লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে আল-কায়েদার তৎপরতা নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ ও করণীয়

বাংলাদেশে আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট বা একিউআইএস ছোট ছোট সাংগঠনিক ইউনিট বা সক্রিয় সেল গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বলে জাতিসংঘের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে। জাতিসংঘের আল-কায়েদা ও আইএস-সংক্রান্ত স্যাংশনস মনিটরিং ব্যবস্থার ২০২৩ সালের ৩২তম প্রতিবেদনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মূল্যায়নের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে যে, সংগঠনটি বাংলাদেশ, ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর এবং মিয়ানমারে তাদের কর্মকাণ্ড বিস্তারের জন্য একটি আঞ্চলিক কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সতর্কতাকে আতঙ্ক হিসেবে না দেখে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নেওয়া জরুরি। আধুনিক সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো এখন আর বড় প্রশিক্ষণ ক্যাম্প বা বিশাল জনবলের ওপর নির্ভর করে না। পরিবর্তে, তারা ছোট সেল, সীমিত যোগাযোগ, অনলাইন প্রচারণা এবং গোপন অর্থায়নের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। একিউআইএস ২০১৪ সালে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই দক্ষিণ এশিয়াকে তাদের আগ্রহের ক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করেছিল এবং অতীতে বাংলাদেশে ব্লগার ও অধিকারকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তাদের সংশ্লিষ্টতার কথা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদনেও এসেছে।

তবে অতীতে হামলার ইতিহাস থাকলেও, বর্তমানে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক বিদ্যমান—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ গত এক দশকে জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় যে সক্ষমতা দেখিয়েছে, তা অব্যাহত রাখা এখন বড় পরীক্ষা। এ ক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় বাড়ানো, সাইবার নজরদারি জোরদার করা, আর্থিক লেনদেনের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ রাখা এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময় করা অপরিহার্য। বিশেষ করে আফগানিস্তানের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা জরুরি, কারণ ২০২১ সালের জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী একিউআইএস আফগানিস্তানে তালেবানের ছত্রছায়ায় কার্যক্রম চালাত এবং সেখানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকও ছিল।

জঙ্গিবাদ দমনের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত আতঙ্ক ছড়িয়ে সামাজিক আস্থা নষ্ট করা বা ধর্মীয় পরিচয়কে এর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা বিপজ্জনক হতে পারে। রাষ্ট্রের লড়াই হওয়া উচিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বক্তব্যের মতোই, উগ্রবাদের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে যেন স্বাধীনতা বা ভিন্নমতের পরিসর সংকুচিত না হয়। বরং সুশাসন, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর জন্য জায়গা সংকুচিত করা সম্ভব। ভারতে ২০২৫ সালের নভেম্বরে দিল্লির লাল কেল্লা এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্তকারীরা আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট একটি নেটওয়ার্কের যোগসূত্রের অভিযোগ তুলেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ ওই মামলায় ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের কথা জানায়। এ ধরনের ঘটনা দেখিয়ে দেয়, ছোট ও বিচ্ছিন্ন নেটওয়ার্কও কীভাবে বড় ধরনের হামলার সক্ষমতা তৈরি করতে পারে। তাই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে সঠিক নীতি হলো আতঙ্ক নয়, বরং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্যভিত্তিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

জনপ্রিয় সংবাদ

গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাংলাদেশে আল-কায়েদার তৎপরতা নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ ও করণীয়

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:২১:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট বা একিউআইএস ছোট ছোট সাংগঠনিক ইউনিট বা সক্রিয় সেল গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বলে জাতিসংঘের সাম্প্রতিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে। জাতিসংঘের আল-কায়েদা ও আইএস-সংক্রান্ত স্যাংশনস মনিটরিং ব্যবস্থার ২০২৩ সালের ৩২তম প্রতিবেদনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মূল্যায়নের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে যে, সংগঠনটি বাংলাদেশ, ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর এবং মিয়ানমারে তাদের কর্মকাণ্ড বিস্তারের জন্য একটি আঞ্চলিক কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সতর্কতাকে আতঙ্ক হিসেবে না দেখে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নেওয়া জরুরি। আধুনিক সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো এখন আর বড় প্রশিক্ষণ ক্যাম্প বা বিশাল জনবলের ওপর নির্ভর করে না। পরিবর্তে, তারা ছোট সেল, সীমিত যোগাযোগ, অনলাইন প্রচারণা এবং গোপন অর্থায়নের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। একিউআইএস ২০১৪ সালে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই দক্ষিণ এশিয়াকে তাদের আগ্রহের ক্ষেত্র হিসেবে ঘোষণা করেছিল এবং অতীতে বাংলাদেশে ব্লগার ও অধিকারকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তাদের সংশ্লিষ্টতার কথা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদনেও এসেছে।

তবে অতীতে হামলার ইতিহাস থাকলেও, বর্তমানে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক বিদ্যমান—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ গত এক দশকে জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় যে সক্ষমতা দেখিয়েছে, তা অব্যাহত রাখা এখন বড় পরীক্ষা। এ ক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় বাড়ানো, সাইবার নজরদারি জোরদার করা, আর্থিক লেনদেনের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ রাখা এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময় করা অপরিহার্য। বিশেষ করে আফগানিস্তানের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা জরুরি, কারণ ২০২১ সালের জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী একিউআইএস আফগানিস্তানে তালেবানের ছত্রছায়ায় কার্যক্রম চালাত এবং সেখানে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকও ছিল।

জঙ্গিবাদ দমনের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত আতঙ্ক ছড়িয়ে সামাজিক আস্থা নষ্ট করা বা ধর্মীয় পরিচয়কে এর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা বিপজ্জনক হতে পারে। রাষ্ট্রের লড়াই হওয়া উচিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বক্তব্যের মতোই, উগ্রবাদের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে যেন স্বাধীনতা বা ভিন্নমতের পরিসর সংকুচিত না হয়। বরং সুশাসন, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর জন্য জায়গা সংকুচিত করা সম্ভব। ভারতে ২০২৫ সালের নভেম্বরে দিল্লির লাল কেল্লা এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্তকারীরা আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট একটি নেটওয়ার্কের যোগসূত্রের অভিযোগ তুলেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ ওই মামলায় ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের কথা জানায়। এ ধরনের ঘটনা দেখিয়ে দেয়, ছোট ও বিচ্ছিন্ন নেটওয়ার্কও কীভাবে বড় ধরনের হামলার সক্ষমতা তৈরি করতে পারে। তাই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে সঠিক নীতি হলো আতঙ্ক নয়, বরং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্যভিত্তিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।