লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উখিয়ায় সাড়ে ৬ লাখ গাছের চারা রোপণ, সবুজে ফিরছে ক্ষতিগ্রস্ত বনাঞ্চল

কক্সবাজারের উখিয়ায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বনভূমি পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় প্রায় সাড়ে ৬ লাখ দেশীয় প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মেগা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপজেলার রাজাপালং, পালংখালী, জালিয়াপালং, রত্নাপালং ও হলদিয়াপালং ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারি বনভূমিতে এসব চারা রোপণ করা হয়।

রোপণ করা চারার মধ্যে গর্জন, নিম, ধারমারা, চাম্পা, চালতা, বহেরা, অর্জুন, জারুল, ছাতিয়ান, কদম, শিমুল, কানাইডিঙ্গা, সোনালু, পলাশ, বকাইন, পারুল, কৃষ্ণচূড়া, সেগুন, গামার, চিকরাশি, পিতরাজ, মেহগনি, চাম্বল, বাবলা, ঢাকিজাম, বট, চাপালিশ, বুদ্ধ নারিকেল, কাঠবাদাম ও শিশুসহ প্রায় ৩০টি দেশীয় ও দ্রুতবর্ধনশীল প্রজাতির গাছ রয়েছে।

এই বনায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত রোববার উখিয়া রেঞ্জের থাইংখালী বিটে হেল্প প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সৃজিত ১৫০ হেক্টর দেশীয় মিশ্র প্রজাতির দ্রুতবর্ধনশীল বাগান পরিদর্শন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বাগানে রোপণ করা চারার বৃদ্ধি ও পরিচর্যা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং সন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে তিনি ওই বাগান এলাকায় নিজে একটি নিম ও একটি চাপালিশ গাছের চারা রোপণ করেন।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উখিয়ার পাহাড়ি বনাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন করে দেশীয় ও দ্রুতবর্ধনশীল বিভিন্ন প্রজাতির গাছের বাগান সৃজনের মাধ্যমে বনভূমির সবুজ আচ্ছাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাটির ক্ষয় রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উখিয়ার পাহাড়ি এলাকায় দ্রুত বৃক্ষনিধন, ভূমিক্ষয় ও বিভিন্ন ধরনের পরিবেশগত চাপের মধ্যে নতুন বন সৃজনকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন পরিবেশসংশ্লিষ্টরা। দেশীয় প্রজাতির গাছের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এসব বাগান বড় হলে একদিকে যেমন বনভূমির পরিমাণ ও সবুজ আচ্ছাদন বাড়বে, অন্যদিকে পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলও তৈরি হবে।

প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো, কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, সহকারী বন সংরক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তারসহ উখিয়া রেঞ্জের বন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সিপিজি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উখিয়ার বনাঞ্চলে চলমান এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন ও রোপণ করা চারাগুলো টিকিয়ে রাখা গেলে আগামী কয়েক বছরে উপজেলার পাহাড়ি এলাকাগুলোতে সবুজের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করছে বন বিভাগ।

দৌছড়ি বিট কর্মকর্তা এমদাদুল হাসান রনি বলেন, রোপণ করা চারাগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতিটি চারার স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আগাছা পরিষ্কার, প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও নিয়মিত পাহারার ব্যবস্থা রয়েছে।

উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহিন বলেন, এই রেঞ্জের বিভিন্ন বিটে বন সৃজন ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমাদের মূল লক্ষ্য শুধু চারা রোপণ নয়, রোপণ করা প্রতিটি চারাকে টিকিয়ে রেখে ভবিষ্যতে একটি সমৃদ্ধ বনাঞ্চলে পরিণত করা। এ জন্য নিয়মিত তদারকি, পাহারা ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এসব বাগান পরিপূর্ণভাবে বেড়ে উঠলে উখিয়ার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল তৈরি ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

১৮০ দিন শেষে সরকারের অর্জন ও সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করবেন প্রধানমন্ত্রী

