লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

থাইল্যান্ডের স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা: শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নিহত ৬

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উত্তরে ননথাবুরি প্রদেশের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীর গুলিবর্ষণে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন শিক্ষক ও তিনজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। শুক্রবার সকালে ব্যাং ক্রুয়াই এলাকার ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়টি স্থানীয়ভাবে বেশ পরিচিত।

পুলিশের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল ত্রাইরং ফিউফান জানিয়েছেন, এই হামলায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার পরপরই জরুরি বিভাগের কর্মীরা দ্রুত স্কুলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে সন্দেহভাজন বন্দুকধারী নিহত হয়েছে বলে জানানো হলেও পরে পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, সে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তাকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে।

ঘটনার সময় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চের নিচে লুকিয়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করে। গুলির শব্দের মাঝে তাদের কান্নার ভিডিও পরে যাচাই করা হয়েছে। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন কর্মী শিক্ষার্থীদের নিরাপদে স্কুল থেকে বের হতে সহায়তা করছেন। থাইল্যান্ডের সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি হ্যান্ডগান উদ্ধার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, অস্ত্রটি ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের কোনো সদস্যের। তবে সে কীভাবে অস্ত্রটি হাতে পেল, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই শিক্ষার্থী তার বাবা-মায়ের সঙ্গে নয়, বরং কয়েকজন প্রাপ্তবয়স্ক আত্মীয়ের সঙ্গে বসবাস করত।

উল্লেখ্য যে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে বেসামরিক পর্যায়ে আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানা তুলনামূলক বেশি। স্মল আর্মস সার্ভের ২০১৭ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি ১০০ জনের বিপরীতে ১৫টি বন্দুক রয়েছে। ফিলিপাইনের পর বন্দুক হামলায় হত্যার দিক থেকে থাইল্যান্ড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে দেশটির একটি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে হামলায় ২৪ শিশুসহ ৩৬ জন নিহত হয়েছিল, যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম প্রাণঘাতী ঘটনা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও হাত ইয়াই এলাকায় এক শিক্ষক নিহত ও এক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনার বক্তব্যে ভারত সরকারের সমর্থন নেই: রণধীর জয়সওয়াল

থাইল্যান্ডের স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা: শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নিহত ৬

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উত্তরে ননথাবুরি প্রদেশের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীর গুলিবর্ষণে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন শিক্ষক ও তিনজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। শুক্রবার সকালে ব্যাং ক্রুয়াই এলাকার ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়টি স্থানীয়ভাবে বেশ পরিচিত।

পুলিশের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল ত্রাইরং ফিউফান জানিয়েছেন, এই হামলায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার পরপরই জরুরি বিভাগের কর্মীরা দ্রুত স্কুলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পুলিশের প্রাথমিক তথ্যে সন্দেহভাজন বন্দুকধারী নিহত হয়েছে বলে জানানো হলেও পরে পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, সে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তাকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে।

ঘটনার সময় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চের নিচে লুকিয়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করে। গুলির শব্দের মাঝে তাদের কান্নার ভিডিও পরে যাচাই করা হয়েছে। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন কর্মী শিক্ষার্থীদের নিরাপদে স্কুল থেকে বের হতে সহায়তা করছেন। থাইল্যান্ডের সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি হ্যান্ডগান উদ্ধার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, অস্ত্রটি ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের কোনো সদস্যের। তবে সে কীভাবে অস্ত্রটি হাতে পেল, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই শিক্ষার্থী তার বাবা-মায়ের সঙ্গে নয়, বরং কয়েকজন প্রাপ্তবয়স্ক আত্মীয়ের সঙ্গে বসবাস করত।

উল্লেখ্য যে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে বেসামরিক পর্যায়ে আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানা তুলনামূলক বেশি। স্মল আর্মস সার্ভের ২০১৭ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি ১০০ জনের বিপরীতে ১৫টি বন্দুক রয়েছে। ফিলিপাইনের পর বন্দুক হামলায় হত্যার দিক থেকে থাইল্যান্ড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে দেশটির একটি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে হামলায় ২৪ শিশুসহ ৩৬ জন নিহত হয়েছিল, যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম প্রাণঘাতী ঘটনা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও হাত ইয়াই এলাকায় এক শিক্ষক নিহত ও এক শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।