লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালিতে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ২৪ ঘণ্টায় ডুবল দুই জাহাজ

ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা হরমুজ প্রণালির কাছে গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ডুবে গেছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বুধবার (১৪ অক্টোবর) এই তথ্য জানানো হয়েছে। ডুবে যাওয়া জাহাজ দুটির একটি কনটেইনারবাহী এবং অন্যটি শুকনো পণ্যবাহী জাহাজ।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আক্রান্ত জাহাজ দুটির একটি হলো সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’ এবং অন্যটি অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ‘কেপ দাও’। এর মধ্যে জিএফএস প্রাইডের ২১ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং তাদের সবাই নিরাপদে আছেন। তবে কেপ দাও জাহাজে হামলার ঘটনায় একজন নাবিক নিহত হয়েছেন।

সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি (এমপিএ) জানিয়েছে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় জিএফএস প্রাইড ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এক পর্যায়ে তাতে আগুন ধরে যায়। পরে জাহাজটি ডুবে যায়। এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এমপিএ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

অন্যদিকে, ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) তথ্যমতে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর কেপ দাও জাহাজটি হরমুজ প্রণালির কাছে ডুবে যায়। হামলার পরপরই ওই জাহাজের নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আইএমওর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জিএফএস প্রাইড এবং কেপ দাও হলো দ্বিতীয় ও তৃতীয় জাহাজ, যা এই জলপথে ডুবে গেল।

সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান মারিস্কস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্যই হুমকি অব্যাহত রয়েছে। এই ঝুঁকি এখন শুধু তেলবাহী ট্যাংকারে সীমাবদ্ধ নেই; কনটেইনারবাহী জাহাজ ও শুকনো পণ্যবাহী জাহাজও গুরুতর ক্ষতির শিকার হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের চেষ্টা করছে ইরান। দেশটির বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার জবাবে তেহরান তাদের হামলা বাড়ানোর কথা জানিয়েছে। জলপথটিতে জাহাজ চলাচল ঘিরে সৃষ্ট এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানের পেশোয়ারে স্কুলের ছাদ ধসে ১৬ শিশুর মৃত্যু

হরমুজ প্রণালিতে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ২৪ ঘণ্টায় ডুবল দুই জাহাজ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০০:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা হরমুজ প্রণালির কাছে গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ডুবে গেছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বুধবার (১৪ অক্টোবর) এই তথ্য জানানো হয়েছে। ডুবে যাওয়া জাহাজ দুটির একটি কনটেইনারবাহী এবং অন্যটি শুকনো পণ্যবাহী জাহাজ।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আক্রান্ত জাহাজ দুটির একটি হলো সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’ এবং অন্যটি অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ‘কেপ দাও’। এর মধ্যে জিএফএস প্রাইডের ২১ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং তাদের সবাই নিরাপদে আছেন। তবে কেপ দাও জাহাজে হামলার ঘটনায় একজন নাবিক নিহত হয়েছেন।

সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি (এমপিএ) জানিয়েছে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় জিএফএস প্রাইড ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এক পর্যায়ে তাতে আগুন ধরে যায়। পরে জাহাজটি ডুবে যায়। এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এমপিএ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

অন্যদিকে, ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) তথ্যমতে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর কেপ দাও জাহাজটি হরমুজ প্রণালির কাছে ডুবে যায়। হামলার পরপরই ওই জাহাজের নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আইএমওর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জিএফএস প্রাইড এবং কেপ দাও হলো দ্বিতীয় ও তৃতীয় জাহাজ, যা এই জলপথে ডুবে গেল।

সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান মারিস্কস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্যই হুমকি অব্যাহত রয়েছে। এই ঝুঁকি এখন শুধু তেলবাহী ট্যাংকারে সীমাবদ্ধ নেই; কনটেইনারবাহী জাহাজ ও শুকনো পণ্যবাহী জাহাজও গুরুতর ক্ষতির শিকার হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের চেষ্টা করছে ইরান। দেশটির বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার জবাবে তেহরান তাদের হামলা বাড়ানোর কথা জানিয়েছে। জলপথটিতে জাহাজ চলাচল ঘিরে সৃষ্ট এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।