উখিয়ায় সাড়ে ৬ লাখ গাছের চারা রোপণ, সবুজে ফিরছে ক্ষতিগ্রস্ত বনাঞ্চল

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৩৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়ায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বনভূমি পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় প্রায় সাড়ে ৬ লাখ দেশীয় প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মেগা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপজেলার রাজাপালং, পালংখালী, জালিয়াপালং, রত্নাপালং ও হলদিয়াপালং ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারি বনভূমিতে এসব চারা রোপণ করা হয়।

রোপণ করা চারার মধ্যে গর্জন, নিম, ধারমারা, চাম্পা, চালতা, বহেরা, অর্জুন, জারুল, ছাতিয়ান, কদম, শিমুল, কানাইডিঙ্গা, সোনালু, পলাশ, বকাইন, পারুল, কৃষ্ণচূড়া, সেগুন, গামার, চিকরাশি, পিতরাজ, মেহগনি, চাম্বল, বাবলা, ঢাকিজাম, বট, চাপালিশ, বুদ্ধ নারিকেল, কাঠবাদাম ও শিশুসহ প্রায় ৩০টি দেশীয় ও দ্রুতবর্ধনশীল প্রজাতির গাছ রয়েছে।

এই বনায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত রোববার উখিয়া রেঞ্জের থাইংখালী বিটে হেল্প প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সৃজিত ১৫০ হেক্টর দেশীয় মিশ্র প্রজাতির দ্রুতবর্ধনশীল বাগান পরিদর্শন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বাগানে রোপণ করা চারার বৃদ্ধি ও পরিচর্যা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং সন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে তিনি ওই বাগান এলাকায় নিজে একটি নিম ও একটি চাপালিশ গাছের চারা রোপণ করেন।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উখিয়ার পাহাড়ি বনাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন করে দেশীয় ও দ্রুতবর্ধনশীল বিভিন্ন প্রজাতির গাছের বাগান সৃজনের মাধ্যমে বনভূমির সবুজ আচ্ছাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাটির ক্ষয় রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উখিয়ার পাহাড়ি এলাকায় দ্রুত বৃক্ষনিধন, ভূমিক্ষয় ও বিভিন্ন ধরনের পরিবেশগত চাপের মধ্যে নতুন বন সৃজনকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন পরিবেশসংশ্লিষ্টরা। দেশীয় প্রজাতির গাছের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এসব বাগান বড় হলে একদিকে যেমন বনভূমির পরিমাণ ও সবুজ আচ্ছাদন বাড়বে, অন্যদিকে পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলও তৈরি হবে।

প্রতিমন্ত্রীর পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো, কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, সহকারী বন সংরক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তারসহ উখিয়া রেঞ্জের বন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সিপিজি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উখিয়ার বনাঞ্চলে চলমান এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন ও রোপণ করা চারাগুলো টিকিয়ে রাখা গেলে আগামী কয়েক বছরে উপজেলার পাহাড়ি এলাকাগুলোতে সবুজের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করছে বন বিভাগ।

দৌছড়ি বিট কর্মকর্তা এমদাদুল হাসান রনি বলেন, রোপণ করা চারাগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতিটি চারার স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আগাছা পরিষ্কার, প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও নিয়মিত পাহারার ব্যবস্থা রয়েছে।

উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহিন বলেন, এই রেঞ্জের বিভিন্ন বিটে বন সৃজন ও বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমাদের মূল লক্ষ্য শুধু চারা রোপণ নয়, রোপণ করা প্রতিটি চারাকে টিকিয়ে রেখে ভবিষ্যতে একটি সমৃদ্ধ বনাঞ্চলে পরিণত করা। এ জন্য নিয়মিত তদারকি, পাহারা ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এসব বাগান পরিপূর্ণভাবে বেড়ে উঠলে উখিয়ার পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল তৈরি ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।