লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওমানে আটকে পড়া তেলের ট্যাংকার থেকে ৪০০ বর্গকিলোমিটারে ছড়াল তেল

ওমানের উপকূলে আটকে থাকা একটি তেলের ট্যাংকার থেকে প্রচুর পরিমাণে খনিজ তেল নির্গত হওয়ার বিষয়টি ওমান সরকার নিশ্চিত করেছে। সংরক্ষিত অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থিত ট্যাংকারটিতে বিস্ফোরণের ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বর্তমানে জাহাজটি থেকে ছড়িয়ে পড়া তেল প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে একটি বিশাল আস্তরণ বা স্লিক তৈরি করেছে। পরিবেশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই তেল আস্তরণটি উপকূল থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।

‘ক্যারোলিন বেজেঙ্গি’ নামের এই ট্যাংকারটিতে প্রায় দশ লাখ ব্যারেল রুশ তেল বোঝাই ছিল, যা এশিয়ার গন্তব্যে নেওয়া হচ্ছিল। গত ৮ জুন ইয়েমেনের উপকূলে জাহাজটি প্রথম বিপদের মুখে পড়ে। যদিও দুটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র প্রাথমিক মূল্যায়নে জাহাজটিতে বিস্ফোরণের তথ্য নিশ্চিত করেছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হালানিয়াত দ্বীপপুঞ্জের কাছে তেল নিঃসরণ রোধে তারা কাজ শুরু করেছে। সুলতান হাইথাম বিন তারিক গত বছর রাজকীয় ডিক্রি জারি করে এই এলাকাটিকে ‘প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকা’ ঘোষণা করেছিলেন, যেখানে আরব সাগরের কুঁজযুক্ত তিমি ও সোকোত্রা করমোরেন্টসহ বিভিন্ন বিরল বন্যপ্রাণী রয়েছে।

পরিবেশবাদী সংস্থা গ্রিনপিসের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে তেল ছড়িয়ে পড়ার পরিমাণ প্রায় ৬০০ বর্গকিলোমিটার বলে অনুমান করা হয়েছে। এডিনবার্গের হেরিওয়্যাট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক টনি গুটিয়েরেজ সতর্ক করে বলেছেন, এই মাত্রায় তেল ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত বিমান থেকে কেমিক্যাল বা বুম ব্যবহার করে তা সংগ্রহ করা প্রয়োজন। তিনি জানান, যদি তেল সাগরেই আটকে রাখা না যায়, তবে তা প্রবাল, মাছ ও পাখির জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে এবং ১৯৮৯ সালের এক্সন ভালদেজ দুর্ঘটনার মতো এর অবশিষ্টাংশ কয়েক বছর পর্যন্ত থেকে যেতে পারে।

শিপিং বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২৭৪ মিটার দীর্ঘ এই ট্যাংকারটি থেকে গত মাসের শেষ পর্যন্তও তেল নিঃসরণ অব্যাহত ছিল। স্কাইট্রুথ-এর প্রধান নির্বাহী জন আমোস উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ঘটনাটি দুই মাসের বেশি সময় ধরে চললেও জাহাজটি স্থিতিশীল করতে বা অবশিষ্ট তেল অপসারণে কোনো সরকারি তৎপরতা দেখা যায়নি।

তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে নির্মিত এই জাহাজটি রাশিয়ার ‘ছায়া বহর’ বা শ্যাডো ফ্লিটের অংশ, যা পশ্চিমা বিমা ছাড়াই মালিকানা গোপন করে চলাচল করে। জাহাজটি ক্যামেরুনের পতাকাবাহী হিসেবে নথিভুক্ত থাকলেও জুনে তাদের রেজিস্ট্রি থেকে বাদ দেওয়া হয়। এছাড়া জাহাজটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউক্রেন, বৃটেন, কানাডা এবং সুইজারল্যান্ডের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। এলএসইজি ডেটা বলছে, এর নিবন্ধিত মালিক রেন্টুর শিপ ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এবং ম্যানেজার ভিলার শিপ ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, যা চীনভিত্তিক বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিবেশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তেল আস্তরণটি প্রায় ৩৯০ বর্গকিলোমিটার বা ১৫০ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে রয়েছে এবং এটি উপকূল থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। তবে পরিবেশবাদী সংস্থা গ্রিনপিস স্যাটেলাইট চিত্রের বিশ্লেষণ করে গত সপ্তাহে এর পরিমাণ প্রায় ৬০০ বর্গকিলোমিটার বলে অনুমান করেছিল। এডিনবার্গের হেরিওয়্যাট ইউনিভার্স

স্যাটেলাইট চিত্র ও শিপিং বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২৭৪ মিটার বা ৯০০ ফুট দীর্ঘ এই ট্যাংকারটি থেকে গত মাসের শেষ পর্যন্তও তেল ছড়িয়ে পড়া অব্যাহত ছিল। যা বড় ধরনের পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে। স্যাটেলাইট চিত্র নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা স্কাইট্রুথ-এর প্রধান নির্বাহী জন আমোস জানান, ঘটনাটি দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলল

