লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীতাকুণ্ডে জাহাজে বিষাক্ত গ্যাস: ৩ দিনেও কাছে যেতে পারেনি তদন্ত দল

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শিপ ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর তিন দিন পার হলেও তীব্র বিষক্রিয়ার ঝুঁকিতে দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি কোনো তদন্ত কমিটি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে এখন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) রসায়ন বিভাগের একজন অধ্যাপকের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি বিশেষায়িত বিশেষজ্ঞ দল কাজ শুরু করেছে।

গত শুক্রবার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এরপর দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে শিল্প মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং শিপব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশন পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের তীব্রতা ও বিষক্রিয়ার ঝুঁকির কারণে কমিটির কোনো সদস্যই জাহাজের কাছে বা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেননি।

এই অচলাবস্থা কাটাতে গত রোববার সন্ধ্যায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. আরিফুল ইসলাম প্রিন্স স্বাক্ষরিত এক আদেশে ৮ সদস্যের একটি বিশেষায়িত বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়। বুয়েটের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. ইয়াসির আরাফাত খানকে এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ক্যাপ্টেন মো. শোয়েব আহমদ এবং বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক মুহাম্মদ মেহেদী ইসলাম খান। বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আজ সোমবার থেকে এই দল কাজ শুরু করেছে এবং তাদের আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিলেন। রোববার বিকেলে পাঠানো ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ফায়ার সার্ভিস, বিস্ফোরক ও পরিবেশ অধিদপ্তর কাজ করলেও গ্যাস লিকেজের সুনির্দিষ্ট উৎস, কারণ বা লিকেজ পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এমনকি গ্যাসের তীব্রতার কারণে কোনো নমুনাও সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার জানান, রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একটি বৈঠকের পর এই বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। তারা জাহাজের ভেতরের গ্যাস চেম্বারগুলোর গ্যাসের পরিমাণ, প্রকৃতি ও লিকেজের উৎস চিহ্নিত করে তা বন্ধের সুপারিশ করবেন। তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজে থাকা হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস অত্যন্ত বিষাক্ত এবং বাতাসের চেয়ে ভারী। নতুন কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কাজ করা হচ্ছে। তদন্তের আগে পুরো জাহাজের গ্যাস মুক্ত করা হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক মানের কোনো দেশীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে গ্যাস মুক্ত করার কাজে যুক্ত করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারির স্টেশন রোডের ফেরদৌস স্টিল কারখানায় স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক শুভ জলদাস জানান, জাহাজটির এলএনজি ট্যাংকের তলার অংশ কাটার সময় সেখান থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার দিনই শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজীকে প্রধান করে ১১ সদস্যের এবং চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হককে প্রধান করে ৯ সদস্যের দুটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। একই সাথে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনও ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগের ‘আত্মঘাতী’ নীতিতেই বর্তমান জ্বালানি সংকট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সীতাকুণ্ডে জাহাজে বিষাক্ত গ্যাস: ৩ দিনেও কাছে যেতে পারেনি তদন্ত দল

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৪৮:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শিপ ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর তিন দিন পার হলেও তীব্র বিষক্রিয়ার ঝুঁকিতে দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি কোনো তদন্ত কমিটি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে এখন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) রসায়ন বিভাগের একজন অধ্যাপকের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি বিশেষায়িত বিশেষজ্ঞ দল কাজ শুরু করেছে।

গত শুক্রবার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এরপর দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে শিল্প মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং শিপব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশন পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের তীব্রতা ও বিষক্রিয়ার ঝুঁকির কারণে কমিটির কোনো সদস্যই জাহাজের কাছে বা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেননি।

এই অচলাবস্থা কাটাতে গত রোববার সন্ধ্যায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. আরিফুল ইসলাম প্রিন্স স্বাক্ষরিত এক আদেশে ৮ সদস্যের একটি বিশেষায়িত বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়। বুয়েটের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. ইয়াসির আরাফাত খানকে এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ক্যাপ্টেন মো. শোয়েব আহমদ এবং বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক মুহাম্মদ মেহেদী ইসলাম খান। বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের মহাপরিচালক এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আজ সোমবার থেকে এই দল কাজ শুরু করেছে এবং তাদের আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিলেন। রোববার বিকেলে পাঠানো ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ফায়ার সার্ভিস, বিস্ফোরক ও পরিবেশ অধিদপ্তর কাজ করলেও গ্যাস লিকেজের সুনির্দিষ্ট উৎস, কারণ বা লিকেজ পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এমনকি গ্যাসের তীব্রতার কারণে কোনো নমুনাও সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

এ এস এম শফিউল আলম তালুকদার জানান, রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একটি বৈঠকের পর এই বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। তারা জাহাজের ভেতরের গ্যাস চেম্বারগুলোর গ্যাসের পরিমাণ, প্রকৃতি ও লিকেজের উৎস চিহ্নিত করে তা বন্ধের সুপারিশ করবেন। তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজে থাকা হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস অত্যন্ত বিষাক্ত এবং বাতাসের চেয়ে ভারী। নতুন কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কাজ করা হচ্ছে। তদন্তের আগে পুরো জাহাজের গ্যাস মুক্ত করা হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক মানের কোনো দেশীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে গ্যাস মুক্ত করার কাজে যুক্ত করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারির স্টেশন রোডের ফেরদৌস স্টিল কারখানায় স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক শুভ জলদাস জানান, জাহাজটির এলএনজি ট্যাংকের তলার অংশ কাটার সময় সেখান থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার দিনই শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজীকে প্রধান করে ১১ সদস্যের এবং চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হককে প্রধান করে ৯ সদস্যের দুটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। একই সাথে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনও ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।