লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিকদের মারধরের পর বিএনপি নেতার হুমকি: ‘তোমরা লেখবা, আমরা পিডামু’

শরীয়তপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় তিন সাংবাদিককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ক্যাম্পাসে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন ডেইলি স্টারের জাহিদ হাসান, নিউজ টুয়েন্টিফোর ও জাগো নিউজ প্রতিনিধি বিধান মজুমদার এবং মানবকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি বরকত মোল্লা। ওই সময় জেলা বিএনপির নেতারা সেখানে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করছিলেন।

ঘটনার পর জাজিরা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সোনালী নিউজের প্রতিনিধি পলাশ খান বিষয়টি জানতে আরিফুজ্জামান মোল্লাকে মুঠোফোনে কল করেন। এ সময় বিএনপি নেতা আরিফ মোল্লা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘আরও তো মারুম, শুধু এহন না, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে পারে। অনেকেই লিস্টে আছে। ইনশা আল্লাহ, আল্লাহর রহমতে সন্ধ্যার মধ্যে আরও খবর পাইয়া যাইবা। তুমি নিজেও তৈরি থাক। তুমি আছ কোথায় এখন? বসো, আসতেছি। কত মাইনষে কত কথা কইছে, তুমিও অনেক কথা কইছো, ওই বাশার কথা কয়, রাজিব কথা কয়। …তোমরা লেখবা, আমরা পিডাইমু। হুদা না, আমার কথা হইল, তুমি আমারে ফোন করছ, তোমার পিছনে আরএস, সিএসটা দেখ।’

সাংবাদিক পলাশ খান এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় তিন সহকর্মীকে হামলা ও মারধর করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা আরিফ মোল্লার বিরুদ্ধে। তিনি আরও জানান, ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ওই নেতা তাকেসহ অন্যান্য সহকর্মীদেরও মারধরের হুমকি দিয়েছেন এবং প্রেসক্লাব ও এর নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। তিনি বিষয়টি মৌখিকভাবে পুলিশকে জানিয়েছেন এবং লিখিতভাবে আইনি পদক্ষেপ নেবেন।

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া ও সদর সার্কেল) মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের বিষয়টি তারা জেনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। এদিকে, অভিযুক্ত আরিফুজ্জামান মোল্লার বক্তব্য জানতে মঙ্গলবার রাত আটটা পর্যন্ত বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি তা ধরেননি।

উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীরের তিনটি দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়। এর প্রতিবাদে সাংবাদিক বি এম ইসরাফিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসক্লাব সভাপতি আবুল হোসেন ও জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের ছবি দিয়ে প্রতিবাদ করলে তাঁর ওপর হামলা হয়। ওই হামলা ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙার প্রতিবাদে রোববার বিকেলে সাংবাদিকেরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এবং জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহার দাবি করেন। এতে স্থানীয় বিএনপির একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়। তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ‘শরীয়তপুর জেলার সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে বিএনপির কর্মসূচি চলাকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপির নেতা–কর্মী–সমর্থকেরা যখন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হচ্ছিলেন, তখন সেখানে যান সাংবাদিক জাহিদ হাসান, বিধান মজুমদার ও বরকত মোল্লা।

জনপ্রিয় সংবাদ

নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন

সাংবাদিকদের মারধরের পর বিএনপি নেতার হুমকি: ‘তোমরা লেখবা, আমরা পিডামু’

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩২:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

শরীয়তপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় তিন সাংবাদিককে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ক্যাম্পাসে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন ডেইলি স্টারের জাহিদ হাসান, নিউজ টুয়েন্টিফোর ও জাগো নিউজ প্রতিনিধি বিধান মজুমদার এবং মানবকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি বরকত মোল্লা। ওই সময় জেলা বিএনপির নেতারা সেখানে একটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করছিলেন।

ঘটনার পর জাজিরা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সোনালী নিউজের প্রতিনিধি পলাশ খান বিষয়টি জানতে আরিফুজ্জামান মোল্লাকে মুঠোফোনে কল করেন। এ সময় বিএনপি নেতা আরিফ মোল্লা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, ‘আরও তো মারুম, শুধু এহন না, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে পারে। অনেকেই লিস্টে আছে। ইনশা আল্লাহ, আল্লাহর রহমতে সন্ধ্যার মধ্যে আরও খবর পাইয়া যাইবা। তুমি নিজেও তৈরি থাক। তুমি আছ কোথায় এখন? বসো, আসতেছি। কত মাইনষে কত কথা কইছে, তুমিও অনেক কথা কইছো, ওই বাশার কথা কয়, রাজিব কথা কয়। …তোমরা লেখবা, আমরা পিডাইমু। হুদা না, আমার কথা হইল, তুমি আমারে ফোন করছ, তোমার পিছনে আরএস, সিএসটা দেখ।’

সাংবাদিক পলাশ খান এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় তিন সহকর্মীকে হামলা ও মারধর করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা আরিফ মোল্লার বিরুদ্ধে। তিনি আরও জানান, ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ওই নেতা তাকেসহ অন্যান্য সহকর্মীদেরও মারধরের হুমকি দিয়েছেন এবং প্রেসক্লাব ও এর নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। তিনি বিষয়টি মৌখিকভাবে পুলিশকে জানিয়েছেন এবং লিখিতভাবে আইনি পদক্ষেপ নেবেন।

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া ও সদর সার্কেল) মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের বিষয়টি তারা জেনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। এদিকে, অভিযুক্ত আরিফুজ্জামান মোল্লার বক্তব্য জানতে মঙ্গলবার রাত আটটা পর্যন্ত বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি তা ধরেননি।

উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীরের তিনটি দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়। এর প্রতিবাদে সাংবাদিক বি এম ইসরাফিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসক্লাব সভাপতি আবুল হোসেন ও জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের ছবি দিয়ে প্রতিবাদ করলে তাঁর ওপর হামলা হয়। ওই হামলা ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙার প্রতিবাদে রোববার বিকেলে সাংবাদিকেরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এবং জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহার দাবি করেন। এতে স্থানীয় বিএনপির একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়। তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ‘শরীয়তপুর জেলার সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে বিএনপির কর্মসূচি চলাকালে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপির নেতা–কর্মী–সমর্থকেরা যখন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হচ্ছিলেন, তখন সেখানে যান সাংবাদিক জাহিদ হাসান, বিধান মজুমদার ও বরকত মোল্লা।