জনপ্রিয় সংবাদ

সালমান শাহ হত্যা মামলা: ডনের জামিন আবেদন নাকচ করল আদালত

ওমানে আটকে পড়া তেলের ট্যাংকার থেকে ৪০০ বর্গকিলোমিটারে ছড়াল তেল

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৩৩:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

ওমানের উপকূলে আটকে থাকা একটি তেলের ট্যাংকার থেকে প্রচুর পরিমাণে খনিজ তেল নির্গত হওয়ার বিষয়টি ওমান সরকার নিশ্চিত করেছে। সংরক্ষিত অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থিত ট্যাংকারটিতে বিস্ফোরণের ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বর্তমানে জাহাজটি থেকে ছড়িয়ে পড়া তেল প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে একটি বিশাল আস্তরণ বা স্লিক তৈরি করেছে। পরিবেশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই তেল আস্তরণটি উপকূল থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।

‘ক্যারোলিন বেজেঙ্গি’ নামের এই ট্যাংকারটিতে প্রায় দশ লাখ ব্যারেল রুশ তেল বোঝাই ছিল, যা এশিয়ার গন্তব্যে নেওয়া হচ্ছিল। গত ৮ জুন ইয়েমেনের উপকূলে জাহাজটি প্রথম বিপদের মুখে পড়ে। যদিও দুটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র প্রাথমিক মূল্যায়নে জাহাজটিতে বিস্ফোরণের তথ্য নিশ্চিত করেছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হালানিয়াত দ্বীপপুঞ্জের কাছে তেল নিঃসরণ রোধে তারা কাজ শুরু করেছে। সুলতান হাইথাম বিন তারিক গত বছর রাজকীয় ডিক্রি জারি করে এই এলাকাটিকে ‘প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকা’ ঘোষণা করেছিলেন, যেখানে আরব সাগরের কুঁজযুক্ত তিমি ও সোকোত্রা করমোরেন্টসহ বিভিন্ন বিরল বন্যপ্রাণী রয়েছে।

পরিবেশবাদী সংস্থা গ্রিনপিসের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে তেল ছড়িয়ে পড়ার পরিমাণ প্রায় ৬০০ বর্গকিলোমিটার বলে অনুমান করা হয়েছে। এডিনবার্গের হেরিওয়্যাট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক টনি গুটিয়েরেজ সতর্ক করে বলেছেন, এই মাত্রায় তেল ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত বিমান থেকে কেমিক্যাল বা বুম ব্যবহার করে তা সংগ্রহ করা প্রয়োজন। তিনি জানান, যদি তেল সাগরেই আটকে রাখা না যায়, তবে তা প্রবাল, মাছ ও পাখির জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে এবং ১৯৮৯ সালের এক্সন ভালদেজ দুর্ঘটনার মতো এর অবশিষ্টাংশ কয়েক বছর পর্যন্ত থেকে যেতে পারে।

শিপিং বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২৭৪ মিটার দীর্ঘ এই ট্যাংকারটি থেকে গত মাসের শেষ পর্যন্তও তেল নিঃসরণ অব্যাহত ছিল। স্কাইট্রুথ-এর প্রধান নির্বাহী জন আমোস উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ঘটনাটি দুই মাসের বেশি সময় ধরে চললেও জাহাজটি স্থিতিশীল করতে বা অবশিষ্ট তেল অপসারণে কোনো সরকারি তৎপরতা দেখা যায়নি।

তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে নির্মিত এই জাহাজটি রাশিয়ার ‘ছায়া বহর’ বা শ্যাডো ফ্লিটের অংশ, যা পশ্চিমা বিমা ছাড়াই মালিকানা গোপন করে চলাচল করে। জাহাজটি ক্যামেরুনের পতাকাবাহী হিসেবে নথিভুক্ত থাকলেও জুনে তাদের রেজিস্ট্রি থেকে বাদ দেওয়া হয়। এছাড়া জাহাজটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউক্রেন, বৃটেন, কানাডা এবং সুইজারল্যান্ডের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। এলএসইজি ডেটা বলছে, এর নিবন্ধিত মালিক রেন্টুর শিপ ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এবং ম্যানেজার ভিলার শিপ ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, যা চীনভিত্তিক বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরিবেশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তেল আস্তরণটি প্রায় ৩৯০ বর্গকিলোমিটার বা ১৫০ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে রয়েছে এবং এটি উপকূল থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। তবে পরিবেশবাদী সংস্থা গ্রিনপিস স্যাটেলাইট চিত্রের বিশ্লেষণ করে গত সপ্তাহে এর পরিমাণ প্রায় ৬০০ বর্গকিলোমিটার বলে অনুমান করেছিল। এডিনবার্গের হেরিওয়্যাট ইউনিভার্স

স্যাটেলাইট চিত্র ও শিপিং বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২৭৪ মিটার বা ৯০০ ফুট দীর্ঘ এই ট্যাংকারটি থেকে গত মাসের শেষ পর্যন্তও তেল ছড়িয়ে পড়া অব্যাহত ছিল। যা বড় ধরনের পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে। স্যাটেলাইট চিত্র নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা স্কাইট্রুথ-এর প্রধান নির্বাহী জন আমোস জানান, ঘটনাটি দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলল