লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অব্যবহৃত জলাশয় সংস্কার করে তরুণদের কর্মসংস্থান করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

দেশের পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত জলাশয়গুলো সংস্কার করে তরুণদের মাঝে বরাদ্দ দেওয়ার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, নদী, বিল, হাওড়-বাঁওড় ও পুকুরসমৃদ্ধ বাংলাদেশের এই বিশাল জলাশয়কে কাজে লাগিয়ে মাছ চাষের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে মৎস্য খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধিতে এই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ সময় দেশীয় মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্য সংরক্ষণ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় যারা অবদান রাখছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

অব্যবহৃত জলাশয়গুলোর ব্যবহার নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, দেশের অনেক পুকুর ও জলাশয় বর্তমানে কোনো কাজে না লেগে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এসব জলাশয় সংস্কার করে তরুণদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া গেলে কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ তৈরি হবে। জলাশয়গুলোকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের কীভাবে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা যায়, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান。

রপ্তানি আয়ের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রায় ৫২টি দেশে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা মূল্যের মাছ ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। দেশের অর্থনীতিতে এই খাতের অবদান আরও বাড়াতে মৎস্য খাতকে আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী কটিয়াদীর একটি সরকারি কার্প হ্যাচারিতে পোনা মাছ অবমুক্ত করেন এবং মাছ ধরা পরিদর্শন করেন। উদ্বোধনী পর্ব শেষে তিনি আচমিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশনের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে সারা দেশের সফল মৎস্য চাষি এবং উৎপাদন ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মোট ১৪ জন প্রতিনিধির হাতে স্বর্ণ পদক ও ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিনুর রশিদের সভাপতিত্বে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দিন এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সীতাকুণ্ডের গ্রিন শিপইয়ার্ডে তকমার আড়ালে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল

অব্যবহৃত জলাশয় সংস্কার করে তরুণদের কর্মসংস্থান করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:১৮:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

দেশের পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত জলাশয়গুলো সংস্কার করে তরুণদের মাঝে বরাদ্দ দেওয়ার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, নদী, বিল, হাওড়-বাঁওড় ও পুকুরসমৃদ্ধ বাংলাদেশের এই বিশাল জলাশয়কে কাজে লাগিয়ে মাছ চাষের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে মৎস্য খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধিতে এই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ সময় দেশীয় মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্য সংরক্ষণ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় যারা অবদান রাখছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

অব্যবহৃত জলাশয়গুলোর ব্যবহার নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, দেশের অনেক পুকুর ও জলাশয় বর্তমানে কোনো কাজে না লেগে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এসব জলাশয় সংস্কার করে তরুণদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া গেলে কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ তৈরি হবে। জলাশয়গুলোকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের কীভাবে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা যায়, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান。

রপ্তানি আয়ের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রায় ৫২টি দেশে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা মূল্যের মাছ ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। দেশের অর্থনীতিতে এই খাতের অবদান আরও বাড়াতে মৎস্য খাতকে আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী কটিয়াদীর একটি সরকারি কার্প হ্যাচারিতে পোনা মাছ অবমুক্ত করেন এবং মাছ ধরা পরিদর্শন করেন। উদ্বোধনী পর্ব শেষে তিনি আচমিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশনের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে সারা দেশের সফল মৎস্য চাষি এবং উৎপাদন ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মোট ১৪ জন প্রতিনিধির হাতে স্বর্ণ পদক ও ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিনুর রশিদের সভাপতিত্বে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দিন এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন।