয়ের সময় তৎকালীন ‘ভিলা ভিয়েনা’ নামে পরিচিত সমুদ্রমুখী এই বাংলোটি তার নজর কাড়ে। সেই সময় নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে সরিয়ে দিলেও, শাহরুখ রসিকতা করে সহকর্মীদের বলেছিলেন, একদিন এই বাড়ির মালিক তিনিই হবেন। চার বছর পর ২০০১ সালে সেই স্বপ্ন সত্যি হয়। গুজরাটি ব্যবসায়ী নারিম্যান দুবাশের কাছ থেকে বাড়িটি কিনে নেন শাহরুখ। বাড়িটি আগে ‘বাই খোরশেদ ভানু সঞ্জানা ট্রাস্ট’-এর মালিকানায় ছিল। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ কোটি রুপিতে কেনা সেই বাড়ির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩০০ কোটি রুপি।

শুরুর দিকে বাড়িটির নাম রাখা হয়েছিল ‘জান্নাত’। তবে ক্যারিয়ারের বড় সাফল্যের পর শাহরুখ এর নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘মান্নাত’, যার অর্থ পূরণ হওয়া ইচ্ছা বা প্রার্থনা। এক সাক্ষাৎকারে শাহরুখ জানিয়েছিলেন, ‘মান্নাত’ কেনা তার জীবনের অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল। বাড়িটি কেনার জন্য তাকে ঋণ নিতে হয়েছিল এবং অসংখ্য বিজ্ঞাপন, স্টেজ শো ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হয়েছিল। এমনকি পাঁচ-ছয় বছর ধরে অগ্রিম পারিশ্রমিক নিয়ে তুলনামূলক কম পারিশ্রমিকে কাজও করেছেন তিনি। নিজের ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এবং একটি স্থায়ী ঠিকানা গড়তেই তিনি এই সংগ্রাম করেছিলেন।

‘মান্নাত’ কেনার আগে শাহরুখ ও গৌরী খান কার্টার রোডের একটি তিন বেডরুমের ফ্ল্যাটে থাকতেন। ২০০১ সালে নতুন বাড়িতে ওঠার পর গৌরী নিজ হাতে বাড়ির অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার দায়িত্ব নেন, যা পরবর্তীতে তাকে সফল ইন্টেরিয়র ডিজাইনার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ইতালীয় নকশা ও নিও-ক্লাসিক ধাঁচের সমন্বয়ে গৌরী বাড়িটিকে উষ্ণ ও আভিজাত্যপূর্ণ রূপ দেন। মিলান, প্যারিস ও লন্ডনের ডিজাইন প্রদর্শনী থেকে সংগ্রহ করা আসবাব দিয়ে সাজানো এই বাড়িতে এখন রয়েছে বিশাল লাইব্রেরি, আধুনিক জিম, ৪২ আসনের ব্যক্তিগত প্রেক্ষাগৃহ, ইতালীয় মার্বেলের ফ্লোরিং ও মুরানো গ্লাসের ঝাড়বাতি। দুই দশকের বেশি সময় ধরে ‘মান্নাত’ শুধু শাহরুখের বাসভবন নয়, বরং তার সাফল্য ও স্বপ্নপূরণের অনন্য প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ঈদ বা বিশেষ দিনে হাজারো ভক্ত প্রিয় তারকার এক ঝলক দেখার অপেক্ষায় এই বাড়ির সামনে ভিড় করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইয়েমেনে সৌদি হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত ৯ জন নিহত

শাহরুখের মান্নাত: ১৮ কোটির বাড়ি যেভাবে হলো ৩০০ কোটির সম্পদ

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৩২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের আইকনিক বাসভবন ‘মান্নাত’ আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদনের পর মুম্বাইয়ের বান্দ্রা ব্যান্ড স্ট্যান্ডে অবস্থিত ছয়তলা এই ঐতিহ্যবাহী বাড়িতে আরও দুটি তলা যুক্ত করার আইনি পথ এখন পুরোপুরি উন্মুক্ত। আইনি চ্যালেঞ্জ খারিজ হওয়ায় শাহরুখ খান ও তার পরিবার এখন তাদের বহুদিনের পরিকল্পিত এই সম্প্রসারণকাজ এগিয়ে নিতে পারবেন। সংস্কারকাজ শুরুর সুবিধার্থে ২০২৫ সালের এপ্রিলে শাহরুখ খান পরিবারসহ সাময়িকভাবে বান্দ্রার পালি হিল এলাকার বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ‘পূজা কাসা’-তে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন।

