লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপরাধে দলীয় কর্মীদেরও ছাড় দেওয়া হবে না: শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর জেলা পুলিশের আয়োজনে মাদক, ইভটিজিং, অনলাইন জুয়া, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, বাল্যবিবাহ, আত্মহত্যা প্রতিরোধ এবং স্থানীয় বিরোধ ও জমিজমা সংক্রান্ত সংঘাত নিরসনে একটি সামাজিক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

সভায় নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে শামা ওবায়েদ বলেন, দলীয় পরিচয় বা ঘনিষ্ঠতা থাকলেই কেউ অপরাধ করে পার পেয়ে যাবে—এমনটি ভাবার কোনো সুযোগ নেই। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং জনগণের সেবা করাই জনপ্রতিনিধিদের মূল দায়িত্ব।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অনলাইন জুয়া ও ইভটিজিং কেবল আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, বরং এগুলো সমাজ ও পরিবারের জন্য বড় হুমকি। এসব অপরাধ দমনে প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতাসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার ও নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

বাল্যবিবাহ ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে পরিবারকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, স্থানীয় বিরোধ ও জমিজমা সংক্রান্ত সংঘাত সহিংসতার পথে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তিনি নগরকান্দা ও সালথার বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে বলেন, যাদের বাড়িতে সংঘর্ষে ব্যবহৃত ঢাল, সড়কি বা দেশীয় অস্ত্র রয়েছে, তারা যেন স্বেচ্ছায় তা থানায় জমা দেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার ইভটিজিং ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর আইন পাস করেছে। সমাজে শোষিত বা নির্যাতিত মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশ ও সরকারের দায়িত্ব। এছাড়া, কেউ নির্যাতনের শিকার হলে তাকে নির্ভয়ে থানায় অভিযোগ করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মীয়াজী, ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েলসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে খাসপাড়ার ৫০ ভূমিহীন পরিবারের উচ্ছেদ আপাতত স্থগিত

অপরাধে দলীয় কর্মীদেরও ছাড় দেওয়া হবে না: শামা ওবায়েদ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৪৫:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

ফরিদপুর জেলা পুলিশের আয়োজনে মাদক, ইভটিজিং, অনলাইন জুয়া, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, বাল্যবিবাহ, আত্মহত্যা প্রতিরোধ এবং স্থানীয় বিরোধ ও জমিজমা সংক্রান্ত সংঘাত নিরসনে একটি সামাজিক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

সভায় নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে শামা ওবায়েদ বলেন, দলীয় পরিচয় বা ঘনিষ্ঠতা থাকলেই কেউ অপরাধ করে পার পেয়ে যাবে—এমনটি ভাবার কোনো সুযোগ নেই। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং জনগণের সেবা করাই জনপ্রতিনিধিদের মূল দায়িত্ব।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অনলাইন জুয়া ও ইভটিজিং কেবল আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, বরং এগুলো সমাজ ও পরিবারের জন্য বড় হুমকি। এসব অপরাধ দমনে প্রশাসনের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতাসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার ও নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

বাল্যবিবাহ ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে পরিবারকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, স্থানীয় বিরোধ ও জমিজমা সংক্রান্ত সংঘাত সহিংসতার পথে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তিনি নগরকান্দা ও সালথার বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে বলেন, যাদের বাড়িতে সংঘর্ষে ব্যবহৃত ঢাল, সড়কি বা দেশীয় অস্ত্র রয়েছে, তারা যেন স্বেচ্ছায় তা থানায় জমা দেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার ইভটিজিং ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর আইন পাস করেছে। সমাজে শোষিত বা নির্যাতিত মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশ ও সরকারের দায়িত্ব। এছাড়া, কেউ নির্যাতনের শিকার হলে তাকে নির্ভয়ে থানায় অভিযোগ করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মীয়াজী, ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েলসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।