লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শরীয়তপুরে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তিন ভাইবোনকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জের সখিপুরে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক তরুণী ও তার ভাইবোনকে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভুক্তভোগীদের গাছে বেঁধে মারধর করা হয়েছে, তাদের জুতার মালা পরানো হয়েছে এবং তরুণীর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে সখিপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাজি শরীয়তউল্লাহ কলেজসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী তিন ভাইবোনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।

ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সখিপুরের ছৈয়াল কান্দি এলাকার মুদি দোকানদার আবুল মোল্লার ছেলে মনির মোল্যা (২৫) দীর্ঘদিন ধরে ১৮ বছর বয়সী ওই তরুণীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন এবং কুপ্রস্তাব দিচ্ছিলেন। প্রতিবাদ করায় তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হতো। ঘটনার দিন সকালে ওই তরুণী তার ১৩ বছর বয়সী বোন ও ৭ বছর বয়সী ভাইকে নিয়ে মনিরের দোকানে কেনাকাটা করতে যান। সেখানে মনির আবারও কুপ্রস্তাব দিলে তরুণী তীব্র প্রতিবাদ করেন। এরপর মনির ওই তিন ভাইবোনকে জোরপূর্বক দোকানের পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখেন।

ভুক্তভোগীদের পরিবারের দাবি, চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে মনির ও তার সহযোগীরা তাদের বিরুদ্ধে চুরির অপবাদ দেন। এই অজুহাতে তাদের গাছে বেঁধে মারধর করা হয় এবং তরুণীর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনার পর নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। ওই দিন রাতেই ভুক্তভোগীর মা ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে সখিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মনির মোল্যার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া অন্য অভিযুক্তরাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হুসাইন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করেছে এবং লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিরিয়ার আলেপ্পোয় সেনা ঘাঁটিতে পরপর শক্তিশালী বিস্ফোরণ

শরীয়তপুরে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তিন ভাইবোনকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:০১:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জের সখিপুরে কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক তরুণী ও তার ভাইবোনকে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভুক্তভোগীদের গাছে বেঁধে মারধর করা হয়েছে, তাদের জুতার মালা পরানো হয়েছে এবং তরুণীর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে সখিপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাজি শরীয়তউল্লাহ কলেজসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী তিন ভাইবোনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।

ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সখিপুরের ছৈয়াল কান্দি এলাকার মুদি দোকানদার আবুল মোল্লার ছেলে মনির মোল্যা (২৫) দীর্ঘদিন ধরে ১৮ বছর বয়সী ওই তরুণীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন এবং কুপ্রস্তাব দিচ্ছিলেন। প্রতিবাদ করায় তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হতো। ঘটনার দিন সকালে ওই তরুণী তার ১৩ বছর বয়সী বোন ও ৭ বছর বয়সী ভাইকে নিয়ে মনিরের দোকানে কেনাকাটা করতে যান। সেখানে মনির আবারও কুপ্রস্তাব দিলে তরুণী তীব্র প্রতিবাদ করেন। এরপর মনির ওই তিন ভাইবোনকে জোরপূর্বক দোকানের পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখেন।

ভুক্তভোগীদের পরিবারের দাবি, চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে মনির ও তার সহযোগীরা তাদের বিরুদ্ধে চুরির অপবাদ দেন। এই অজুহাতে তাদের গাছে বেঁধে মারধর করা হয় এবং তরুণীর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনার পর নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। ওই দিন রাতেই ভুক্তভোগীর মা ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে সখিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মনির মোল্যার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া অন্য অভিযুক্তরাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হুসাইন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করেছে এবং লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।