শাহরুখ খানের ‘মান্নাত’ কেনার স্বপ্ন শুরু হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। ‘ইয়েস বস’ ছবির ‘চাঁদ তারে’ গানের শুটিংয়ের সময় তৎকালীন ‘ভিলা ভিয়েনা’ নামে পরিচিত সমুদ্রমুখী এই বাংলোটি তার নজর কাড়ে। সেই সময় নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে সরিয়ে দিলেও, শাহরুখ রসিকতা করে সহকর্মীদের বলেছিলেন, একদিন এই বাড়ির মালিক তিনিই হবেন। চার বছর পর ২০০১ সালে সেই স্বপ্ন সত্যি হয়। গুজরাটি ব্যবসায়ী নারিম্যান দুবাশের কাছ থেকে বাড়িটি কিনে নেন শাহরুখ। বাড়িটি আগে ‘বাই খোরশেদ ভানু সঞ্জানা ট্রাস্ট’-এর মালিকানায় ছিল। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ কোটি রুপিতে কেনা সেই বাড়ির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩০০ কোটি রুপি।

শুরুর দিকে বাড়িটির নাম রাখা হয়েছিল ‘জান্নাত’। তবে ক্যারিয়ারের বড় সাফল্যের পর শাহরুখ এর নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘মান্নাত’, যার অর্থ পূরণ হওয়া ইচ্ছা বা প্রার্থনা। এক সাক্ষাৎকারে শাহরুখ জানিয়েছিলেন, ‘মান্নাত’ কেনা তার জীবনের অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল। বাড়িটি কেনার জন্য তাকে ঋণ নিতে হয়েছিল এবং অসংখ্য বিজ্ঞাপন, স্টেজ শো ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হয়েছিল। এমনকি পাঁচ-ছয় বছর ধরে অগ্রিম পারিশ্রমিক নিয়ে তুলনামূলক কম পারিশ্রমিকে কাজও করেছেন তিনি। নিজের ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এবং একটি স্থায়ী ঠিকানা গড়তেই তিনি এই সংগ্রাম করেছিলেন।

‘মান্নাত’ কেনার আগে শাহরুখ ও গৌরী খান কার্টার রোডের একটি তিন বেডরুমের ফ্ল্যাটে থাকতেন। ২০০১ সালে নতুন বাড়িতে ওঠার পর গৌরী নিজ হাতে বাড়ির অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার দায়িত্ব নেন, যা পরবর্তীতে তাকে সফল ইন্টেরিয়র ডিজাইনার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ইতালীয় নকশা ও নিও-ক্লাসিক ধাঁচের সমন্বয়ে গৌরী বাড়িটিকে উষ্ণ ও আভিজাত্যপূর্ণ রূপ দেন। মিলান, প্যারিস ও লন্ডনের ডিজাইন প্রদর্শনী থেকে সংগ্রহ করা আসবাব দিয়ে সাজানো এই বাড়িতে এখন রয়েছে বিশাল লাইব্রেরি, আধুনিক জিম, ৪২ আসনের ব্যক্তিগত প্রেক্ষাগৃহ, ইতালীয় মার্বেলের ফ্লোরিং ও মুরানো গ্লাসের ঝাড়বাতি। দুই দশকের বেশি সময় ধরে ‘মান্নাত’ শুধু শাহরুখের বাসভবন নয়, বরং তার সাফল্য ও স্বপ্নপূরণের অনন্য প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ঈদ বা বিশেষ দিনে হাজারো ভক্ত প্রিয় তারকার এক ঝলক দেখার অপেক্ষায় এই বাড়ির সামনে ভিড় করেন।