লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণহীন দৌরাত্ম্য, নেপথ্যে পুরোনো রাজনৈতিক গডফাদাররাই

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২২ এএম। বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ এবং যৌথ বাহিনীর অভিযান সত্ত্বেও দেশব্যাপী কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এই গ্যাংগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী এবং বিস্তীর্ণ মিরপুর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। এসব এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি এবং হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন কিশোর গ্রুপের সদস্যরা সরাসরি জড়িত রয়েছে।

পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত কিশোর গ্যাংয়ের এই দৌরাত্ম্য বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাদের মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বাস্তবে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের কর্মকাণ্ডে কোনো হেরফের হয়নি; কেবল তাদের পেছনে থাকা রাজনৈতিক 'গডফাদার' বা পৃষ্ঠপোষকদের পরিবর্তন ঘটেছে। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় রাজনৈতিক দলের, বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের 'বড়ভাই' পরিচয়ে একশ্রেণির নেতারা এই কিশোরদের রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করে আসছে। অন্ধ গলির এই পথ ধরেই অনেকে বড় মাপের সন্ত্রাসী হয়ে ওঠে, আবার কেউ কেউ মাদক কারবার বা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের স্থানীয় চাঁদাবাজ হিসেবে নিজেদের পরিচিত করে তোলে।

বিশেষ করে মোহাম্মদপুর এলাকাটি কিশোর গ্যাংয়ের জন্য বেশ আলোচিত। ২০২৪ সালে মোহাম্মদপুরে পুলিশের তালিকায় কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা ছিল ১৩টি, যা বর্তমানে বেড়ে ২০টিতে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া তালিকাভুক্তির বাইরেও অন্তত ডজনখানেক গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে 'লাড়া দে' এবং 'ভইর‌্যা দে'-এর মতো বেশ কয়েকটি গ্রুপের সদস্যদের হাতে একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। এসআরবি, পুলিশ এমনকি সেনা অভিযানেও মোহাম্মদপুর এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণহীন দৌরাত্ম্য, নেপথ্যে পুরোনো রাজনৈতিক গডফাদাররাই

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩১:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২২ এএম। বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ এবং যৌথ বাহিনীর অভিযান সত্ত্বেও দেশব্যাপী কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এই গ্যাংগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী এবং বিস্তীর্ণ মিরপুর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। এসব এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি এবং হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন কিশোর গ্রুপের সদস্যরা সরাসরি জড়িত রয়েছে।

পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত কিশোর গ্যাংয়ের এই দৌরাত্ম্য বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাদের মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বাস্তবে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের কর্মকাণ্ডে কোনো হেরফের হয়নি; কেবল তাদের পেছনে থাকা রাজনৈতিক 'গডফাদার' বা পৃষ্ঠপোষকদের পরিবর্তন ঘটেছে। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় রাজনৈতিক দলের, বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের 'বড়ভাই' পরিচয়ে একশ্রেণির নেতারা এই কিশোরদের রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করে আসছে। অন্ধ গলির এই পথ ধরেই অনেকে বড় মাপের সন্ত্রাসী হয়ে ওঠে, আবার কেউ কেউ মাদক কারবার বা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের স্থানীয় চাঁদাবাজ হিসেবে নিজেদের পরিচিত করে তোলে।

বিশেষ করে মোহাম্মদপুর এলাকাটি কিশোর গ্যাংয়ের জন্য বেশ আলোচিত। ২০২৪ সালে মোহাম্মদপুরে পুলিশের তালিকায় কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা ছিল ১৩টি, যা বর্তমানে বেড়ে ২০টিতে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া তালিকাভুক্তির বাইরেও অন্তত ডজনখানেক গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে 'লাড়া দে' এবং 'ভইর‌্যা দে'-এর মতো বেশ কয়েকটি গ্রুপের সদস্যদের হাতে একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। এসআরবি, পুলিশ এমনকি সেনা অভিযানেও মোহাম্মদপুর এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।