লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন সেনা হত্যার পরিণাম ভয়াবহ হবে, ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে মার্কিন সেনা হত্যার ঘটনায় ইরানকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলে সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট করেছেন, যতবার ইরান আমেরিকান সেনাকে হত্যা করবে, ততবারই তাদের সেই অপরাধের জন্য বহুগুণ মাশুল গুনতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের হামলায় দুজন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া মার্চ মাসে কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবাতে একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলায় আরও ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হন। ওয়াশিংটনের ভাষ্যমতে, চলমান এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৩০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল কেইনের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তবে পেন্টাগনকে ঠিক কী ধরনের সামরিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। রয়টার্সের একটি সূত্র জানিয়েছে, জর্ডানে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনার আগেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার মোতায়েন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জানিয়েছেন ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের সাবেক প্রধান জো কেন্ট। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ব্যাপক প্রাণহানির আগেই সৈন্যদের সরিয়ে নেওয়া উচিত এবং উত্তেজনার এই ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু, খার্গ দ্বীপের তেল স্থাপনা এবং ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী সচল রাখার কৌশলের অংশ হিসেবেই সাম্প্রতিক মার্কিন হামলাগুলো ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে বড় কোনো সামরিক অভিযানের আগে তাদের সামর্থ্য দুর্বল করা যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোর থেকে গ্রেপ্তার

মার্কিন সেনা হত্যার পরিণাম ভয়াবহ হবে, ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৩৪:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে মার্কিন সেনা হত্যার ঘটনায় ইরানকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলে সরাসরি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট করেছেন, যতবার ইরান আমেরিকান সেনাকে হত্যা করবে, ততবারই তাদের সেই অপরাধের জন্য বহুগুণ মাশুল গুনতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের হামলায় দুজন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া মার্চ মাসে কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবাতে একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের ড্রোন হামলায় আরও ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হন। ওয়াশিংটনের ভাষ্যমতে, চলমান এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৩০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল কেইনের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তবে পেন্টাগনকে ঠিক কী ধরনের সামরিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। রয়টার্সের একটি সূত্র জানিয়েছে, জর্ডানে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনার আগেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার মোতায়েন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জানিয়েছেন ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের সাবেক প্রধান জো কেন্ট। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ব্যাপক প্রাণহানির আগেই সৈন্যদের সরিয়ে নেওয়া উচিত এবং উত্তেজনার এই ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।

গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু, খার্গ দ্বীপের তেল স্থাপনা এবং ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী সচল রাখার কৌশলের অংশ হিসেবেই সাম্প্রতিক মার্কিন হামলাগুলো ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে বড় কোনো সামরিক অভিযানের আগে তাদের সামর্থ্য দুর্বল করা যায়।