লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা ইসরাইলের সাবেক গোয়েন্দা প্রধানের

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন দেশটির সাবেক গোয়েন্দা প্রধান রোনেন বার। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে বারবার সতর্কবার্তা দেয়া সত্ত্বেও নেতানিয়াহু তা উপেক্ষা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বুধবার রোনেন বার প্রায় তিন মিলিয়ন শেকেল বা প্রায় ১০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ চেয়ে এই মামলা দায়ের করেন।

রোনেন বার হামলার সময় ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মামলার নথিতে দাবি করা হয়েছে, নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় নিজের ওপর থেকে সরিয়ে অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু। নেতানিয়াহুর অভিযোগ, বার গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য গোপন করেছিলেন এবং সেনাদের সতর্ক করতে কিংবা নোভা সংগীত উৎসবে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের সরিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন রোনেন বার। তার দাবি, হামলার দায় এড়াতেই নেতানিয়াহু তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন।

উল্লেখ্য, ওই হামলায় প্রায় ১২০০ ইসরাইলি নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে হামাস। এরপর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানে ৭৪ হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ৬ই অক্টোবর গভীর রাতে হামাসের অস্বাভাবিক তৎপরতা সম্পর্কে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য সেনাবাহিনীর সঙ্গে ভাগাভাগি করতে শুরু করেন শিন বেতের কর্মকর্তারা। ভোর ৩টা ৩ মিনিটে একটি সতর্কবার্তা দেয়া হয় এবং ভোর ৩টা ৫৫ মিনিটে নেতানিয়াহুর সামরিক সচিবালয়কে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়।

রোনেন বার ওই রাতে ইসরাইলের সেনাপ্রধান কিংবা সামরিক গোয়েন্দাপ্রধানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন, যা নেতানিয়াহুর দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বার স্বীকার করেছেন যে, হামলার ব্যাপকতা ও সময় সম্পর্কে আগাম ধারণা দিতে শিন বেত ব্যর্থ হয়েছিল এবং এই ব্যর্থতার দায়ে তিনি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঠানো চিঠিতে এবং জুলাই মাসে ব্যক্তিগতভাবে তিনি নেতানিয়াহুকে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অস্থিতিশীলতা নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। এছাড়া হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তাব নেতানিয়াহু বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন বলেও বারের অভিযোগ।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, মানবিক সহায়তার অর্থ হামাসের সামরিক শাখার হাতে পৌঁছানোর আশঙ্কা সম্পর্কে সতর্ক করা হলেও নেতানিয়াহু গাজায় কাতারের অর্থ প্রবেশের অনুমতি অব্যাহত রেখেছিলেন। নেতানিয়াহু এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছেন, বার চাইলে সুরক্ষিত ফোন লাইনের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন, তবে বার দাবি করেছেন নেতানিয়াহু তাকে কখনো ব্যক্তিগত নম্বর দেননি। ২০২৫ সালের মার্চে নেতানিয়াহুর সরকার বারকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও সুপ্রিম কোর্ট তা বেআইনি ঘোষণা করেন। এরপর জুন মাসে রোনেন বার পদত্যাগ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানের পেশোয়ারে স্কুলের ছাদ ধসে ১৬ শিশুর মৃত্যু

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা ইসরাইলের সাবেক গোয়েন্দা প্রধানের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩২:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন দেশটির সাবেক গোয়েন্দা প্রধান রোনেন বার। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে বারবার সতর্কবার্তা দেয়া সত্ত্বেও নেতানিয়াহু তা উপেক্ষা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বুধবার রোনেন বার প্রায় তিন মিলিয়ন শেকেল বা প্রায় ১০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ চেয়ে এই মামলা দায়ের করেন।

রোনেন বার হামলার সময় ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মামলার নথিতে দাবি করা হয়েছে, নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায় নিজের ওপর থেকে সরিয়ে অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু। নেতানিয়াহুর অভিযোগ, বার গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য গোপন করেছিলেন এবং সেনাদের সতর্ক করতে কিংবা নোভা সংগীত উৎসবে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের সরিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন রোনেন বার। তার দাবি, হামলার দায় এড়াতেই নেতানিয়াহু তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন।

উল্লেখ্য, ওই হামলায় প্রায় ১২০০ ইসরাইলি নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে হামাস। এরপর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানে ৭৪ হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ৬ই অক্টোবর গভীর রাতে হামাসের অস্বাভাবিক তৎপরতা সম্পর্কে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য সেনাবাহিনীর সঙ্গে ভাগাভাগি করতে শুরু করেন শিন বেতের কর্মকর্তারা। ভোর ৩টা ৩ মিনিটে একটি সতর্কবার্তা দেয়া হয় এবং ভোর ৩টা ৫৫ মিনিটে নেতানিয়াহুর সামরিক সচিবালয়কে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়।

রোনেন বার ওই রাতে ইসরাইলের সেনাপ্রধান কিংবা সামরিক গোয়েন্দাপ্রধানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন, যা নেতানিয়াহুর দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বার স্বীকার করেছেন যে, হামলার ব্যাপকতা ও সময় সম্পর্কে আগাম ধারণা দিতে শিন বেত ব্যর্থ হয়েছিল এবং এই ব্যর্থতার দায়ে তিনি শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঠানো চিঠিতে এবং জুলাই মাসে ব্যক্তিগতভাবে তিনি নেতানিয়াহুকে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অস্থিতিশীলতা নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। এছাড়া হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তাব নেতানিয়াহু বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন বলেও বারের অভিযোগ।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, মানবিক সহায়তার অর্থ হামাসের সামরিক শাখার হাতে পৌঁছানোর আশঙ্কা সম্পর্কে সতর্ক করা হলেও নেতানিয়াহু গাজায় কাতারের অর্থ প্রবেশের অনুমতি অব্যাহত রেখেছিলেন। নেতানিয়াহু এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছেন, বার চাইলে সুরক্ষিত ফোন লাইনের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন, তবে বার দাবি করেছেন নেতানিয়াহু তাকে কখনো ব্যক্তিগত নম্বর দেননি। ২০২৫ সালের মার্চে নেতানিয়াহুর সরকার বারকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও সুপ্রিম কোর্ট তা বেআইনি ঘোষণা করেন। এরপর জুন মাসে রোনেন বার পদত্যাগ করেন।