লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান

দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (কেএফএ) সদর দপ্তরে অভিযান পরিচালনা করেছে সিউল পুলিশ। বৃহস্পতিবার এই তল্লাশি ও জব্দ অভিযান চালানো হয়। মূলত সাবেক কোচ হং মিয়ুং-বোকে নিয়োগের প্রক্রিয়া ঘিরে ওঠা অনিয়মের অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

২০২৪ সালে দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় দলের দায়িত্ব পেয়েছিলেন মিয়ুং-বো। তবে তার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু থেকেই নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। বিদেশি কোচ খোঁজার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হঠাৎ স্থগিত করে অতি সংক্ষিপ্ত এক বৈঠকের মাধ্যমে কেএফএ তাকে এই পদে নিয়োগ দেয়। পরবর্তী সময়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তদন্তেও উঠে আসে যে, সংস্থাটি নিয়োগের প্রচলিত নিয়ম ভঙ্গ করেছে। যদিও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ফৌজদারি অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় চুক্তি বাতিলের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

সন হিউং-মিন, কিম মিন-জায়ে ও লি কাং-ইনের মতো তারকা খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত দলটিকে অনেকেই ‘সোনালি প্রজন্ম’ হিসেবে অভিহিত করতেন। কিন্তু মিয়ুং-বোর অধীনে দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে ব্যর্থ হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১-০ গোলে পরাজিত হয়ে দলটি গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ওই ম্যাচে সন হিউং-মিনকে প্রথমার্ধে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। বিশ্বকাপ শেষে জুন মাসে মিয়ুং-বো পদত্যাগ করেন।

দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মিয়ুং এই ব্যর্থতার জন্য ফুটবল সংস্থার শীর্ষ পদে অযোগ্য ব্যক্তিদের পদোন্নতি ও স্বজনপ্রীতির মতো বিষয়গুলোকে দায়ী করেছেন। এছাড়া গত জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত সংসদীয় শুনানিতে মিয়ুং-বোর ৩৮০ কোটি ওনের বেতন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়, যদিও তিনি নিজে এই অংকের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

ফুটবল সংস্থার অভ্যন্তরীণ নিয়োগ বিতর্কে পুলিশের এই হস্তক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি হলেও, ফুটবল প্রশাসনে অতিরিক্ত রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপ সংস্থার স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল করতে পারে। ফিফা সাধারণত রাষ্ট্রীয় প্রভাবমুক্ত ফুটবল প্রশাসনকে সদস্য দেশগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে সিউলের এই অভিযান দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলের কাঠামোগত উন্নতির পথ কতটা প্রশস্ত করবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইয়াশের ‘টক্সিক’ ট্রেলার মুক্তি: সঙ্গে কিয়ারা ও নয়নতারা

দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (কেএফএ) সদর দপ্তরে অভিযান পরিচালনা করেছে সিউল পুলিশ। বৃহস্পতিবার এই তল্লাশি ও জব্দ অভিযান চালানো হয়। মূলত সাবেক কোচ হং মিয়ুং-বোকে নিয়োগের প্রক্রিয়া ঘিরে ওঠা অনিয়মের অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

২০২৪ সালে দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় দলের দায়িত্ব পেয়েছিলেন মিয়ুং-বো। তবে তার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু থেকেই নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। বিদেশি কোচ খোঁজার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হঠাৎ স্থগিত করে অতি সংক্ষিপ্ত এক বৈঠকের মাধ্যমে কেএফএ তাকে এই পদে নিয়োগ দেয়। পরবর্তী সময়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তদন্তেও উঠে আসে যে, সংস্থাটি নিয়োগের প্রচলিত নিয়ম ভঙ্গ করেছে। যদিও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ফৌজদারি অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় চুক্তি বাতিলের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

সন হিউং-মিন, কিম মিন-জায়ে ও লি কাং-ইনের মতো তারকা খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত দলটিকে অনেকেই ‘সোনালি প্রজন্ম’ হিসেবে অভিহিত করতেন। কিন্তু মিয়ুং-বোর অধীনে দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে ব্যর্থ হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১-০ গোলে পরাজিত হয়ে দলটি গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ওই ম্যাচে সন হিউং-মিনকে প্রথমার্ধে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। বিশ্বকাপ শেষে জুন মাসে মিয়ুং-বো পদত্যাগ করেন।

দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মিয়ুং এই ব্যর্থতার জন্য ফুটবল সংস্থার শীর্ষ পদে অযোগ্য ব্যক্তিদের পদোন্নতি ও স্বজনপ্রীতির মতো বিষয়গুলোকে দায়ী করেছেন। এছাড়া গত জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত সংসদীয় শুনানিতে মিয়ুং-বোর ৩৮০ কোটি ওনের বেতন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়, যদিও তিনি নিজে এই অংকের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

ফুটবল সংস্থার অভ্যন্তরীণ নিয়োগ বিতর্কে পুলিশের এই হস্তক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি হলেও, ফুটবল প্রশাসনে অতিরিক্ত রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপ সংস্থার স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল করতে পারে। ফিফা সাধারণত রাষ্ট্রীয় প্রভাবমুক্ত ফুটবল প্রশাসনকে সদস্য দেশগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে সিউলের এই অভিযান দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলের কাঠামোগত উন্নতির পথ কতটা প্রশস্ত করবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না।